মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০৫:৪৬:৫৩

৫১ বছরে ৬৬ হাজার হেক্টর জমি পদ্মায় বিলীন: নাসা

৫১ বছরে ৬৬ হাজার হেক্টর জমি পদ্মায় বিলীন: নাসা

ঢাকা : ১৯৬৭ সাল থেকে পদ্মা নদীর ভাঙনে ৬৬ হাজার হেক্টরের (২৫৬ বর্গমাইল) বেশি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যা প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরগুলোর একটি- শিকাগোর সমান। ২০১৮ সালের আগস্টে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র- নাসা আর্থ অরজারভেটরি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের দু’টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত এটি প্রাকৃতিক, মুক্ত প্রবাহিত নদী সুরক্ষার তেমন ব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়ত নদীর তীরে একটি বড় বালুচর রয়েছে যা দ্রুতই ভেঙে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট ছবিতে পদ্মা নদীর প্রস্থ, গভীরতা, গঠন এবং সামগ্রীক আকার পার্থক্য উল্লেখ করে ভাঙন পরিমাপ করে। নাসার ‘ভাঙনের আকৃতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক-রঙের স্যাটেলাইট ছবিগুলোর সাথে ১৯৮৮ সাল থেকে পদ্মার আকৃতি এবং প্রস্থের পরিবর্তনগুলো তুলনা করেছে।

বহু বছর ধরে, গবেষকরা নদীর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেছে। প্রত্যেক ‘টুয়িস্ট এন্ড জিগজ্যাক’ স্যাটেলাইট ছবি নদীর একটি ভিন্ন কাহিনী তুলে ধরছে। নাসার ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবিগুলো শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তোলা হয়েছে।

নদীর নিচে পলি মাটি বিভিন্ন উৎস থেকে আসতে পারে। এক তত্ত্বমতে, কিছু পলিমাটি ১৯৫০ সালে সৃষ্ট ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধসের অবশিষ্টাংশ। গবেষকরা মনে করেন, এসব বালির মতো ক্ষুদ্র উপাদান নদীর মধ্য দিয়ে অর্ধ শতাব্দী ধরে সৃষ্টি হয়েছে।

নাসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন দশক ধরে পদ্মা নদী তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ, সোজাসুজি অবস্থান পরিবর্তন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঁকাবাঁকা হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে, সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন হয়েছে হরিরামপুর উপজেলার অঞ্চলের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়েছে। ১৯৯৮ সালে ভারতে ফারাক্কা বাঁধ উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বন্যা দেখা দেয়, যা বাংলাদেশে আরো বেশি পানি ঢুকে পড়ে।

এর আগে, ‘চর জানাজাতের’ কাছে জায়গা-জমি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে নদীর রেখাচিত্র তীব্রভাবে বেঁকে যায়। বক্ররেখাটি ১৯৯২ সাল থেকে বিকশিত হতে শুরু করে, ২০০২ সালে পতন শুরু হয়, এবং এরপর থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

নাসা আর্থ অবজারভেটরির অ্যানিমেশনটির মাধ্যমে ১৪টি রঙিন স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ১৯৮৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে পদ্মা নদী কিভাবে তার আকৃতি ও পথ পরিবর্তন করেছে তা দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা এবং নদী ভাঙনের ফলে এটি কিভাবে প্রভাবিত হতে পারে সেদিকটিও উঠে এসেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে নদীর ভাঙন কিছু হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন উদ্বেগের কথা রয়েছে। যদিও কিছু গবেষকরা আশা করছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে জমি প্রকৃতপক্ষে স্থির হতে পারে এবং এটি শেষ হওয়ার পর নদী ভাঙন হ্রাস পেতে পারে।

প্রতিবেদনটির শেষে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোর, পদ্মার ভাঙনের হার প্রকৃতপক্ষে হ্রাস পেয়েছে। নদীটি বক্ররেখার পরিবর্তে জমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে এলাকাটি ভাঙন থেকে মুক্ত।’

 

এই বিভাগের আরও খবর

  ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র সময় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ ৯ জেলের লাশ উদ্ধার

  জুনের মধ্যেই সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ

  গৃহবধূর আপত্তিকর গোপন ভিডিও ধারণ করল ইউপি সদস্য

  নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ বললেন রাঙ্গা, প্রতিবাদে যা বলল মা

  অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তুরিন আফরোজকে অপসারণ: আইনমন্ত্রী

  স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করে স্বামীর আত্মহত্যা

  ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে অপসারণ

  ৭ বছরেও সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় হাইকোর্টের ক্ষোভ

  বুলবুল তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন ৫০ লাখ গ্রাহক

  ইডেনে ফের ছাত্রলীগ নেত্রীদের মারামারি, আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি

  রোহিঙ্গারা শুধু বাংলাদেশ নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তায়ও হুমকি: প্রধানমন্ত্রী

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?