বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ০৪:০৩:১৮

বরগুনায় স্বস্তিতে তরমুজ চাষিরা

বরগুনায় স্বস্তিতে তরমুজ চাষিরা

ঢাকা: বরগুনার ছয়টি উপজেলায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি তরমুজ চাষিরা। মওসুমের শুরুতে কৃষকেরা দামও পাচ্ছেন ভালো। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো লাভ করার আশা করছেন তারা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় তরমুজের ফলন বেশ ভালোই হয়েছে। আমতলী উপজেলায় তরমুজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৫০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে এক হাজার ৫০০ হেক্টরে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় দুই হাজার হেক্টর কম। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত বছর কৃষকেরা ভালো ফলন না পাওয়ায় এ বছর তারা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে গত বছরের তুলনায় কম জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। বেলে-দো-আঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় আমতলীতে রসালো তরমুজ চাষ ভালো হয়। ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি থেকে বৈশাখের মাঝামাঝি পর্যন্ত তরমুজের মওসুম। এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তরমুজচাষি ও শ্রমিকেরা। কৃষকেরা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুসারে পলি ব্যাগে চারা উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন ভরা মওসুমে আমতলীর তরমুজে বাজার ছেয়ে গেছে।

ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তরমুজচাষি, আড়তদার ও শ্রমিকেরা। মওসুমের শুরুতে দামটাও পাচ্ছেন বেশ। প্রকারভেদে জাম্বু জাগুয়ার, বিগ ফ্যামিলি, সুইট ড্রাগন, সুগার বেবী ও ব্লাক ডায়মন্ড নামে পাঁচ ধরনের তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এর মধ্যে কালচে রঙের জাম্বু জাগুয়ার তরমুজ স্বাদে অতুলনীয়। বরগুনার তরমুজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বেলে-দো-আঁশ মাটি তরমুজ উৎপাদনের জন্য আদর্শ। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আমতলীতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। আমতলীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নে। কৃষি বিভাগ এবার প্রতি হেক্টরে ৪০-৪৫ টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তরমুজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। আমতলী বাজারে প্রকারভেদে একটি তরমুজ ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গাজীপুর গ্রামের লোকমান দুয়ারী জানান, গত বছর তরমুজ চাষ করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছেন। এ বছর ঝুঁকি নিয়ে চার একর জমিতে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় আশা করছেন তিন লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম বদরুল আলম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত বছর তরমুজচাষিদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। এ কারণে এ বছর কৃষকেরা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু তারপরও বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকেরা খুশি। তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করি।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?