বুধবার, ০৩ জুন ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০, ০১:০৯:১২

বরিশালে বোরো ধান কাটা নিয়ে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা

বরিশালে বোরো ধান কাটা নিয়ে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা

বরিশাল: কয়েকদিন পর শুরু হবে বোরো ধান কাটা। আগাম জাতের ধান ইতি মধ্যে ক্ষেতে পাকতে শুর করেছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবের কারণে এ অঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে এমনটি আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক ঘরে ধান তোলা নিয়ে একরকম দুশ্চিন্তাই দিশেহারা হয়ে পরেছেন।

আগৈলঝাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের চলতি মৌসুমে ৯হাজার ৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে তাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৪৮ হাজার ১শ ৪৮ মেট্রিক টন চাল। ক্ষেতে চলতি বছর ধানের ভাল ফলন হয়েছে। ভাল ফলন হলেও করোনা ভাইরাসের কারণে গোপলগঞ্জ, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরনখোলা, মোড়লগঞ্জ জেলা-উপজেলার ধান কাটা শ্রমিকরা আসবে না বলে ইতি মধ্যে জানিয়ে দেয় কৃষকদের। যার ফলে আগৈলঝাড়ার ধান চাষ করা কৃষকরা পড়েছে মহাবিপদে।

শুরু থেকে এ বছর আবহাওয়া পরিবেশ অনুকুলে থাকায় ক্ষেতে ধান বেশ ভাল ফলন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা মনে করছেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার রোগ বালাই না থাকায় ধানের অনেক ভাল ফলন হবে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ইতি মধ্যে আগাম জাতের ধান পাক ধরেছে। হয়তো আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে এসব ধান কাটা শুরু হবে। কিন্তু সারা দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে একদিকে যেমন একের পর এক জেলাগুলো লকডাউন করে দেয়া হচ্ছে। অন্য দিকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে জনসমাগম এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হচ্ছে জনসাধারণকে।

কৃষকরা বলছেন, উপজেলা জুড়ে ধান কাটা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক এসে ধান কেটে ঘরে তুলে দেন। কিন্তু এবার কি হবে! ইতি মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এই উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে কিভাবে শ্রমিকরা আসবেন। এনিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা সমালোচনা। যদি শ্রমিকরা লকডাউনের মধ্যে সময় মতো আসতে না পারেন তা হলে কিভাবে ধান ঘরে উঠবে এমন দুশ্চিস্তাই কৃষদের ঘুম হারিয়ে যাচ্ছে! এমন ভাবনার মধ্যে পড়ে কৃষকদের দূর্বল করে ফেলছে ।

উপজেলার গৈলা গ্রামের খলিলুর রহমান, কালুপাড়া গ্রামের পশিম সন্যামত, মধ্য শিহিপাশা গ্রামের জালাল সরদার, কোদালধোয়া গ্রামের নবীন হালদারসহ কৃষকরা বলেন, আমন আবাদে ধান পাকার পরেও ধান কাটতে হাতে কিছু সময় পাওয়া যায়। কিন্তু ইরি-বোরো মৌসুমে নানান রকম প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে। ফলে ধান পাকার সাথে সাথেই কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্থ হয়ে পরতে হয়। কয়েক বছর ধরে এমনিতে ধানের আবাদে নানা কারনে লোকসান গুনতে হয়েছে। এই মৌসুমেও যদি শ্রমিক সংকটে সময় মতো ধান ঘরে তোলা না যায় তাহলে ব্যাপক লোকসানের কবলে পরতে হবে। তাই ধান ঘরে তুলতে কৃষি শ্রমিকদের অবাধ চলাচল ও জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষকরা।

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন বলেন, যে এলাকা থেকে ধান কাটা শ্রমিক আসবেন ওই এলাকার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যায়নপত্র নিয়ে আসলে পথে প্রশাসনসহ কেহ বাঁধা দিবে না। তারা যে বাড়িতে আসবে তাদেরকে সেখানে নিরাপদে থাকার জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?