মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০১৯, ১১:১২:১২

বন গবেষণা ইনস্টিটিউট লুটপাটে চারজনের সিন্ডিকেট

বন গবেষণা ইনস্টিটিউট লুটপাটে চারজনের সিন্ডিকেট

ঢাকা: চট্টগ্রাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে গবেষণার নামে সরকারি কোষাগারের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত ভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। ফিল্ড এ্যাসিসট্যান্ট অরুণের নেতৃত্বে চারজনের একটি সিন্ডিকেট সরকারি এসব অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

এসব অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া না হলে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে বিএফআরআই’র ডুলাহাজারা স্টেশনের ইনচার্জ উত্তম কুমার চৌধুরী। গত ৯ অক্টোবর তিনি বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক খুরশিদা আক্তারের সামনে আত্মহত্যার এমন হুমকি দেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে শাস্তি স্বরূপ ডুলহাজারা স্টেশন থেকে প্রত্যাহার করে প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
গবেষণার নামে প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ  প্রকল্প পরিচালক হাসিনা মরিয়ম, এস আর ও আরিফুল হক, রিসার্চ অফিসার মিজানুল হক, ও ক্ষেত্র সহকারী অরুণ কুমার বড়ুয়া মিলে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে আত্মসাৎ করেছেন মর্মে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে গত মাসে মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত টিম এবং চলতি মাসে আরো একটি তদন্ত টিম সরেজমিন তদন্তে আসে। পৃথক সময়ে আসা দুটি তদন্ত টিম সরেজমিন তদন্ত শেষে গবেষণার নামে সরকারি টাকা লোপাটের প্রমাণ পেলেও এ নিয়ে এখনো কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কাগজে কলমে গবেষণা খাতে খরচ হয়েছে মর্মে বিল ভাউচার তৈরি করলেও বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে গবেষণার কোনো কাজই হয়নি। যা গতমাসে তদন্তে আসা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজগর আলীর চোখে ধরা পড়ে। তিনি ইছামতি কেন্দ্রে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে তাকে যে সব গাছ দেখানো হয়েছে তা অনেক আগের বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান। এ ছাড়া ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ কেন্দ্রে  কয়েকশ চারা বার বার দেখিয়ে বিল ভাউচার করে অর্থ লোপাট করা হয়েছে।  

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে গবেষণার জন্য প্ল্যান্ট প্রোপাগেশ ইউনিট (পিপিইউ) তৈরির নামে গাজীপুর শালনা বীজ বাগান কেন্দ্র ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ডুলাহাজারা কেন্দ্রে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং কাগজে কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে। বাস্তবে এসব অর্থের বিপরীতে আদৌ প্ল্যান্ট প্রোপাগেশ ইউনিট সরকারি নিয়ম মতে তৈরি করা হয়নি। অথচ বরাদ্দের এসব অর্থ কাজ শেষ হওয়ার আগেই পরিশোধ করা হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরের গত ৬ মাসে ৫৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা গবেষণা খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে যার কোনো কাজ বাস্তবে কোনো কেন্দ্র হয়নি। এ ছাড়া একই অর্থ বছরে শ্রমিক মজুরী বাবদ সাড়ে তিন লাখ, রাস্তা মেরামত ৩ লাখ, বাইসাইকেল ক্রয় ১ লাখ ৬৮ হাজার, ডিজিটাল ব্যালেন্স ক্রয় ৪ লাখ, এয়ারকুলার ক্রয় ২ লাখ ৫০ হাজার, কম্পিউটার ক্রয় ৬ লাখ ৪৫ হাজার, রিফ্রিজারেটর ক্রয় ৫০ হাজার টাকাসহ প্রায় কোটি টাকার মালামাল ক্রয় করিয়াছেন মর্মে জুন সমাপনীতে চূড়ান্ত হিসাব প্রদান করেছেন। অথচ বাস্তবে এসব মালামাল ক্রয় করা হয়নি।

এ ছাড়া যে বীজ ক্রয় করা হয়েছে দেখিয়ে তা অনেক পুরনো এবং ব্যবহার অনুপযোগী। পলিথিন ক্রয়ের জন্য কাগজে কলমে কোটেশন টেন্ডার দেখানো হলেও বাস্তবে কোন প্রতিষ্ঠান কোটেশন টেন্ডারে অংশ নেননি। ক্ষেত্র সহকারী অরুন বড়ুযা নিজেই এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কোটেশন টেন্ডার তৈরি করে নিজেই মালামাল গুলো ক্রয় করেন। যা দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া এয়ারকুলার সরবরাহে স্মার্ট পাওয়ার এবং পলিথিন সরবরাহে কৃপা-১ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে কোটেশন টেন্ডারে অংশ গ্রহনকারী দেখালেও প্রকৃতপক্ষে তারা বিষয়টি জানেনই না বলে এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেন।

অরুণ মূলত একজন ক্ষেত্র সহকারী। অফিসের বাইরে মাঠেই তার কাজ হলেও সার্বক্ষনিক তাকে প্রকল্প পরিচালক হাসিনা মরিয়মের রুমেই পাওয়া যায়। অরুণকে দিয়েই সমস্ত অনিয়মের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন হাসিনা মরিয়ম। তবে অরুণ কুমার বড়ুয়া বলেন, তিনি কোন অনিয়ম করছেন না। ম্যাডামের (হাসিনা মরিয়ম) নির্দেশেই তিনি কাজ করছেন।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব গত বছরের ১১ নভেম্বর গবেষণা ইনষ্টিটিউটে এক ঝটিকা সফরে এসে এসব অপকর্ম দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রকল্প পরিচালক হাসিনা মরিয়ম এসব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নিয়ম মেনেই সব কাজ করা হচ্ছে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?