বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০১৮, ১২:০৫:১৯

ডিপিডিসিতে তোলপাড় : অভিযোগ ছিল ৭ কোটির, তদন্তে বেরিয়েছে ২৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি

ডিপিডিসিতে তোলপাড় : অভিযোগ ছিল ৭ কোটির, তদন্তে বেরিয়েছে ২৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) বনশ্রী ডিভিশনে পুকুর চুরির তালাশ করতে গিয়ে সাগর চুরির প্রমাণ পেয়েছে গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বনশ্রী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মহসিন আব্দুল্লাহসহ ১৪ জন প্রায় সাত কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িত। আর এই ঘটনার সূত্র ধরেই ডিপিডিসিতে আরও ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৮ ইউনিট কারচুপির প্রমান পেয়েছে তদন্ত কমিটি। উল্লিখিত বিদ্যুৎ ইউনিটের সর্বনিন্ম বাজারমূল্য ২৭ কোটি টাকারও বেশি। এ ঘটনায় গত রোববার থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনও তদন্ত শুরু করেছে।

ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী সারোয়ারে কায়ানাতে নূরের নেতৃত্ব গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জিএম, আইসিটি, এনার্জি এন্ড মিটারিং দপ্তর হতে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ৫৫৬ জন গ্রাহকের মোট ৭৭০ বিলিং মাসের ডাটা পর্যালোচনা করা হয়। যেখানে সম্ভাব্য ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৮ ইউনিট কারচুপি হয়েছে মর্মে ধারণা পাওয়া যায়।’ তদন্ত কমিটির একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। এ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র রয়েছে। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, বনশ্রী ডিভিশনে কারচুপি হওয়া উল্লিখিত ইউনিটের মধ্যে ২৪৫ জন গ্রাহকের মধ্যে ১১ লাখ ৭৪ হাজার ১৩১ ইউনিটের মূল্য পরিশোধে সম্পূরক বিল জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান আজ রাতে টেলিফোনে বলেন, তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি বিস্তারিত দেখতে পারি নি। প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানাব আমরা।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা মহসিন আব্দুল্লাহ ছাড়াও অন্যদের মধ্যে রয়েছেন, বনশ্রী ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহনূর রশীদ, মেসার্স মুন্সি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তোফাজ্জল হোসেন, বনশ্রী ডিভিশনের লাইনম্যাট মেট (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর) মীর কামাল হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা। এছাড়াও মেসার্স মুন্সি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মোট দশজন মিটার রিডারকে উল্লিখিত কারচুপির জন্য দায়ী করা হয়েছে।

তবে, ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বনশ্রীর ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের তুলনামূল কম দায়ী করে দায়সার গোছের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সূত্রটির দেওয়া তথ্য মতে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যরা বিষয়টি ঠিকমতো পর্যালোচনা করলে আসল বিষয়টি ধরতে পারবেন বলে তারা মনে করেন। ফলে এই ঘটনায় নতুন আরেকটি তদন্ত কমিটি হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলী (এনওসিএস-সেন্ট্রাল) ছরোয়ারে কায়ানাত মোহাম্মদ নূর বলেন, আমাদের দায়িত্ব ছিল তদন্ত করা। তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?