শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭, ০৫:৫৮:২৫

আর কেউ যেন ইতিহাস বিকৃতি করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

আর কেউ যেন ইতিহাস বিকৃতি করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: আর কেউ যেন ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ না পায় সেজন্য বাংলাদেশের মানুষকে জাগ্রত হতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে’র স্বীকৃতি পাওয়ায়  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক কমিটির ব্যানারে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইতিহাসকে কখনও দমিয়ে রাখা যায় না। ইতিহাস তার জায়গা খুঁজে নেয়। যেমনটি ৭ মার্চের ইতিহাস আজ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি রচিত হয়েছিল ৭ই মার্চ। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শুধু ওই ভাষণের স্বীকৃতি নয় এটি বাংলাদেশের স্বীকৃতি। বিশ্ব দরবারে শুধু এই ভাষণ নয় বাংলাদেশ স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে যে উন্নতি হয় সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আজ আমরা সারাবিশ্বে গর্বিত জাতি।

বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সারাজীবন কারাগারে কাটিয়েছেন। নানান ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে এসেছে এই স্বাধীনতা। আমি ধন্যবাদ জানাই ইউনেস্কো ও তার মহাপরিচালক এবং যে সকল দেশ এই ভাষণকে স্বীকৃতি দিতে ভোট দিয়েছে তাদের। এখান দাঁড়িয়ে সেই দিনটির কথা মনে পরে আমার। যেদিন তিনি সেই ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি একটি জাতির জাতিসত্বার চেতনা জাগ্রত করেছিলেন। সেদিনের সেই ভাষণের কথা স্মরণ হলে, মায়ের কথা বারবার মনে পড়ে। যিনি প্রতিটি সংগ্রামে বাবাকে অনুসরণ করেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু যখন ভাষণ দিতে আসবেন তার কিছুক্ষণ আগে মা বাবাকে শোবার ঘরে নিয়ে বললেন, তুমি ১০/১৫ মিনিট বিশ্রাম নাও। কারণ অনেকে অনেক পরামর্শ দিচ্ছিলেন। অনেক লিখিত বক্তব্য বাবার হাতে দেওয়া হয়েছে। মা যখন বাবাকে নিয়ে যায় আমি তার মাথার পাশে শুয়ে ছিলাম। মা বাবাকে বললেন, অনেক অনেক কথা বলবে। কিন্তু তুমি সেই কথাই বলবে, তোমার মনে যে কথা আসবে। কারণে তুমি জানো কি বলতে হবে। বাংলার মানুষের ভাগ্য তোমার হাতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বসেরা ভাষণগুলো সবই লিখিত। কিন্তু এই একটি ভাষণ যা লিখিত ছিল না। কোনো নোট ছিল না। আমাদের ইতিহাস, স্বাধীকার আন্দোলন, যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া, এমনকি কিভাবে যুদ্ধ করতে হবে সবই ছিল সে ভাষণে। এমনকি তিনি বলে দিয়েছিলেন, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পাড়ি তোমরা ঘরে ঘরে গড়ে দুর্গ তুলবে। তিনি যেসব নির্দেশনা দিয়েছিলেন বাঙালি জাতি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর হাতে পেয়েছিলেন একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ সাজাতে। সেই ধ্বংস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশ গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ৯ মাসে সংবিধান দিয়েছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য যখন তিনি আমাদের উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মম ভাব হত্যা করা হয়েছিল। এরপর তার ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পৃথিবীর কোনো ভাষণ এতদিন ধরে বাজানো হয় এমনটা দেখা যায় না। জাতির পিতাকে হত্যা করে যারা তার  ভাষণ নিষিদ্ধ করলো তারা কারা? যারা ৭৫’র পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, যারা এই দেশে জন্ম নেয়নি, এই মাটির প্রতি যাদের দরদ ছিল না তারাই ওই ভাষণ মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না। তারাও মুছে ফেলতে পারে নাই । আজ ইউনেস্কো এই ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছ তাদের কি এখন লজ্জা হয় না। জানি না তাদের লজ্জা আছে কিনা। তারা তো পাকিস্তানের প্রেতাত্মা।

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?