মঙ্গলবার, ১৯ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ০৬ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৮:১৩:০৯

সন্ধান পাওয়ার অর্ধযুগ পরেও উত্তোলনের উদ্যোগ নেই পাঁচবিবির ভূগর্ভে চুনাপাথর ও সাদামাটির

 সন্ধান পাওয়ার অর্ধযুগ পরেও উত্তোলনের উদ্যোগ নেই পাঁচবিবির ভূগর্ভে চুনাপাথর ও সাদামাটির

তোহা আলম প্রিন্স, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : দেশকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে খনিজ সম্পদ উন্নয়নে ভূ-বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের আওতায় পাঁচবিবির নির্ভৃত পল্লীতে ২০১১ সাল থেকে ৩ বছর মেয়াদী এক জরিপ করে জ্বালানী ও খনি অধিদপ্তর। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দেশের ভূ-তাত্বিকগন কর্তৃক এ জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জরিপে এলাকায় উন্নত মানের চুনাপাথর ও সাদামাটির বিশাল ভান্ডারের সন্ধান পাওয়ার পর অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও তা উত্তোলনের উদ্যোগে নেই সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের।

খনিজ সম্পদের সম্ভাব্যতা যাচায়ে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী আগাইর গ্রামে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এক ভূ-তাত্বিক জরিপ চালানো হয়। জরিপ কালে খননকৃত এলাকায় চুনাপাথর ও সাদা মাটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে চুড়ান্ত অনুসন্ধানের জন্য গ্রামের ৪০ শতক জমি লিজ নিয়ে ব্যাপক ভাবে খনন কাজ চালানো হয়। এ জরিপে ৯ জন প্রকৌশলী সহ ২৯ জন সদস্যের এক ভূ-তাত্বিকদল অংশগ্রহণ করেন। অনুসন্ধানকারী বিজ্ঞানিদের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এলাকায় ১ হাজার ৪৯৪ ফুট থেকে ১ হাজার ৫৩০ ফুট পর্যন্ত ৩৬ ফুট পুরু চুনাপাথরের স্তর রয়েছে। এরপর ১ হাজার ৭০০ ফুট পর্যন্ত রয়েছে শেল, ক্লে ও স্যান্ডস্টোনের স্তর। ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৬০ ফিট পর্যন্ত প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে সাদামাটি বা হোয়াইট ক্লে। যা সিরামিক দ্রব্য ও টাইলস তৈরীর মূল উপাদান। এরপর ১ হাজার ৭৯০ ফুট পর্যন্ত রয়েছে ওয়েদার জোন।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বিভিন্ন খনিজ নমুনা সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য ঢাকায় সংশ্লিষ্ঠ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। বিশ্লেষণে খনিজ পদার্থগুলো উন্নত মানের চুনাপাথর বলে সে সময় আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেন ভূ-তাত্বিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুনিরা আক্তার চৌধুরী। তার ভাষ্যমতে জরিপকৃত এলাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার দৈঘ্য ও ৮ কিলোমিটার প্রস্তের বেসিনে এ পাথর পয়েছে। বেসিনের কেন্দ্রের পুরুত্ব বেশি। তাদের মতে এ পরিমাণ মজুত খনিজ পদার্থ উত্তোলন করলে তা দেশের সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামালের শতভাগ চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।

এ দিকে সময় উত্তোলিত খনিজ পদার্থগুলো উন্নত মানের ও বিশালতার কারণে এলাকাবাসীর মনে আনন্দের জোয়ার বয়ে গেলেও সময়ের ব্যবধানে তা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর আশংখা ৩ যুগ আগে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কলয়া ও চুনাপাথরের বিশাল ভান্ডারের মত এটিও ব্যয় সাপেক্ষ বলে পরিত্যাক্ত হতে পারে। অথচ ঐ খনি প্রকল্প চালুর পক্রিয়া হিসেবে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে জয়পুরহাট শহরের পশ্চিমে বিশাল এলাকাজুড়ে আবাসিক ও অফিস ভবন তৈরী করা হয়। যা বর্তমানে মহিলা ক্যাডেট কলেজ হিসেবে পরিচালিত হ”েছ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ঠ অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক ড. নেহাল উদ্দিনের সাথে কথা বললে অনুরুপ আশংখার কথাই প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, পাঁচবিবির আগাইড়ের খনিজ সম্পদের প্রসপ্রেক্ট খুব আশানুরুপ নয়। এর গভিরতা বেশি হওয়ার কারণে প্রকল্পটি ব্যয় বহুল হবে এ কারণে এ ব্যপারে ধীরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এলাকায় আবিষ্কৃত সম্ভাবনাময় খনিটি হতে প্রাপ্ত কাঁচামাল দেশের সিমেন্ট ও সিরামিক পণ্যের কাঁচামালের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া খনি এলাকার মানুষ ও জনপদে কর্মচাঞ্জল্য ও জীবন মানের উন্নয়ন হবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদী হয়েছিল। এলাকার প্রতাপ চন্দ্র রায় ও কমল নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এলাকায় খনি করলে তাদের অনেক জমির দখল হারাতে হবে। তার পরেও খনিটি চালু হোক সেই প্রত্যাশা করেন তারা।

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?