শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১১:৩৪:৩৬

পশুখাদ্যে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ বাড়ছে

পশুখাদ্যে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ বাড়ছে

ঢাকা: বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় দেখভালের অভাবে পশুখাদ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষত গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ প্রায় সব ভেটেনারি ফার্মের খাদ্যে মেশানো হচ্ছে এসব অ্যান্টিবায়োটিক। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা ‘সুপার বাগ’ বা ‘শক্তিশালী জীবাণু’ নামে পরিচিত।
 
জানা গেছে, যখন হাঁসমুরগি ও পশুকে যখন অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক মিশ্রিত খাদ্য খাওয়ানো হয় তখন তাদের মাংস, দুধ কিংবা ডিমে এসবের প্রভাব রয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এদের শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠে। যখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করে, তখন তারা মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে এবং চিকিৎসকের দেয়া অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধও ওই রোগ সারাতে ব্যর্থ হয়।
 
বিশেজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে গরুছাগল, হাঁসমুরগিসহ প্রায় অধিকাংশ ফার্মের পশু থেকে উৎপাদিত খাবারেও অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা খাদ্য হিসেবে মানবস্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
 
উল্লেখ্য, অ্যান্টিবায়োটিক হল ওই সকল ঔষধ যেটা সাধারণত ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে অথবা তাদের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে।
 
১৯৪০ সাল হতে, বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক গবাদি পশুপাখির খামারে সংক্রমণ চিকিৎসায় অথবা রোগ বিস্তার প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে যা ‘থেরাপিউটিক ইউজ’ নামে পরিচিত। কোন ফার্মের শেডে যদি একটিও সংক্রমিত গবাদি পশুপাখি পাওয়া যায় তাহলে তা অন্য পশুপাখিতে যাতে না ছড়ায় এজন্যে তা ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে এর আরেকটি ব্যবহার হল ‘সাব-থেরাপিউটিক ইউজ’। এটি পশুপাখির স্বাস্থ্য উন্নত করতে তাদের খাদ্যে মেশানো হয়, যার প্রধান উদ্দেশ্য হল কম সময়ের মধ্যে বেশি মাংস অথবা দুধ উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া। এটি খামারের গবাদি পশুপাখির মৃত্যুর হার কমাতে এবং উন্নত বংশ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এই কারণে পশুর খাবারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
 

ইউরোপে গবাদি পশুপাখির খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক মেশানো ২০০৬ সাল থেকে নিষিদ্ধ। অ্যান্টিবায়োটিকসহ কোন ক্ষতিকর উপকরণ যাতে খাদ্য সরবরাহে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর আইন বহাল করা হয়েছে। একই আইন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বহাল করা হয়েছে।
 
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত পশুর মাংস থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যদি কোন অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া আছে এমন পশুর মাংস সঠিকভাবে রান্না না করা হয়, তবে তা খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। জমিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত পশুর বর্জ্য যদি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বহন করে, তাহলেও তা ছড়াতে পারে। একবার মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে, এরা মানুষের অন্ত্রনালীতে সুপ্তাবস্থায় থেকে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে তা অন্যদের মধ্যেও ছড়াতে পারে।
 
মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, কীটনাশক, ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ‘মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২ নং আইন)’ এর ১৪ এর (১) ও (২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা যাইবে না।’

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?