শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২৯ জুন, ২০১৯, ০৯:৪৭:৫৫

‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এসআই মনির ও রফিক’

‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এসআই মনির ও রফিক’

সিলেট: ‘আল্লাহ সর্বশক্তিমান। আমার মৃত্যুর জন্য ২ জন দায়ী, ১। লেলে ওরফে রফিক ড্রাইভার, ২। ডিবি এসআই মনির। আমার নাম মো. শ্যামল আহমেদ। আমি তাদের বিচার চাই, চাই, চাই।’ প্যাডের অপর পৃষ্ঠায় লেখা আছে। ‘যে প্যাডে লেখেছি সে প্যাড আমার বালিশের নিচে, সঙ্গে কলমও আছে।’

আত্মহত্যার আগে চিরকুটে কথাগুলো লিখেছেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব তেঘরিয়ার বাসিন্দা মছদ্দর আলী ময়না মিয়ার ছেলে গাড়িচালক মো. শ্যামল আহমেদ।

শহরের তেঘরিয়া এলাকায় বিদ্যুৎ অফিসের স্টাফদের জন্য নবনির্মিত কোয়ার্টারের ৪র্থ তলায় গত রোববার রাত সাড়ে ৭টা থেকে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার দুপুরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় অবশ্য শ্যামলের প্যান্টের পকেটে চিরকুটটি পান সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই জিন্নাতুল ইসলাম। চিরকুটে থাকা দু’জনকে আসামি করে নিহতের স্ত্রী মোছা. চামেলী আক্তার বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।

জানা গেছে, চিরকুটে লেখা এসআই মনির সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এএসআই মনির এবং লেলে ওরফে রফিক ড্রাইভার তাহিরপুর উপজেলার উজান তাহিরপুর গ্রামের মৃত ফয়জুল বেগের ছেলে।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দুই আসামির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। বলেছেন, এএসআই মনিরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকার পরও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। পুলিশ রফিক ড্রাইভারকে গ্রেফতার করলেও ডিবির এএসআই মনিরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সদর সার্কেলে দায়িত্বরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীনকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান। জয়নাল আবেদীন বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে কথা না বলাই ভালো।

সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানান, পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সদর থানার ওসিকে মামলার তিন দিনের মধ্যে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে চিরকুটটি জব্দ করা রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর একেএম জালাল উদ্দিন বলেন, রফিক ড্রাইভারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি এএসআই মনির হোসেন নাকি জামিন নিয়েছে, তবে এখনও কাগজ পাইনি। মনিরের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিবির এএসআই মনির হোসেন বলেন, মামলা আইনানুযায়ী চলছে। এর বাইরে আর কিছু বলতে পারব না। নিহত শ্যামলের বাবা মছদ্দর আলী ময়না মিয়া বলেন, কাগজটি (চিরকুট) দেখতে দেয়নি। রাত ১২টা পর্যন্ত থানায় রেখে মামলাটাও তারা লিখেছে। শুনছি এক আসামি জামিন পেয়ে গেছে। ৩ বছরের একটি ছেলে রেখে আমার তরতাজা ছেলেটি মারা গেছে। নাতির ভবিষ্যৎ কী হবে?

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?