মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০, ০১:২৯:৫৫

ঈদে জঙ্গি হামলার শঙ্কা: কঠোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঈদে জঙ্গি হামলার শঙ্কা: কঠোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঢাকা : করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ যখন কিছুটা উৎসবমুখর, তখন জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সে হিসেবে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীও জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি এক চিঠিতে এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। যদিও পুলিশ জঙ্গি হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় আগেভাগেই সতর্ক থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে। এরপরও করোনা শুরুর পর প্রথম কোরবানির ঈদে কঠোর নিরাপত্তার থাকবে পুলিশ।

পুলিশ সদর দফতর, ডিএমপি, র‌্যাব এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে কঠোর নিরাপত্তার বিষয়ে জানা গেছে।

এর মধ্যেই আরও একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে পরে পুলিশ জানিয়েছে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জঙ্গি হামলার সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি নিয়ে আরও অধিকতর তদন্ত হবে।

এছাড়াও গত শুক্রবার পল্টনে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। একদিন পর একই এলাকা থেকে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। এর চার দিনের মাথায় থানার ভেতরে বোমা বিস্ফোরিত হলো। এগুলো জনমনে জঙ্গি হামলার শঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, বড় ধরনের হামলার শক্তি জঙ্গিদের নেই। আমরা এই আশ্বাসে ভরসা রাখতে চাই।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (অপারেশনস-১) সাইদ তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে- তথাকথিত আইএস আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে কথিত বেঙ্গল উলায়াত ঘোষণা করতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাধারণত বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমেই বেঙ্গল উলায়াত ঘোষণা করা হয়। এ অবস্থায় আইএসর অনুসারী নব্য জেএমবির সদস্যরা বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। এ নিয়ে ডিএমপি সদর দফতরে গত রবিবার বিশেষ সভা হয়েছে।

সভায় ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশের পর পুলিশের সব ইউনিট নিজ নিজ অবস্থানে সতর্ক রয়েছে।

হামলার সময় কী ধরনের অস্ত্র থাকতে পারে সে বিষয়েও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের নিরিখে, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ জঙ্গিসংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া উগ্রপন্থী বা তাদের সংগঠনের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি, পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখা, পুলিশের গাড়ি-স্থাপনা খালি বা পরিত্যক্তভাবে ফেলে না রাখা, পুলিশের ভবনগুলোতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ও পরিচয় নিশ্চিত করা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা, চেকপোস্টে তল্লাশি বাড়ানো, সন্দেহ হলে ব্যাগ-দেহ তল্লাশি করা, সন্দেহজনক এলাকায় ব্লকরেইড করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, দিন-তারিখ না উল্লেখ থাকলেও চিঠিতে হামলার সময়কাল ধরা হয়েছে, সকাল ৬-৭টা অথবা সন্ধ্যা ৭-১০টা। হামলাকারীদের বয়স ১৫-৩০ বছরের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়- সব ইউনিট প্রধানরা যেন এসব নির্দেশনা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন। উগ্রপন্থীদের কার্যক্রম নিয়ে রোববার বিকাল ৩টায় নিজ কার্যালয়ে এক সভা ডাকেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, দেশে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল। ঈদের আগে তারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা জঙ্গিদের নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, উৎসবের সময়ে জঙ্গিরা আগ্রাসী হয়ে ওঠে। তাই আমরা বাড়তি সতর্কতা নিয়ে রাখছে।

এদিকে, জঙ্গী হামলার আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, আমি সব সময়ই বলেছি, জঙ্গি আমরা কন্ট্রোলে এনেছি, কিন্তু একদম সমূলে উৎপাটন করতে পারিনি। ছোট ছোট স্লিপিং সেল এখনও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। সেগুলোর কার্যকারিতা তেমন কিছু নেই।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অত্যন্ত প্রফেশনালি হ্যান্ডেল করেছে। আজকে সেজন্য জঙ্গি বলুন, সন্ত্রাস বলুন, এগুলো থেকে দেশ রেহাই পেয়েছে। কোরবানির ঈদ ও অগাস্ট মাস সামনে রেখে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সকল ইউনিটকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা যেটা শুনেছেন, মাঝে মাঝে গোয়েন্দারা জানাচ্ছে। সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনী যা যা পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেগুলো করছে। পুলিশ, র‌্যাব সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সব সময় তারা (জঙ্গি) চিন্তা করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কিছু করবে, সেখানেও আমাদের নজর রয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্র‌ণে র‌য়ে‌ছে। তবুও ‌দেশ ও জনগ‌ণের স‌র্বোচ্চ সুরক্ষা এবং কল্যা‌ণ নি‌শ্চিত করার ল‌ক্ষ্যে ন্যূনতম কো‌নো আশঙ্কার সু‌যোগ আমরা রাখ‌তে চাই না। অতী‌তে উৎসব বা উপলক্ষ কে‌ন্দ্রিক হামলা আমরা দে‌খে‌ছি। তাই, নিয়‌মিত কার্যক্র‌মের পাশাপা‌শি এবং এর অংশ হি‌সে‌বে আমরা সকল উৎসব এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আগে সং‌শ্লিষ্ট সকল ইউনিট‌কে বাড়‌তি সতর্কতা অবলম্বন কর‌তে নি‌র্দেশনা

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, করোনা মূহুর্তে কিংবা লকডাউনের সময় জাতিসংঘের মহাসচিবও যে আশঙ্কা করেছিলেন জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে আমরাও তেমনটিই দেখছি। এটা জাতিসংঘের মহাসচিবের একটা বক্তব্য ছিল। আমরা দেখেছি এই সময়টাতে জঙ্গিদের যারা বিশ্বাস করে বা যারা লালন পালন করে তারস এই সময়টাতে ইন্টারনেটে জঙ্গিবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেছি।

তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পুলিশ, র‍্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা মনে করি জঙ্গিরা এই ধরনের অকেশন অনুষ্ঠান) গুলোতে কোনও ঘটনা ঘটাতে না পারে, যদিও তাদের নেটওয়ার্ক বা সাংগঠনিক অবস্থার সে অবস্থায় নেই। তারপরেও বিচ্ছিন্নভাবে যাতে কেউ কোনও ঘটনা না ঘটাতে পারে সেজন্যই আমরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষকে এই মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আছে তবে কোনো হুমকি নেই। এইটা কে সামনে রেখে আমরা সদা তৎপর আছি। ঈদ একটি বড় উৎসব ঈদকে সামনে রেখে আমরা দেশের প্রতিটি জায়গায় চেকপোস্ট বসে আছি পাশাপাশি ঢাকা শহর ও ঢাকা শহরের বাই প্রায় প্রতিটি হাটেই আমরা অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছি। অস্থায়ী ক্যাম্পের লক্ষ্য মূলত চারটি। এরমধ্যে প্রথমটি হলো হাটে জাল টাকা রোধ করা। দ্বিতীয়তঃ আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা। তৃতীয়ত যেকোনো ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা থাকলে সেটাকে মোকাবেলা করা এবং চতুর্থ হলো সর্বোপরি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নজরদারি করা। এই চারটা লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত গরুর হাট কেন্দ্রিক আমরা অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে যেটি আমাদের ঈদের পরেও তিন দিন চলবে।

তিনি বলেন, মহাসড়কগুলোতেও চেকপোস্ট বসিয়েছি, চেকপোস্টের পাশাপাশি আমরা অনলাইনেও সতর্ক আছি যেন কেউ গুজব ছড়াতে না পারে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় আপনারা ভীত না হয়ে আনন্দ মুখর হয়ে ঈদকে উদযাপন করবেন। এছাড়াও র‍্যাব যেকোনও হামলা মোকাবেলা করার জন্য পূর্বের যেকোনও সময়ের চেয়েও আরো বেশি সক্ষম।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?