সোমবার, ১৬ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১৮, ০৮:০১:২৪

কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে দুই শতাধিক পরিবার গৃহহীন

কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে দুই শতাধিক পরিবার গৃহহীন

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার করাল গ্রাসে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কয়েকশ পরিবার। গত এক সপ্তাহে নদীভাঙনে প্রায় দুইশ পরিবারকে বসতভিটা ছাড়তে হয়েছে।

বার বার নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন আশ্রয় হারিয়ে অন্যের ভিটায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। স্থানীয়ভাবে কাজকর্ম না থাকায় দু’বেলা খাবার জোটাতেও পারছে না তারা। অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন ওই এলাকার সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার তারামণি রানী।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, লালমনিরহাটের তিস্তা ব্রিজ থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার উন্মুক্ত জায়গায় প্রতি বছর তিস্তা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে শতশত পরিবার। জেলায় ৭টি পয়েন্ট চিহ্নিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৪২ কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা এখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। ফলে ভাঙনে দিশেহারা পরিবারগুলো পাচ্ছে না মাথা গোঁজার ঠাঁই।

গত কয়েক দিনে তিস্তা নদীর ভাঙনে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে প্রায় ১০টি পাড়ায় চলছে ভয়াবহ ভাঙন। গত এক সপ্তাহে থেতরাই ইউনিয়নের হোকোডাঙা ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া, ডাক্তারপাড়া, মেম্বারপাড়া, ভারতপাড়া, পাটোয়ারীপাড়া, মাঝিপাড়াসহ সাতটি গ্রামে প্রায় দুইশ বাড়িঘর ভেঙে গেছে।

নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে ভাঙনের তীব্রতা। বিলীন হয়ে গেছে গাছপালা, সড়কসহ অনেক ফসলি জমি। বসতভিটা ও জমি হারিয়ে বিপাকে পড়েছে ভাঙনকবলিত মানুষ।

হোকোডাঙ্গা এলাকার মজিবর, জাহিদুল, আঞ্জুয়ারা ও রাখালচন্দ্র জানান, এক একটি পরিবারের প্রায় ৫ থেকে ৭ বার করে বাড়ি ভেঙেছে। একবার মেইন ল্যান্ডে আরেকবার বালুচরে বাঁধতে হয়েছে বাসা। তিস্তা নদী মাইলের পর মাইল জমি গ্রাস করেছে। ভূমিহীন পরিবারে পরিণত করেছে শতশত মানুষকে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ধরনের উদ্যোগ না নেয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় গৃহহীনদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

এই এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জানান, তিস্তার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। আশ্রয়ের শেষ জায়গাটিও ভেঙে এখন দিশেহারা ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলো। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় বাড়ছে ভুক্তভোগীদের সংখ্যা।

থেতরাই ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার তারামণি রানী বলেন, মাসখানেক আগে ৪৮টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় দুইশ পরিবার বিলীনের পথে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি- ভাঙন কবলিতদের যেন সু-ব্যবস্থা করে এবং তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উলিপুর-চিলমারীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, তিস্তায় প্রায় ৭টি পয়েন্টে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীভাঙন থেকে স্থানীয় জনগণকে রক্ষা করতে ২৪২ কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা নদীর বাম তীরের ভাঙন থেকে জনগণ রক্ষা পাবে। এতে এলাকার জনগণ অন্যান্য সুবিধা পাবে বলেও জানান তিনি।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?