বুধবার, ২১ নভেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৮:১৬:৩২

ছেলেসহ আবারও কারাগারে রাগীব আলী

ছেলেসহ আবারও কারাগারে রাগীব আলী

সিলেট: ভূমি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলায় সিলেটের বিতর্কিত ব্যবসায়ী রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইকে আবারও কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই মামলায় বছরখানেক জেল খাটার পর বর্তমানে ছেলেসহ জামিনে ছিলেন তিনি।

আলোচিত এ মামলায় গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পাঁচ ধারায় সর্বমোট ১৪ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরুর আদালত।

চলতি বছরের ৯ আগস্ট এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করলে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৪ বছরের সাজা বহাল রেখে আজ বুধবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক।

সিলেট জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামিম আহমদ জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ এবং জালিয়াতির একটি মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। পরে এ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, সিলেটের হাজার কোটি টাকার তারাপুর চা বাগান দেবোত্তর সম্পত্তি। জালিয়াতি ও প্রতারণা করে এই বাগান দখল নেওয়ার অভিযোগ ওঠে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ১৯৯৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তৎকালীন ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) এসএম আব্দুল কাদের। এছাড়া সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন তিনি।

মামলায় ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের জমি আত্মসাতের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করার অভিযোগ আনা হয়ে রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এই মামলার বিরুদ্ধে রাগীব আলী উচ্চ আদালতে গেলে দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের শুরুতে তার নিষ্পত্তি হয়।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই আদেশের পর একই বছরের ১৫ মে চা বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

মামলা হওয়ার ১১ বছর পর ২০১৬ সালের ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত সুপার সারোয়ার জাহান আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে তারাপুর চা বাগান আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করেন। এই মামলার দুই আসামিই জেল হাজতে রয়েছেন।

ওই বছরের ১০ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাই ওই দিনই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ১২ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২৪ নভেম্বর ভারতে গ্রেপ্তার হন রাগীব আলী। ওই দিনই সিলেটের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে তাকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।

স্মারক জালিয়াতি মামলা ছাড়াও রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে তারাপুর চা বাগানের ভূমি আত্মসাতের আরেকটি মামলায়ও সাজা দেয় আদালত।

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?