শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮, ০৬:৩৯:৩৬

টাঙ্গাইলে বিষমুক্ত আনারস চাষ, ঐতিহ্য ফেরাতে চান কৃষকেরা

টাঙ্গাইলে বিষমুক্ত আনারস চাষ, ঐতিহ্য ফেরাতে চান কৃষকেরা

কৃষি ডেস্ক: বর্তমান সময়ে যেকোনও ফসল, ফলমূল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের ব্যবহার বেড়ে গেছে। উৎপাদন বাড়াতে ও পণ্যের বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্ধনে নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন কৃষকরা। আর তাতে করে উৎপাদিক পণ্যের মূল স্বাদটাই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শারীরিকভাবেও এসব ফলমূল মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এরইমধ্যে ব্যতিক্রমীয় উদ্যোগ দেখা গেছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায়। যেখানে কৃষকেরা সম্পূর্ণ ফরমালিনমুক্ত পদ্ধতিতে আনারস চাষে মনোযোগী হয়ে উঠছেন।

মধুপুরকে বলা হয়ে থেকে ‘আনারসের রাজধানী’। যেখানে জেলার সিংহভাগ আনারস চাষ হয়। হাল আমলে ফরমালিন ব্যবহার করায় রসে ভরা অতুলনীয় এ ফলটি স্বাদ ও গন্ধে অতীতের ঐতিহ্য হারাচ্ছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের কৃষকেরা এবার সঠিক পদ্ধতিতে আনারস চাষের মধ্য দিয়ে অতীতের ঐতিহ্যও ফেরাতে চান।

সাধারণত, বিষাক্ত রাসায়নিক অতিরিক্ত প্রয়োগের মাধ্যমে আনারস আকারে বড় এবং আকর্ষনীয় রঙ তৈরি হলেও নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল এর স্বাদ-গন্ধ ও গুণাগুণ। তবে এখন পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আনারসের পাশাপাশি বিষমুক্ত আনারসও চাষ হচ্ছে মধুপুরে।

জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে মধুপুরের কয়েকজন চাষি রাসায়নিকমুক্ত আনারস চাষ শুরু করেন। এটি করতে গিয়ে শুরুতেই মোটা অঙ্কের টাকা ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। এতে প্রথম দিকে হতাশ হলেও ভেঙে পড়েননি কৃষকেরা। একসময় সাফল্য আসতে শুরু করে। বিষমুক্ত আনারসের চাহিদাও বাড়তে থাকে।

সরেজমিন ঘুরে আনারস চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের প্রায় সবাই রাসায়নিকমুক্ত আনারস আবাদ করতে চান। কিন্তু ক্ষতির আশঙ্কায় তারা সেটা পারছেন না। ভোক্তাদেরকে রাসায়নিকমুক্ত আনারস কিনতে উদ্ধুদ্ধ করতে পারলে, তাদেরকে ভাল-মন্দ আনারস চেনানোর ব্যবস্থা করা হলে রাসায়নিকমুক্ত আনারস আবাদে কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে বলেও মনে করেন তারা।

মধুপুরের আনারস চাষি হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘বিষমুক্ত আনারস চাষ হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সেগুলো আমরা ক্রেতাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছুতে পারছি না। ১০-২০টি আনারস কিনতে তো আর কেউ মধুপুরে আসে না। সংশ্লিষ্টা এ বিষয়ে একটু নজর দিলে কৃষকের উপকার হয়। আবাদেও উৎসাহ বাড়ে।’

উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, ‘রাসায়নিক দেয়া আনারস দেখতে বড় এবং সম্পূর্ণ হলুদ রঙ হয়ে পাকে। আর রাসায়নিকমুক্ত আনারস কখনো সম্পূর্ণ হলুদ রঙ হয়ে পাকে না। নিচ থেকে পাকে আর উপরের অংশে কাঁচা থাকে। মধুপুর থেকে বিষমুক্ত আনারস রফতানির চিন্তা-ভাবনা চলছে।’

সর্বোপরি কৃষকরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে মধুপুরের আনারসের অতীত ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে। শালবন খ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলে ‘লালমাটির ফসল’ আনারসের অতীত ঐহিত্য ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের সুনজরদারির দাবি জানান কৃষকেরা।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?