সোমবার, ২৩ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৬ জুলাই, ২০১৮, ১০:০৬:৩৩

দিন শেষে ওরা সবাই ভয়ংকর

দিন শেষে ওরা সবাই ভয়ংকর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনের বেলা কেউ করেন দর্জিগিরি, কেউ আবার সেলসম্যান। পোশাককর্মী, মুহুরি, জমির দালাল বা ট্যাক্সিক্যাব চালনার কাজেও নিয়োজিত তারা। কিন্তু নিরীহ এই ভিন্ন পেশাজীবীরা রাত নামতেই হয়ে ওঠেন ভয়ংকর। বিভিন্ন ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের টাকা ছিনতাই ও ডাকাতিই টার্গেট সংঘবদ্ধ ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রটির।

কখন ব্যাংকে কে মোটা অঙ্কের টাকা জমা দিচ্ছে তার গোপন খবর পেয়ে যেত চক্রটি। পরে সুযোগ বুঝে টাকা ছিনতাই করতো এই বাহিনী। বাধা পেলেই গুলি করে টাকা নিয়ে পালিয়ে তারা।

এভাবেই গত ১৩ মে গাজীপুর জেলার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার উনিশে টাওয়ারের নিচে রবি ও বিকাশের দুই এজেন্ট আসাদুর রহমান আসাদ (২৮) ও ইকবাল হোসেনকে (৩৯) গুলি করে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায় এরা।

অবশেষে এই চক্রের সাত সদস্য ধরা পড়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হাতে। আটক ব্যক্তিরা হলেন- সাগর বাড়ৈ (৩৫), রুবেল (৩৫), বাবুল ওরফে বাবু (৩৬), আনোয়ার হোসেন (৩৫), স্বপন মাহমুদ (৪৯), ইউসুফ আলী (২৮) ও আনোয়ার হোসেন (২৮)।

উত্তরার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে এই চক্রটি একত্রিত হয়েছে এমন খবরে গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে র‌্যাব-১'এর সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি অস্ত্র ও ১৬টি গুলি জব্দ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ভয়ঙ্কর এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রাকিবুজ্জামান।

রাকিবুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ ছিনতাই ও ডাকাত দলের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির প্রধান সাগর ও তার অন্যান্য সহযোগী চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় রবি ও বিকাশের দুইজন এজেন্টকে গুলি করে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে। তারা গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করার জন্য প্রস্তুতি নিলেও বিভিন্ন কারণে সফল হতে পারেনি।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সাগর পেশায় একজন মুহুরি। ২০০০ সাল থেকে তিনি এই পেশায় নিয়োজিত। ২০১৩ সালে বেনজামিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে বেনজামিনের মাধ্যমে আনোয়ারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এদের হাত ধরেই তিনি ছিনতাইচক্রে যোগ দেন। ২০১৭ সালে আনোয়ার আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহত হলে সাগর ছিনতাই চক্রটির নেতৃত্ব পায়।

সাগর এর আগে ডাকাতি ও ছিনতাই মামলায় দুইবার জেলে যায় এবং প্রথমবার সাত মাস ও দ্বিতীয়বার দুই মাস কারাবাস শেষে জামিনে বেরিয়ে আসে। জেলে থাকাকালীন গ্রেপ্তার সাগরের সঙ্গে ছিনতাই চক্রের অপর সদস্য আনোয়ার ও কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং সাগর তাদেরকে তার চক্রে যোগ দিতে বলে। জেল থেকে বের হয়ে সাগর অনেক ছিনতাই কাজে অংশ নেয় এবং সব কাজেই নেতৃত্ব দেয় সে।

আটক রুবেল পেশায় একজন দর্জি। রাজধানীর নিউমার্কেটের গাউছিয়া মার্কেটে দর্জির কাজ করেন তিনি। ২০১৭ সালে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত ছিনতাই চক্রের সদস্য আনোয়ারের মাধ্যমে গ্রেপ্তার রুবেল এ চক্রে যোগ দেয়।

সাগর ও রুবেল নিজেরা যোগসাজসে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি কিনে ছিনতাই কাজে ব্যবহার করত। এক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহকারী ছিনতাই করা অর্থের দ্বিগুণ টাকা নিত তারা।

র‌্যাবের হাতে আটক বাবুল পেশায় একজন সেলসম্যান। তিনি নিউমার্কেটের চাঁদনী চক মার্কেটে একটি দোকানে কাজ করেন। কাজের সূত্র ধরে একই মার্কেটে কর্মরত রুবেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বাবুলের বিরুদ্ধে আশুলিয়া ও সাভারে একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা থাকায় হাইকোর্টের মুহুরি সাগরের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। সাগর ও রুবেলের মাধ্যমেই সে ছিনতাই চক্রে যোগ দেয়। বাবু ডাকাতি ও ছিনতাই মামলায় মোট ১৭ মাস কারাভোগ করে বলে স্বীকার করে।

অপরদিকে ছিনতাই ও ডাকাতির অভিযোগে আটক আনোয়ার হোসেন পেশায় একজন গাড়িচালক। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকায় আসেন। বিমানবন্দর এলাকায় ভাড়ায় ট্যাক্সিক্যাব চালান তিনি। মাদক ব্যবসার দায়ে একবার জেলে যান এবং সেখানে সাগরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। দুই মাস পর জেল থেকে বের হয়ে আনোয়ার ও সাগরের সঙ্গে ওই ছিনতাইচক্রে যোগ দেন এবং নিয়মিত ছিনতাই কাজে অংশ নেন তিনি।

স্বপন মাহমুদ পেশায় একজন জমির দালাল। ১৯৮৮ সালে আসামী স্বপন ঢাকায় আসেন এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। পরে তিনি সৌদি আরব যান এবং প্রতারণার শিকার হয়ে চার মাস পর দেশে ফিরে আসেন।

২০১৬ সালে সাগর, বাবু ও রুবেলের সঙ্গে ডাকাতি ও ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। ছিনতাই চক্রটির টার্গেট সংগ্রহকারীর কাজ করত স্বপন।

পেশায় পোশাককর্মী ইউসুফ আলী ২০০৮ সালে ঢাকায় আসেন। এর পর সাভারের একটি সোয়েটার গার্মেন্টসে দীর্ঘদিন শ্রমিকের কাজ করেন। পরে তিনি সহকারী ঠিকাদারের কাজ শুরু করেন। কাজের সূত্র ধরে পুলিশের গুলিতে নিহত আনোয়ারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তার মাধ্যমে বেশি উপার্জনের লোভে এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

আনোয়ার হোসেনও পেশায় একজন গার্মেন্টসকর্মী। ২০১০ সালের দিকে নিজ জেলা নীলফামারীতে সোয়েটার ফ্যাক্টরি খোলেন তিনি। ২০১৩ সালে বিভিন্ন কারণে তার ফ্যাক্টরি আট থেকে নয় মাস বন্ধ থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফের ঢাকায় চলে আসেন তিনি।

পরে আবারও সাভারের একটি সোয়েটার কারখানায় চাকরি নেন। চাকরির সূত্র ধরে ইউসুফের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ইউসুফের মাধ্যমেই আনোয়ার ও সাগরের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তাদের মাধ্যমে তিনি ছিনতাই চক্রে যোগ দেন।

বিভিন্ন পেশার এই ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার জানান।

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?