শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ০৬:০৮:৫৫

রাণীনগরে চলছে নিম্ন মানের নিষিদ্ধ গাইড ও ব্যাকরণ বই বিক্রয়ের রমরমা ব্যবসা

রাণীনগরে চলছে নিম্ন মানের নিষিদ্ধ গাইড ও ব্যাকরণ বই বিক্রয়ের রমরমা ব্যবসা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে চলছে নিম্ন মানের নিষিদ্ধ গাইড ও ব্যাকরণ বই বিক্রয়ের রমরমা ব্যবসা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই সব নিম্ন মানের প্রকাশনার সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে আতাত করে শিক্ষার্থীদের সেই সব নিম্ন মানের বই কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই সব অখ্যাত-কুখ্যাত প্রকাশনার নিম্ন মানের গাইড ও ব্যাকরণ বই পড়ে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

অপরদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি জননী প্রকাশনীসহ একাধিক নিম্ন মানের বই প্রকাশনীর সঙ্গে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আতাত করে সমিতির আওতায় থাকা ২৮টি মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই সব বই কেনার জন্য বাধ্যতা মূলক নিয়ম বেধে দিয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকের মতামতের বাইরে অন্য কোন প্রকাশনীর বই কিনছে না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই খারাপ হলেও অভিভাবকরা সেই সব গাইড ও ব্যাকরণ বই সন্তানদের কিনে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই সুযোগেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বইয়ের দোকানগুলো নিম্ন মানের বই বিক্রয় করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ।

শিক্ষক সমিতির বাহিরে এসে রাণীনগর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় লেকচার প্রকাশনীর সঙ্গে আতাত করে শিক্ষার্থীদেরকে সেই প্রকাশনীর বই কিনতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও রাণীনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অনুপম প্রকাশনীর সঙ্গে ও গোনা উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশ লাইব্রেরী প্রকাশনীর সঙ্গে একই পথ অবলম্বন করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বইয়ের দোকন গুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে এই সব নিম্ন মানের নিষিদ্ধ গাইড বই। মান সম্মত প্রকাশনীগুলো কমিশন কম দেয় বলে সেই সব বই বিক্রয় করছে না লাইব্রেরী গুলো। এত করে চরম বিপাকে পরেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

উপজেলা সদরের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে বই কিনতে আসা অভিভাবক নজরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও লিটনসহ অনেকেই বলেন শিক্ষকদের নির্দেশের বাইরে বই নিয়ে গেলে সন্তানরা সেই বই গ্রহণ করছে না। অনেকেই বলছেন এই সব বইয়ের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে রয়েছে শত শত ভুল সেই সঙ্গে লেখার মানও ততটা উন্নত নয়। তাই বাধ্য হয়েই শিক্ষকদের বলে দেওয়া নিম্ন মানের প্রকাশনীর বই কিনতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।

এবিষয়ে রাণীনগর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যলয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান মৃধার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমারা কোন প্রকাশনীর গাইড ও ব্যাকরণ বই ধরিনি।

রাণীনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, শিক্ষক সমিতির যে সিদ্ধান্ত সেটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।

গোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মখলেছুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, কোন বছরেই আমরা কোন প্রকাশনীর গাইড ও ব্যাকরণ বই ধরি না।

এ রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঘোষগ্রাম কফিলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোজাহার হোসেন বলেন, এই সব বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই।

রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার কাছে এই সব বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি। আর কোন গাইড ও ব্যাকরণ বই ভালো আর কোনটা মন্দ সেই সম্পর্কে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষরাই ভালো জানেন।

উপজেলার সচেতন মহল শিক্ষার্থীদের নিম্ন মানের ভুলে ভরা গাইড ও ব্যাকরণ বই পড়া থেকে বিরত রাখতে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই চরম ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের জোড়ালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?