বুধবার, ২১ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৯, ০৭:১২:০১

রাজধানীর ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত, আদালতে প্রতিবেদন

রাজধানীর ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত, আদালতে প্রতিবেদন

ঢাকা : ‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যে এবার নতুন করে এ নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। রাজধানীর ৫৯টি এলাকার ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান রাষ্ট্রপক্ষের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। তাতে বলা হয়, গত তিন মাসে ঢাকার ২৯২টি অভিযোগের ভিত্তিতে ৫৯টি এলাকার ১০টি জোনের পানি বেশি দূষিত।

ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ওয়াসার দেয়া প্রতিবেদন আজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ঢাকার ১০টি জোনে ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জোনগুলো হলো-
১ নম্বর জোন : যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকনগর, মান্ডা, ধোলাইরপার ও মাতুয়াইল।

২ নম্বর জোন : বাঘলপুর, লালবাগ, বকশিবাজার ও শহীদনগর।

৩ নম্বর জোন: জিগাতলা, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভূতেরগলি ও মোহাম্মদপুর।

৪ নম্বর জোন : শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর, পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর।

৫ নম্বর জোন : মহাখালী ও তেজগাঁও।

৬ নম্বর জোন : সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা, মালিবাগ ও পরিবাগ।

৭ নম্বর জোন : কদমতলী, দনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনির আখড়া, কোনাপাড়া ও মুসলিমনগর

৮ নম্বর জোন : বাড্ডা, আফতাবনগর, বসুন্ধরা ও ভাটারা।

৯ নম্বর জোন : উত্তরা, খিলক্ষেত, সায়েদাবাদ, মোল্লারটেক ও রানাগোলা।

১০ নম্বর জোন : কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত ও পল্লবী।

বুধবার (১৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানীর ওয়াসার পানির ১০৬৫টি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা দরকার। প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু হাইকোর্টে দাখিল করবেন বলে জানানো হয়।

এর আগে গত সোমবার (১৩ মে) ঢাকা ওয়াসার কোন কোন এলাকার পানি বেশি অনিরাপদ, তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিল না করায় হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

একইসঙ্গে, ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষায় যে অর্থ খরচ হবে, তা নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বুধবারের (১৫ মে) মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ওয়াসায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে টিআইবি।

এতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে পান করেন। গৃহস্থালি পর্যায়ে পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হচ্ছে।

এ প্রতিবেদনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় ও বিশুদ্ধ। একে ফুটিয়ে খাওয়ার প্রয়োজন হয় না।’ এছাড়া টিআইবির এই প্রতিবেদনকে তিনি নিম্নমানের বলে উল্লেখ করেন।

তাকসিম এ খানের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। তারা নিরাপদ পানির দাবি করে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানকে ‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান। কিন্তু ওয়াসাতে গিয়ে সাক্ষাৎ না পেয়ে হতাশ হন মিজানুর।

এই বিভাগের আরও খবর

  ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাল ছাড়েনি সরকার’

  ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ১৫৭২ রোগী

  কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

  ছেলেধরা গুজবে আবারও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে গণপিটুনি

  জেল থেকে বের হওয়ার পরদিনই খুন রফিক

  বাসর ঘরে গলায় ফাঁস দিলেন শিক্ষক

  এবার মশা মারতে চিরুনি অভিযানে ডিএনসিসি

  দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায় ধর্ষণ বাড়ছে: হাইকোর্ট

  ডেঙ্গুতে শরীয়তপুর ও ফরিদপুরে আরও দুইজনের মৃত্যু

  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে প্রস্তুত সরকার ও ইউএনএইচসিআর

  চেয়ারম্যানের পরকীয়া প্রেমে মগ্ন গৃহবধূ, বিয়ের দাবিতে অনশন

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?