বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৮ মার্চ, ২০১৯, ০২:০২:২২

জনতা ব্যাংক কেলেঙ্কারি : পরিচালকদের দুষলেন আবুল বারকাত

জনতা ব্যাংক কেলেঙ্কারি : পরিচালকদের দুষলেন আবুল বারকাত

ঢাকা : রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে কেলেঙ্কারির জন্য পরিচালকদের দায়ী করেছেন অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক বলেন, পাঁচ বছর জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলাম।

এর পর থেকে জনতা ব্যাংকের কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে আমার দায় রয়েছে বলে সবাই ধারণা করেন। যদিও ব্যাংকগুলোর পরিচালকরা সবাই আমলাদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের কোনো এখতিয়ার থাকে না। পরিচালক পদের জন্য আমলা ও রাজনীতিবিদরা তদবির করেন। সরকারি ব্যাংকের পর্ষদে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের প্রত্যেকের ক্ষমতা সমান।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ আয়োজিত ‘ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার’ ইএসসি সংলাপ-১ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে সংলাপে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএম আকাশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শফিক উজ জামান। সংলাপে ‘বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ; সমস্যা ও তার প্রতিকার’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

প্রবন্ধে জনতা ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয়ের বিষয়টি বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৭ সাল শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা। অথচ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ১৭ হাজার ২২৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালে নিট ৯৫৫ কোটি টাকা মুনাফায় ছিল জনতা ব্যাংক। কিন্তু ২০১৮ সালে ব্যাংকটি রেকর্ড ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

এ অনুষ্ঠানেই অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন ড. আবুল বারকাত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। খেলাপি ঋণের এ সংস্কৃতি ভাঙা প্রয়োজন। সংসদীয় কমিটিতে ব্যাংকের জন্য আলাদা আদালত গঠনের প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু তা পাস হয়নি।

নিজের লেখা বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জনতা ব্যাংকের সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ দুভাবে ধনী হতে পারে। একটি উপায় হচ্ছে, নিজে কোনো সম্পদ তৈরি না করে অন্যের সৃষ্ট সম্পদ দখল করে। আমাদের দেশে বর্তমানে অন্যের সম্পদ দখল করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, যাকে রেন্ট সিকিং বলা হয়। এর মাধ্যমে দেশে কালো অর্থনীতির ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রেন্ট সিকাররা সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করছেন এবং অর্থনীতিতে বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শফিক উজ জামান বলেন, বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। দেশ থেকে গত ১০ বছরে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ দেখে এটি স্পষ্ট যে, খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। খেলাপি ঋণ দেশের উন্নয়নে একটি প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে এ সমস্যার সমাধান করা অপরিহার্য।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতার কারণে প্রচুর অর্থ পাচার হচ্ছে বলে জানান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এ অর্থ যদি দেশে কালো টাকা হিসেবেও থাকত, তবুও দেশের অর্থনীতি লাভবান হতো। বাংলাদেশের ২০১০ ও ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ থেকে আমরা দেখতে পাই, ২০১০ সালে শীর্ষ ৫ শতাংশ উপার্জনকারীর আয় অতিদরিদ্র ৫ শতাংশের আয়ের ৩২ গুণ ছিল, যা ২০১৬ সালে ১২১ গুণে উন্নীত হয়।

খেলাপি ঋণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য সবচেয়ে বড় ব্যাধি উল্লেখ করে খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ব্যাংকের পক্ষে ১ শতাংশ খেলাপি ঋণের ধাক্কা সামাল দেয়া সম্ভব। তবে এর থেকে বেশি হলে তা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক। ফারমার্স ব্যাংক নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কারণ কেউ ফারমার্স ব্যাংককে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। বর্তমানে সরকারি ব্যাংকে বিশাল লোকসান হচ্ছে। এর ফলে সরকারকে প্রতি বছর বিশাল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, এটি বেআইনি নয়, কিন্তু অনৈতিক।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?