সোমবার, ২৩ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১১:৪৯:৩০

জন্মাষ্টমী পুজার সাথে ঢাকার বৈশাখ বরণকে তুলনা করলো ভারতের আনন্দবাজার

জন্মাষ্টমী পুজার সাথে ঢাকার বৈশাখ বরণকে তুলনা করলো ভারতের আনন্দবাজার

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের হিন্দুপ্রেমী ভণ্ড সেকুলার নামধারী মুসলিমরা ঢাকায় বর্ষবরণের যে অনুষ্ঠান হয় সেটিকে 'অসাম্প্রদায়িক' প্রমাণ বেশ কসরত করে যাচ্ছেন গত কিছুদিন ধরে। তাদের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিলো ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

আনন্দবাজার ১৫ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত একটি রিপোর্টের শিরোনাম করেছে "ঢাকার পয়লা যেন অষ্টমীর একডালিয়া"। একডালিয়া কলকাতার একটি স্থানের নাম। জন্মাষ্টমী পুজায় ওই জায়গাটি যেমন সাজে সেটির সাথে তুলনা করেই এই শিরোনাম।

রিপোর্টের ভেতরে কী বলা হয়েছে তা হুবহু নিজেরাই দেখুন। শুধু জন্মাষ্টমী নয়, আরও অনেক পুজার ঘ্রাণ ঢাকার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে পাচ্ছে আনন্দবাজার। নিচে পুরো রিপোর্টটি তুলে ধরা হলো--

কার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে! কখনও মনে হচ্ছিল কলকাতার কলেজ স্কোয়ার বা একডালিয়ার পুজো মণ্ডপ। কখনও বা শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের চেহারা। তা সে রমনার বটমূলের বৃন্দগানই হোক কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাজপথে মঙ্গল শোভাযাত্রা। পুজো, বসন্ত উৎসবের মিলমিশে একাকার ঢাকার নববর্ষের সকাল।

দিনাজপুরের নবম শ্রেণির ছাত্রী ঝিলিক বিশ্বাস নববর্ষে মামাবাড়ি ঢাকায় বেড়াতে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মা ও বোনের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিল। নববর্ষের জন্য নতুন ডিজাইনের শাড়ি পরে ওরা তিন জন। ঝিলিকের মা প্রতি বছরই নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করেন। ‘‘এটাই এখন আমাদের জাতীয় উৎসব। যেখানেই থাকি ঠিক চলে আসি,’’ বলছিলেন ঝিলিকের মা। তত ক্ষণে জনস্রোত নেমে পড়েছে রাস্তায়। হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছড়িয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দড়ির ব্যারিকেড দিয়েও উৎসাহী জনতাকে ঠেকাতে পারছেন না।অষ্টমীর রাতে কলকাতায় যেমন হয়। শোভাযাত্রায় মন্ত্রী-সান্ত্রি সবাই ছিলেন। শোভাযাত্রা ঘিরে থিকথিক করছিল পুলিশ। তাতে অবশ্য ঝিলিকদের আনন্দে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

শুক্রবার রাতে দেখছিলাম রাস্তায় ছেলেমেয়েরা ভিড় করে আলপনা দিচ্ছেন। গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেমনটা এখন পুজোর সময়ে কোনও কোনও রাস্তায় হয়, বাংলাদেশের নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের ঢঙে। শনিবার ভোরে হোটেলের জানলা খুলে দেখি সেজেগুজে রাস্তায় নেমে পড়েছেন মানূষ। কেউ যাচ্ছেন রমনা ময়দানে। কেউ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। সকাল সাতটায় বন্ধ হয়ে গেল যানবাহন। গোটা শহর মেতে গেল বর্ষবরণে।

আরও পড়ুন: মৌলবাদকে পথে নেমে মোকাবিলা বাংলাদেশে

‘‘শুধু ঢাকা নয়, প্রতি জেলাতেই বর্ষবরণের মেজাজ এমনই,’’ বলছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত কর্তা নুরুল ইসলাম। শুধু পুজো নয়, কলকাতার সরস্বতী পুজো, ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র মেজাজও যেন ধরা পড়ল বাংলাদেশের এই নববর্ষে! জাতি-ধর্মের বেড়া ডিঙিয়ে এ যেন সর্বজনীন উৎসব। নুরুল বলছিলেন, ‘‘কর্মসূত্রে সারা বছর নানা দেশে ঘুরে বে়ড়াই। কিন্তু বছর পয়লায় এখানে ফিরবই।’’

বাঙালির উৎসবের সঙ্গেই মিলেমিশে রয়েছে খাবার। প্রাতরাশে কোথাও পান্তা ভাত আর শুঁটকি মাছ, কোথাও বা পান্তা আর ইলিশ মাছ ভাজা। এমনকী পাঁচ তারা হোটেলে মধ্যাহ্নভোজের মেনুতেও অন্যতম আকর্ষণ পান্তা আর ইলিশ ভাজা! সঙ্গে শুকনো লঙ্কা পোড়া, পেঁয়াজ, গন্ধরাজ লেবু, বেগুন-চালকুমড়ো ভাজার সঙ্গে লইট্যা আর শেদল শুঁটকিও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতই নববর্ষে ইলিশের বদলে শুঁটকি খাওয়ার আর্জি জানান, ঢাকাইয়া পাতে এ দিন ইলিশ-শুঁটকির সহাবস্থানই ছিল বেশি।//

লিংক: http://www.anandabazar.com/bangladesh-news/poila-baisakh-in-dhaka-celebrated-almost-like-durga-puja-in-kolkata-1.787102

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?