রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০১:১৩:৩৮

নারীদের ধর্ষণ করে ‘শুদ্ধ’ করতেন তিনি!

নারীদের ধর্ষণ করে ‘শুদ্ধ’ করতেন তিনি!

আধ্যাত্মিক ঋষি, জনহিতৈষী, বহুমুখী গায়ক, চৌকস ক্রীড়াবিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, শিল্প নির্দেশক, সংগীত পরিচালক, লেখক, গীতিকার, জীবনীকার...।

ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্টে এই পরিচয় ভারতের স্বঘোষিত ‘ধর্মগুরু’ গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের। অ্যাকাউন্টে আবার নামের আগে ‘ড.’ উপাধিও উল্লেখ করা।

একদিকে সিনেমার হিরো, দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে 'ইনসান'-এর মর্যাদা দেওয়া, রাজনৈতিক ক্ষমতা আর পেশীশক্তি - এই সব কিছুর মিশেলেই প্রায় আড়াই দশক ধরে গড়ে উঠেছে গুরমিত রাম রহিম সিং-এর ভক্তকুল।

নিজের দুই নারী শিষ্যকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে হরিয়ানার কারাগারে বন্দি রয়েছেন ভারতের এই আলোচিত ধর্মগুরু।

গুরমিত সিংহ রাম রহিমের ছিল ধর্ষণ চেম্বার। এর নাম ‘বাবা কি গুফা’ (বাবার গুহা)। বিলাসবহুল আসবাব, রঙ-বেরঙের পর্দায় সাজানো সেই প্রাসাদেই তিনি বসবাস করেন।

গুফায় তাকে ঘিরে থাকেন ২০০ জনেরও বেশি বাছাই করা শিষ্য। তাদের চুল খোলা। পরনে সাদা রঙের পোশাক। এমনই দুই শিষ্যকে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বাবা রাম রহিম।

ডেরায় নারীদের ধর্ষণ করে ‘শুদ্ধ’ করতেন বলে অনুসারীদের কাছে দাবি করতেন রাম রহিম। দুই অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে আদালতে এমনই তথ্য দেন ধর্ষণের শিকার এক নারী। আরও অনেকের মতো এই নারীও রাম রহিমের ডেরার ‘সাধ্বী’ ছিলেন। খবর ট্রিবিউন ইন্ডিয়ার।

ওই নারী আদালতে বলেন, রাম রহিম নারী অনুসারীদের ধর্ষণের আগে বলতেন, তাঁরা পূর্বের কৃতকর্মের জন্য অপবিত্র হয়ে আছেন। তিনি ‘ঈশ্বর’, তাঁর সঙ্গে থাকলে ওই নারীরা ‘শুদ্ধ’ হবেন। পূর্বের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা মিলবে এতে।

আদালতের রায়ে ওই নারীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ধর্ষণের ঘটনার আগে ওই নারীকে কিছু ‘সাধ্বী’ জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে পিতাজি (রাম রহিম) তাঁকে ‘মাফি’ দিয়েছেন কি না? তবে সে সময় তিনি এ প্রশ্নের অর্থ বুঝতে পারেনি। ওই নারীদের কাছে মানে জানতে চাইলে তাঁরা হাসতেন।

১৯৯৯ সালের ২৮ ও ২৯ আগস্ট ওই নারীর ডাক পড়ে রাম রহিমের ডেরায়। সেদিন কী ঘটেছিল, তার বর্ণনা দেন ওই নারী। রাম রহিম তাঁকে ধর্ষণ করেন। আর এর পরেই তিনি বুঝতে পারেন ‘মাফি’র অর্থ কী।

দ্বিতীয়বার যখন রাম রহিমের কক্ষে ওই নারীর ডাক পড়ে, তিনি যেতে চাননি। পরে বাধ্য হয়ে তাঁকে যেতে হয়। তিনি সবকিছু তাঁর ভাইয়ের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন রাম রহিমকে। ওই নারীর ভাইও রাম রহিমের ডেরায় থাকতেন। জবাবে রাম রহিম বলেন, তোমার ভাই এ কথা বিশ্বাস করবে না। আর যদি বিশ্বাস করে, তাহলে তাঁকে হত্যা করা হবে।

ওই নারী বলেন, দ্বিতীয়বারের প্রায় ছয় মাস পর আবারও রাম রহিমের কক্ষে ডাক পড়লে তিনি তাঁর ভাইকে সবকিছু খুলে বলেন। পরে ওই ভাই তাঁর আরও দুই বোনসহ ডেরা থেকে পালিয়ে যান।

এই বিভাগের আরও খবর

  প্রবাসীর স্ত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন পুলিশ সদস্য

  নাচের নামে তরুণীকে গণধর্ষণ: ৪ বখাটে গ্রেফতার

  নারী সাংবাদিকের অশ্লীল ছবি ফেসবুকে যুবক গ্রেপ্তার

  ভাড়ায় প্রেমিকা: ৫০ টাকায় গল্প ২০০ টাকায় চুমু

  টাকার জন্য ৭ বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করালেন স্বামী

  সরকারি অফিসের দুর্নীতি: ৭৫০ টাকার ভ্যাটে ২০০০ টাকা ঘুষ!

  লাইনে দাঁড় করিয়ে রোহিঙ্গা যুবতীদের উলঙ্গ করে নির্যাতন ও ধর্ষণ চালাতে থাকে সৈন্যরা !

  ধর্ষণের পর ঘোষণা দিয়ে গণধর্ষণ, চলল পৈশাচিকতা

  পুলিশ ইন্সপেক্টরের বাসায় চোড়াই বিদ্যুৎ, কতৃপক্ষের খবর নাই

  নারীদের ধর্ষণ করে ‘শুদ্ধ’ করতেন তিনি!

  প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে ৫ বন্ধু মিলে গণধর্ষণ



  0

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?