শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২০, ০৮:৪০:০৮

প্রার্থী গ্রেপ্তারে ইসির 'না'

প্রার্থী গ্রেপ্তারে ইসির 'না'

ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে তারা মনে করেন, ৫৩ ওয়ার্ডে একাধিক মামলার আসামি প্রার্থী হওয়ায় এবং ১৫টিতে সরকারি দল-সমর্থিত একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর কারণে নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই ওয়ার্ডগুলোতে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ওয়ার্ডগুলো নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে একাধিক মামলার আসামি প্রার্থী হওয়ায় বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে পরোয়ানা থাকলেও ভোটের আগে কোনো প্রার্থী গ্রেপ্তার হোক, এটা ইসি চায় না।

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি ভোটের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে চার কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশের আইজি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই ও এনএসআইর প্রতিনিধি, বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকার পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা এ বৈঠক হয়।

বৈঠকের শুরুতেই উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, এই নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম ও ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে চাই না। গাফিলতি সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশনের কাছে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ঢাকা সিটির ভোটের দিকে সবার নজর। কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয় না- এ অভিযোগের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, বারবার অভিযোগ আসে, এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয় না অথবা ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। কেন্দ্র থেকে কেউ যেন এজেন্ট বের করে দিতে না পারে এবং আসা-যাওয়ার পথে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টিও দেখতে হবে। অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে এজেন্টদের বাড়ি থেকে এনে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব কমিশন নিতে পারে না।

সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রের পাহারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি বলেন, অর্ধশতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে এক থেকে বিশটি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। তাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দিতে ভবিষ্যতে আইন সংশোধনেরও প্রস্তাব দেন ওই কর্মকর্তা। তার এ প্রস্তাব নাকচ করে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আদালতের নির্দেশে পলাতক আসামি না হলে যত মামলাই থাকুক, প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না। একইভাবে সিইসিও বলেন, পরোয়ানা থাকলেও ভোটের আগে কোনো প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হোক, এটা ইসি চায় না। পুলিশকে আইনের মধ্য থেকেই ভোটের আগ পর্যন্ত এ ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। সিইসি বলেন, পুলিশ অনেক কিছুই অনেকভাবে ম্যানেজ করতে পারছে। এটাও আশা করি পারবে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ভোটের পরে তামিলের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া বৈঠকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার শঙ্কা প্রকাশ করে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বৈঠকে দুটি সংস্থার কর্মকর্তা কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, কিছু কিছু ওয়ার্ডে একই দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তারা যে কোনো সময়ে সহিংসতায় লিপ্ত হতে পারেন। তারা আরও বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েও সহিংস পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। এর জবাবে কমিশন বলেছে, গুজব ঠেকাতে সাইবার সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সদের কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নজরদারি করতে হবে। আরও জানা যায়, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দু-একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত ও ভালো রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক দিন পর ঢাকায় ভোটের পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকার চারপাশের জেলার বাসিন্দারা যাতে ভোটের দিন রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য প্রতিটি প্রবেশপথে চৌকি বসানো হবে।

বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৮টি কেন্দ্র শুধু ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া তাদের কাছে এমন কোনো প্রতিবেদন নেই যে পরিস্থিতি খারাপ কিছু হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কিছু হতে পারে, সে রিপোর্টও তাদের কাছে নেই। সব সময়ই তারা সতর্ক আছেন, কোনো সমস্যা থাকলে তারা ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য থাকবেন। সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব ও বিজিবি থাকবে। তিনি আরও বলেন, কমিশনের প্রস্তাবগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মেনে নিয়েছে। তবে ভোটারদের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তারা বলেছে, ভোটের দিন ট্রাফিক পুলিশও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকে। ওই দিন ঢাকায় দুই থেকে তিন লাখ যে ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে, সেগুলো চলাচল করলে ট্রাফিক পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের সমস্যা হবে। যারা বিভিন্ন স্থান থেকে চলাচল করবেন, তাদেরও সমস্যা হবে। কমিশন তাদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার বিষয়ে সচিব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর একটিও না ঘটে, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সিটি নির্বাচনে এখন পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভোটারদের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং তা বজায় রাখতে পুলিশ সচেষ্ট থাকবে। আইজিপি আরও বলেন, প্রচারে বাকি সময়টুকু উৎসবমুখর, সুন্দর এবং একটি চমৎকার পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশসহ যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেমন- র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এই বিভাগের আরও খবর

  মহান ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ আজ

  বাসের বুকিং সহকারি থেকে শত কোটি টাকার মালিক!

  ‘স্বেচ্ছায় আত্মাহুতির’ শেষ কোথায়?

  অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজন আছে তবে বাংলা বিসর্জন দিয়ে নয়: প্রধানমন্ত্রী

  সোমবারের মধ্যে ১০০০ কোটি টাকা দিতে নির্দেশ গ্রামীণফোনকে

  পাবনায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী হাব্বান নিহত

  ২০ জনের হাতে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

  দিনাজপুরে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত ২

  ‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে ২৩ লাখ গ্রহণ, ওসি-এসআইসহ ৫জনের বিরুদ্ধে মামলা

  সমুদ্রের তীর ঘেঁষে উচ্চ-স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেব না: প্রধানমন্ত্রী

  সমুদ্রের তীর ঘেঁষে উচ্চ-স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেব না: প্রধানমন্ত্রী

আজকের প্রশ্ন

ঢাকার সিটি নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হলে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আপনিও কি তাই মনে করেন?