শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ০৪:৩০:৪৫

বিভিন্ন জেলায় আজও পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তি

বিভিন্ন জেলায় আজও পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তি

ঢাকা : নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে আজও বৃহস্পতিবারও ছয় জেলায় চলছে পরিবহন ধর্মঘট।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ, খুলনা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক দিন বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সিরাজগঞ্জ: কেন্দ্রীয়ভাবে বুধবার রাত থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হলেও সিরাজগঞ্জে সেই ঘোষণা মানছেন না পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। বুধবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এমএ মতিন বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ও ট্রাক ছাড়তে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে সিএনজি অটোরিকশাগুলোও চলাচল করছে না। ফলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি শহীদ আলম জানান, মহাসড়কে গতকাল রাতে কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে কিন্তু আজ সকাল থেকে খুব কমসংখ্যক বাস ও ট্রাক চলাচল করছে।  সিরাজগঞ্জ জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাহী সদস্য রোমান আহম্মেদ জানান, সিরাজগঞ্জের বাস মালিকরা বাস চালানোর জন্য শ্রমিকদের অনুরোধ করেছে; কিন্তু তারা তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত বাস চালাবে না বলে আমাদের জানিয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে বৃহস্পতিবারও চলছে পরিবহন ধর্মঘট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকাল থেকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, আরাপপুর, বাইপাস মোড় এলাকায় বাস ও যানবাহনের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে বাস না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক ও মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ ৩ চাকার যানবাহনে চলাচল করছেন।
নড়াইল: নড়াইল-মাওয়া, নড়াইল-যশোর, নড়াইল-লোহাগড়াসহ অভ্যন্তরীণ সব রুটে কোনো ঘোষণা ছাড়া ৪র্থ দিনের মতো আজও বাস ধর্মঘট চলছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহম্মেদ খান জানান, বাস ধর্মঘট অব্যাহত আছে। আমরা এখন ঢাকায় আছি। বেলা ১১টার দিকে এ বিষয়ে বৈঠকে বসব।

মেহেরপুর: মেহেরপুরে দু'একটি ট্রাক চলাচল শুরু হলেও বৃহস্পতিবার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে চালকদের কর্মবিরতির ফলে আন্তঃজেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মেহেরপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাস হওয়ার পর থেকেই বাসচালক, হেলপার ও সুপারভাইজাররা আতঙ্কে রয়েছেন। তবে সরকারের সঙ্গে মালিক শ্রমিকদের কয়েক দফা বৈঠকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে নেয়া হয়েছে। আজ ঢাকায় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। চুয়াডাঙ্গা: নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় আজ বৃহস্পতিবারও চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।

প্রথম দিকে বাস ধর্মঘট শুরু হলেও বুধবার সকাল থেকে একই দাবিতে শুরু হয়েছে ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট। মধ্যরাতে ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও আজ সকাল থেকে কোনো পণ্যবাহী পরিবহন ছেড়ে যায়নি। সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে গত সোমবার থেকে বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। যদিও শ্রমিক নেতারা এটিকে ধর্মঘট বা কর্মবিরতি বলছেন না। শ্রমিক নেতারা বলছেন, নতুন সড়ক আইনে বাস ও চালকের কাগজপত্র হালনাগাদ থাকতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ বাস ও চালকের তা নেই। এ কারণে মালিক ও চালকরা ভয়ে বাস চালানো বন্ধ রেখেছেন।

সাতক্ষীরা: এদিকে সাতক্ষীরাতেও সকাল থেকে কোনও রুটে বাস চলাচল করেনি। সাতক্ষীরা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, নতুন আইন সংশোধনের পর বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দেয়। সরকারের আশ্বাস পেলেই রাস্তায় নামবে শ্রমিকরা। কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরকারের ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।

সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল করিম সাবু বলেন, মালিকরা বাস চালাতে নিষেধ করেনি।

কষ্টিয়া: কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও কুষ্টিয়ার সকল সড়কে বাস ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পণ্য পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে টানা ৫ দিনের মতো এ জেলায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কুষ্টিয়া বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন জানান, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে কুষ্টিয়ায় চালক ও শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার কথা বললেও তারা আমাদের মতো নেতাদের কথা মানছেন না। শ্রমিকরা তাদের নিজের সিন্ধাতেই কর্মবিরতি পালন করছে বলেও জানান এই শ্রমিক নেতা।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?