শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, ০৬:০৮:০৮

মুলার বাজারে ধ্স কেজি মাত্র ২ টাকা

মুলার বাজারে ধ্স কেজি মাত্র ২ টাকা

রাজশাহী: এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ৩০ টাকা কেজি দরের মুলা মাত্র ২ টাকা কেজিতে ঠেকেছে। অন্যান্য সবজির দাম কমলেও মুলার বাজারে ধ্স নামায় চাষিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। গত রোববার (১২ নভেম্বর) যে মুলা ১২শ’ টাকা মণে বিক্রি হয়েছে সে মুলা রোববার (১৯ নভেম্বর) বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮০ টাকা মণ দরে।
 
বাজারে শীতকালিন সবজিতে ভরে উঠেছে। প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কম-বেশি কমেছে। কিন্তু মুলার বাজার একেবারে পড়ে গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই মুলা চাষিদের হাসিমুখ মলিন হয়ে উঠেছে। মাত্র সাতদিনেই চাষিদের রঙ্গিন স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হতে চলেছে। পাইকারি বাজারে মুলা বিক্রি করে শ্রমিক খরচও উঠছে না।

রাজশাহীর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আগাম মুলার চাষ করেন কৃষকেরা। দামও ভাল ছিল। অনেক চাষিই বলেছিল মুলার এমন আকাশছোঁয়া দাম আগে কখনো দেখেনি। কিন্তু সাত দিনেই এই আকাশ ছোঁয়া দাম মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

এ বছর সারা দেশের মত রাজশাহীতেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। সবজির নিচু ক্ষেতগুলো তলিয়ে যায়। স্থানীয়ভাবেই দেখা দেয় সবজির সংকট। চাষিরা জমি থেকে পানি নামার সাথে সাথে চাষের উপযুক্ত হলেই কম দিনের সবজি মুলার আবাদ করেছেন।

মুলার কল্পনাতীত দাম পেয়ে কৃষকরা বেজায় খুশি হয়েছিল। মুলা এখন আর ফেলনা নয় এমন কথাও বলেছিল। কৃষকরা মুলার ভাল দাম পেয়ে বেজায় খুশিতে আটখানা হচ্ছিল। কিন্তু বিধিবাম আবারো প্রতিবছরের মত এবারে মুলার বাজারে ধ্স নেমেছ।

রোববার (১৯ নভেম্বর) সকালে রাজশাহীর মোহনপুরের বিদিরপুর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাটভর্তি মুলা। এছাড়াও আছে ফুলকপি ও বেগুন। এখনো ফুলকপির বাজার হাজার টাকা মণ থাকলেও মুলার মণ মাত্র ৮০ টাকা। তবে পরে পাইকাররা কিছু মুলা ২শ’ টাকা মণ দরে কিনেছেন।
 
পবার তেঘর গ্রামের কৃষক আফাজ উদ্দিন বলেন আমার বেশি জমি নেই। মাত্র পাঁচ শতাংশ জমি থেকে মুলা বিক্রি করেছি ১২ হাজার টাকার। এরপর আবারো ওই জমিতে মুলার বীজ বোপন করেছিলাম। শনিবার জমিতে পাইকাররা প্রতিমণ একশো বলে। এতে আমার গা জ্বলে যায়। শ্রমিক খরচ করে জমি থেকে মুলা তুলে বাজারে নিয়ে এসেছি। কিন্তু আজ এই বাজারে মুলা ৮০-১০০ টাকা মণ। গতকাল গা জ্বলে ছিল আজ মাথা ঘুরে যাচ্ছে। বর্তমান বাজারে মুলা চাষিরা লোকসানের মুখে পড়লো।  

আজিবর রহমান বলেন, এই হাটের মুলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। হঠাৎ করে মুলার বাজার কমে গেছে। যা গত সপ্তাহেই দেড় থেকে দুই হাজার মণ মুলা কেনাবেচা হয়েছে। আজ সে মুলা ৮০-২০০ দরে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫শ’ হেক্টর জমিতে মুলার আবাদ হয়েছে। রাজশাহী কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, এখনো মুলা আবাদের সঠিক পরিসংখ্যান নিরুপন হয়নি। তবে দাম ভাল থাকায় অনেক আগে থেকে চাষিরা মুলার আবাদ করেছেন। গতবারের চেয়ে রাজশাহী জেলায় সব মিলিয়ে প্রায় দ্বিগুন মুলার আবাদ হবে।

কিন্তু হঠাৎ করে মুলার বাজার ধসের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুলার জমিতে যারা আলু চাষ করবেন তারা চাহিদার তুলনায় বেশি মুলা বাজারজাত করছেন সে কারণেও মুলার বাজার কমতে পারে। এছাড়াও কৃষি বিভাগ কৃষি ফসলের উৎপাদন নিশ্চিত করে। আর বাজার মনিটরিং করেন অন্য বিভাগ।

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?