শনিবার, ১৮ আগস্ট ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ১১:২২:০৩

পরমাণু বিদ্যুৎ, এলএনজি টার্মিনাল কলঙ্ক: আনু মুহাম্মদ

পরমাণু বিদ্যুৎ, এলএনজি টার্মিনাল কলঙ্ক: আনু মুহাম্মদ

ঢাকা: বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি পাবনার রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস সংকট মোকাবেলায় তরল গ্যাস বা এলএনজি আমদানিরও কড়া সমালোচনা করেছে তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ, বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

কমিটির নেতাদের দাবি, এখন এগুলো সরকার সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও একদিন এসব প্রকল্প কলঙ্ক বলে বিবেচিত হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন, জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ।

বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ, রাষ্ট্রায়াত্ত্ব বিদ্যুৎ খাত রক্ষা, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কয়লাখনি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে জাতীয় কমিটির নেতাদের নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলেল দাবিতে এই সমাবেশ করা হয়।

এ সময় অভিযোগ করা হয়, সরকার লুটপাট চালাতে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে জনগণের প্রতি আহ্বানও জানানো হয় সমাবেশে।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় বর্তমান সরকার গ্যাসের পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বড় বড় বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। আবার বাংলাদেশে গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে আসার প্রেক্ষিতে বিদেশ থেকে তরল গ্যাস বা এলএনজি আমদানির উদ্যোগও চলছে। এ জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি টার্মিনালও করা হচ্ছে। এই গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানেও সরবরাহ করা হবে।

আর সরকার কয়লাভিত্তিক যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে, সেগুলোর মধ্যে সুন্দরবনের অদূরে রামপালে ভারতের অংশীদারিত্বে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে জাতীয় কমিটি। এই কেন্দ্র নির্মাণ হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে দাবি করে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।

তবে সম্প্রতি তারা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেরও বিরোধিতা করছে। আনু মুহাম্মদের দাবি, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প মহাবিপদের ঝুঁকি তৈরি করবে।

জাতীয় কমিটির নেতা বলেন, ‘রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনালসহ এই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সরকার বিপুল সাফল্য হিসেবে দেখাচ্ছে। কিন্তু এই প্রকল্পগুলোই একদিন কলঙ্ক হিসেবে ইতিহাসে লেখা হয়ে থাকবে। কারণ এই সব প্রকল্প হচ্ছে দুর্নীতির এক একটি প্রতীক, অনিয়মের প্রতীক, নিপীড়নের প্রতীক।’

‘এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি সত্যিই উন্নয়নের চালিকাশক্তি হতো তাহলে রামপাল বিষয়ে কোনো ধরনের কথা বলা যাবে না- এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো না। সরকার খুব আনন্দের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস নিয়ে জনগণকে কথা বলতে দিতে পারত।’

এলএনজি আমদানি ও বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সমালোচনা করেন জাতীয় কমিটির নেতা। তার দাবি, গ্যাসসম্পদ অনুসন্ধানে জাতীয় সক্ষমতার পথে নানা বিঘ্ন সৃষ্টি করে সরকার ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি ও এলপিজির ওপর নির্ভরতা সৃষ্টি করছে। রাষ্ট্রায়াত্ত্ব বিদ্যুৎখাতের অগ্রগতি না ঘটিয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

সমাবেশ থেকে রামপাল প্রকল্প বাতিলের দাবিতে খুলনাসহ সুন্দরবন অঞ্চলের জেলাগুলোতে আগামী ৯ মার্চ কনভেনশন করার ঘোষণা দেয়া হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বামপন্থী নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, মোশরেফা মিশু, আজিজুর রহমান, আরেফিন চৌধুরী, সাইফুল হক, ফখরুল হোসেন প্রমুখ।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?