রবিবার, ০৭ জুন ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৮ মার্চ, ২০২০, ০২:৩১:১২

খুলনায় তয়ন হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

খুলনায় তয়ন হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

খুলনা : খুলনা মহানগরের খালিশপুর থানার চাঞ্চল্যকর কাজী তাসফিন হোসেন তয়ন (৩২) হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৮ মার্চ) খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার এ রায় দেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কাজী মুরাদ, কাজী ফরহাদ হোসেন, মো. জাকির, কাজী রওনাকুল ইসলাম রনো ও সাইফুল। আসামি মো. জাকির পলাতক রয়েছে।

অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার আসামি কাজী সাব্বির হোসেন ফাহিম ও কাজী মাসুমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

গত ২৬ ফেব্রুয়া‌রি একই ট্রাইব্যুনা‌লে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। লোমহর্ষক এ হত্যা মামলার ৫ আসামি জামিনে ছিলেন। ওইদিন আদালতে হাজির হলে তাদের সি-ডব্লিউ মূলে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

নিহত তয়ন খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নী মেইন রোডস্থ কাজী ফেরদৌস হোসেন তোতার ছেলে। ৩২ বছর বয়সী এই স্কুল শিক্ষক‌কে ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হত্যা করে একটি ডোবার মধ্যে লাশ চাপা দিয়ে রাখে। পরে মোবাইল ট্রাকিং করে একজন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। চলতি বছরেই মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলা হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করে (দ্রুত মামলা নং-০১/২০২০)। রাষ্ট্রপ‌ক্ষের কৌঁসলী ছি‌লেন বি‌রেন্দ্র নাথ সাহা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কাজী তাসফিন হোসেন তয়ন (৩২) ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট বিকেলে নিখোঁজ হলে তার পিতা কাজী ফেরদৌস হোসেন তোতা ওই বছর ৮ সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পর খালিশপুর থানা পুলিশ মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক আসামি সাইফুল ইসলাম গাজীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করেন যে, তিনিসহ তার সহযোগীরা ২৮ আগস্ট রাত ৯ থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে তয়নকে হত্যা করে মৃতদেহ বয়রা পুলিশ লাইনের পশ্চিম পাশের মোস্তফা কামালের ডোবা জমির উত্তর পাশের কচুরিপনা ও হোগলা বনের মধ্যে চাপা দিয়ে রেখেছেন। পরে উক্ত ডোবা থেকে পিলার ও বাঁশের সাথে বাঁধা অবস্থায় তয়নের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আসামি সাইফুল ও অপর সহযোগী আসামি কাজী মুরাদ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তারা জানান, তারা দু’জনসহ আরও কয়েকজনে মিলে তয়নকে হত্যা করেন। জবানবন্দিতে কাজী ফরহাদ হোসেন, কাজী সাব্বির হোসেন ফাহিম, কাজী রওনাকুল ইসলাম রনো, কাজী মাসুম ও মো. জাকিরের নাম উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ পরে মো. জাকির ছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় তয়নের বাবা বাদী হয়ে ২০১৮ সালে ৮ সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন (নং-১২)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমান ৭ জনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে উল্লেখিত ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনই আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?