বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ০১:২৮:৩১

রোহিঙ্গা সংকট: চীনকে নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বসছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকট: চীনকে নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বসছে বাংলাদেশ

ঢাকা: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এবার চীনকে নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ। এ মাসেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি বিষয়টি জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি ও এ বিষয়ে মিয়ানমারের বর্তমান অবস্থান বিষয়ে আলোচনা হয়।

সংসদীয় কমিটির ওই বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক খান সাংবাদিকদের জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, চলতি মাসেই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন ত্রিদেশীয় এ বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যা, নিপীড়ন, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইন ছেড়ে নতুন করে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সীমান্ত ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশছাড়া বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বৈশ্বিক দৃষ্টিতে মানবিকতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যাপারে সব প্রস্তুতি নিয়েও মিয়ানমারের অনাগ্রহের কারণে দ্বিতীয় দফায়ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আগে থেকেই চার লাখের মতো রোহিঙ্গা ছিল। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে সাড়ে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অবস্থান করছে।

২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথমবার দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। এর পর গেল ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সব প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এবারও রোহিঙ্গাদের নানা শর্ত ও অনাগ্রহে তা বন্ধ হয়ে যায়। একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হয়নি।  

এদিকে নিজ দেশে ফেরার ব্যাপারে রাখাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাগরিকত্বসহ ৪টি শর্ত দিয়েছে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এইসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা একজনও মিয়ানমারে ফিরতে রাজি নন।

গেল ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ হওয়ার পর ওই দিনই দুপুরে টেকনাফের নয়াবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ও আরকানা রোহিঙ্গা সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ উল্লাহ শর্তগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘সর্বপ্রথম মিয়ানমারে আমাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নাগরিকত্ব দেয়া; জমিজমা ও ভিটেমাটি দখলমুক্ত করা এবং সেদেশে ক্যাম্পে যে ১ লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গা আটকে রাখা হয়েছে তাদের নিজগৃহে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।’

আর এইসব শর্ত পূরণ হলে যেকোনও সময় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে রাজি আছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে দফায় দফায় কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে এখনও আশার আলো দেখতে পাচ্ছে না সরকার। এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি ‘অসন্তুষ্টি’ প্রকাশ করে জানায়, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। এ তৎপরতা আরও জোরালো করতে হবে।

এমনকি প্রয়োজনে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মাধ্যমেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালানো যেতে পারে বলে উল্লেখ করে সংসদীয় কমিটি।

ইতোমধ্যে সংসদীয় কমিটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম নিয়ে আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সংসদীয় পর্যায়ে তৎপরতা চালাতে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াসহ বেশ কিছু দেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?