সোমবার, ১৪ অক্টোবর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১০:০৯:১০

আমাকেও মেরে ফেলুন, বাবা-মা একবারেই কষ্ট পাবে : আবরারের ভাই

আমাকেও মেরে ফেলুন, বাবা-মা একবারেই কষ্ট পাবে : আবরারের ভাই

ঢাকা: ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে স্ট্যাটাস দেয়ায় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ছোট ভাই ফায়াজের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এজন্য ফায়াজ ও তার ভাবীকে মারধর করেছে পুলিশ। এছাড়াও তাকে ও তার বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আবরার ফায়াজ। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টসে এক স্ট্যাটাসে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় তীব্র ক্ষোপ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

ফায়াজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজকে Additional SP (উনি বলেন ওনার নাম মোস্তাফিজুর রহমান) কোথা থেকে সাহস পান আমার গায়ে হাত দেয়ার? আমার ভাবিকে মারছেন? নারীদের গায়ে নিষ্ঠুরভাবে হাত দেন আপনারা? এই চাটুকারদের কি বিচার হবে না? তিনি কালকে ২ মিনিটের মধ্যে জানাজা শেষ করতে বলেছেন কীভাবে? যেই ছাত্রলীগ মারল তারা কেন সর্বত্র? আমার বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে, আপনার আরেক ছেলে ঢাকা থাকে, আপনি কি চান তার ক্ষতি হোক। আজ বলেছেন কেউ কিছু করলে এক সপ্তাহ পর গ্রামের সব পুরুষ জেলে থাকবে। বিচার চাই, আমি বিচার চাই...নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন। বাবা-মা কষ্ট একবারে পাবে।’

এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে কেন ৩৬ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে ছিলেন না? কেন জানাজায় অংশ নেননি? কেন জানাজা মাত্র ২ মিনিটে শেষ করতে বলা হয়? বড় ভাইয়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এমন নানা প্রশ্ন করায় ফায়াজকে মারধর করে পুলিশ। মারধরে তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরও একজন নারী আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

বুধবার (৯ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় আবরার ফাহাদের রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আবরার মৃত্যু নিয়ে ক্যাম্পাস যখন উত্তাল তখন সেখানে তিনি ছিলেন না। ক্যাম্পাসেই সন্তান সমতুল্য শিক্ষার্থীর জানাজা হলেও তাতেও অংশ নেননি উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার পর ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন ভিসি। সেখানে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাতে মুক্ত হোন।

তাকে নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছিল তখন নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাড়ি কুষ্টিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

কিন্তু তাকে আবরারের বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এলাকাবাসীর প্রবল বাধায় র‌্যাব-পুলিশের পাহারায় ভিসি ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

বুধবার (৯ অক্টোবর) সকালে তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হোন। বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতু দিয়ে পাবনা হয়ে তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌছান।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি কড়া নিরাপত্তায় রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে আবরারের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ সেখানে ছিলেন।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তিনি আবারের বাড়ির দিকে রওনা হোন। কিন্তু স্থানীয় হাজার হাজার জনতা তাদের বাধা দেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আবরার ফাহাদের ভাই ফায়েজকে পুলিশ হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা। আবরারের মৃত্যু, তার জানাজায় বুয়েট উপাচার্যের উপস্থিত না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ জানান এলাকাবাসী।

রায়ডাঙ্গা গ্রামে আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আবরারের বাড়ির পাশে ও কবরের আশেপাশের এলাকায় অসংখ্য র‌্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয়।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?