বুধবার, ১৯ জুন ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৯, ০৯:১৭:০৫

কাজ না করে বেতন, ১৬৭ চিকিৎসকের চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা

কাজ না করে বেতন, ১৬৭ চিকিৎসকের চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা

ঢাকা: কাজ না করে বেতন নিচ্ছেন অনেক চিকিৎসক। এছাড়াও বিভিন্ন অজুহাতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অফিসার্স অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) চিকিৎসকসহ এমন চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় চার হাজারের মত। জানা যায়, এ সকল চিকিৎসকরা কখনই কোন হাসপাতাল বা থানা হেলথ কমপ্লেক্সে স্থায়ীভাবে চাকরি করনেনি। বেতন বন্ধের হুমকি দিয়েও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা তাদের কর্মস্থলে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। এদের মধ্যে যারা কর্মস্থলে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত এমন ১৬৭ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, চিকিৎসক চাকরিতে আছেন, অথচ হাসপাতালে আসছেন না, এমন ১৬৭ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কর্মকর্তারা বলছেন, আইনগত নিষ্পত্তি শেষে তাদেরকে প্রয়োজনে চাকরিচ্যুত করা হবে। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসকরা কোন কোন হাসপাতালে কত দিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন তা বিস্তারিত জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।  

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, যে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে, তারা হাসপাতালের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই রাখছেন না । তারা কোথায় আছেন, সেই তথ্যও নেই। এদের কেউ কেউ ৩ বা সাড়ে ৩ বছর ধরেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না করলেও তাদের ব্যাংকে বেতন গেছে। যদিও মামলার পর বেতন বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে অনুপস্থিতির বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বেতন বন্ধ করেও ওএসডি চিকিৎসকের সন্ধান পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ওএসডি (অফিসার্স অন স্পেশাল ডিউটি) হয়ে  চিকিৎসকরা কোথায় আছেন এর সঠিক পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এবার তাদের খুঁজে পেতে বেতন বন্ধের হুমকি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত ১৩ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পারসোনাল শাখা-৩ এর উপসচিব রোকেয়া বেগম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে কোন প্রতিষ্ঠানে কতজন চিকিৎসক ওএসডি আছেন এবং কতজন  প্রশিক্ষণে আছেন কিংবা হাসপাতালের কর্মরত রয়েছেন তা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে নির্ধারিত ছকে ওএসডি চিকিৎসকদের মে মাসের বেতন বিলের সঙ্গে তাদের নাম ও কোড নম্বর, বর্তমান কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, কোন তারিখ থেকে ওএসডি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, যে আদেশে ওএসডি করা হয়েছে তার স্মারক নম্বর লিখে দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় বেতনভাতা বন্ধ করা হবে। তবে এ ধরনের হুমকিতেও কাজ হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, মূলত উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য চিকিৎসকদেরকে স্বাস্থ্য অধিদফতরে ওএসডি দেখিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। এ ধরনের চিকিৎসকের সংখ্যা আনুমানিক চার হাজার হতে পারে।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অনুপস্থিত এক চিকিৎসকের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে ১৬৭ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার তথ্য মিলেছে। মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন তরফপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন রেজুয়ানা ইসলাম গত সাড়ে ৩ বছর ধরে কর্মস্থলে আসছেন না। তিনি কোথায় আছেন দপ্তরের কেউ সে তথ্য জানেন না। এ চিকিৎসকের বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। সে সময় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাত। কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেজুয়ানার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাত জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর রেজুয়ানা ইসলামসহ সারাদেশে ১৬৭ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তবে তারা কোথায় আছেন তাদের খোঁজ নেই। অনুপস্থিত রেজুয়ানার বেতন-ভাতার বিষয়ে বলেন, যেহেতু তার বা তার মতো অন্যদের খোঁজ নেই বেতন-ভাতা পাওয়া প্রশ্নই উঠে না। সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চাকরি করেও সরকারি হাসপাতালে যান না, এমন চিকিৎসকের সংখ্যাই বেশি। দেশের ১১টি হাসপাতালে দুর্নীতি দমন কমিশনের একদিনের অভিযানে ৬০ শতাংশ চিকিৎসকের অনুপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।

গত জানুয়ারিতে আলোচিত সেই অভিযানের পর নানা সময় বিভিন্ন হাসপাতালের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন এসেছে। এমনও দেখা গেছে, ৩ দিনের ছুটি নিয়ে সাড়ে ৩ বছর ধরে চিকিৎসক লাপাত্তা। চিকিৎসকদের কাজে ফাঁকি দেয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর খোদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি এসেছে, হাসপাতালে না গেলে চাকরি থাকবে না। এই অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রায় পৌনে ২শ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলো।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?