শনিবার, ২৩ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৯, ০৩:৩৩:২১

কেনাকাটাতেই মূল অনিয়ম ও দুর্নীতি

কেনাকাটাতেই মূল অনিয়ম ও দুর্নীতি

ঢাকা : দুর্নীতি ও লুটপাটে জর্জরিত দেশের স্বাস্থ্য খাত। কেনাকাটা, নিয়োগ, পদায়ন, বদলি- এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে দুর্নীতি হয় না। তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্রই দুর্নীতির অভিন্ন চিত্র।

এক শ্রেণীর অসাধু কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারদের লোভের কাছে জিম্মি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ স্বাস্থ্য খাতের সব বিভাগ। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং নানা উদ্যোগ নিলেও চরম দুর্নীতির কারণে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না জনগণ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানেও স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অন্যদিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে বলে টিআইবির এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাস্থ্য খাতে প্রধান দুর্নীতি হয় কেনাকাটায়। এরপর রয়েছে এমএসআর (অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত ক্রয়), বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য। চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগ বন্ধ থাকায় সম্প্রতি শুরু হয়েছে আউটসোর্সিং বাণিজ্য।

এছাড়া নিয়োগের সময় উৎসবে পরিণত হয় নিয়োগ বাণিজ্য। এসব দুর্নীতি রীতিমতো ওপেন সিক্রেট। তবে গত দেড় দশকে সবচেয়ে বেশি হরিলুট চলছে কেনাকাটা আর নিয়োগের ক্ষেত্রে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতিসহ সব ধরনের কেনাকাটার ক্ষেত্রে ‘পুকুর চুরি’ স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এমনকি যন্ত্রপাতি ছাড়া ফাঁকা বাক্স দিয়ে টাকা তুলে নেয়া, নতুন দামে পুরাতন যন্ত্র সরবরাহ, একই যন্ত্র প্রতি বছর কেনা, ভবন নির্মাণের আগেই যন্ত্রপাতি ক্রয় করা- এমন অভিযোগ প্রায়ই উঠছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারা দেশে জেলা ও বিভাগীয় শহরের অসংখ্য হাসপাতালে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি কেনা হয় প্রয়োজন যাচাই না করেই। যার বেশিরভাগই বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকে। আবার মেশিন কেনার পর বছর পেরিয়ে গেলেও বাক্স খোলা হয়নি- এমন উদাহরণও কম নয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ প্রক্রিয়ার জড়িত থাকে। গোটা প্রক্রিয়ার সমন্বয় করেন ঠিকাদার এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে কর্মরত রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা একাধিক ব্যক্তি।

এদিকে স্বাস্থ্য খাতের ১১টি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে তুলে দেন দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরে দুর্নীতি রোধে সংস্থাটির ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

এছাড়া দুদক এ বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতির অনুসন্ধানে ১৯ ধরনের কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয় গাইবান্ধার সিভিল সার্জন, সিলেটের সিভিল সার্জন, বগুড়ার সিভিল সার্জন, বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

চিঠি দেয়া হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও।

পাশপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আবদুর রশিদ, সহকারী পরিচালক (বাজেট) ডা. আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনে দুদক।

এসব প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এর আগে কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু বলব না। কিন্তু আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছি। যেখানেই দুর্নীতি পাওয়া যাবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চলতি বছরের প্রথমদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কেরানি আবজাল হোসেনের হাজার কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ মিলেছে। অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে দুদক। তবে ওই একজনকে নিয়েই দুদক ব্যস্ত হয়ে পড়ায় অধিদফতরের বিভিন্ন দফতরে ঘাপটি মেরে থাকা অসংখ্য আবজাল পার পেয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আবজাল একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী।

তার যদি হাজার কোটি টাকা থাকে তাহলে যেসব কর্মকর্তার স্বাক্ষরে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার কেনাকাটা হয় তারা কত টাকার মালিক? তাদের বিষয়ে কেন খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে না? তিনি বলেন, দুর্নীতির গোড়া ঠিক রেখে ডালপালা ছেঁটে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা হোসেনের দুর্নীতির ফিরিস্তি দীর্ঘ হলেও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি কেনার নামে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৬ এপ্রিল মামলা করে দুদক।

মামলার অপর ৮ আসামি হলেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক আবদুর রশীদ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র সাহা, সাবেক অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, কলেজের হিসাবরক্ষক হুররমা আক্তার খুকী, কক্সবাজার জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুকোমল বড়ুয়া, একই দফতরের সাবেক এসএএস সুপার সুরজিত রায় দাশ, পংকজ কুমার বৈদ্য এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক উচ্চমান সহকারী খায়রুল আলম।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কার্যাদেশ অনুসারে যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই ভুয়া ও ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি বিভিন্ন দেশের লেবেল লাগিয়ে কক্সবাজার মেডিকেলে সরবরাহ করে রুবিনা হোসেনের মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। পরে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল জমা দিয়ে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

ওইসব যন্ত্রপাতি এখনও অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। পরিচালক আবদুর রশীদসহ অন্য কর্মকর্তারাও এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকায় তাদের আসামি করা হচ্ছে। দুদক জানিয়েছে, আবজালের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম মামলা। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে তাতে মামলার সংখ্যা হবে অনেক।

অধিদফতর ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুনে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহে টেন্ডারে বিশ্বখ্যাত জাপান ব্র্যান্ড ক্যাননের অথরাইজেশন লেটার জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান কাগজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে বিষয়টি সিপিটিইউ (সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট) পর্যন্ত গড়ায়। পরে তদন্তে দেখা যায়, এই বিপুল টাকা লুটপাটের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা, হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোটবদ্ধ হয়েছে। পরে টেন্ডারটি বাতিল করে পুনরাদেশ দেয়া হয়।

২০১৮ সালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে পাঠানো যন্ত্রপাতি ক্রয়ের তালিকা সমন্ব^য় করে একটি তালিকা প্রণয়ন করে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরেস ডিপার্টমেন্ট (সিএমএসডি)। তালিকায় প্রতিটি যন্ত্রের দাম প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়। ওই তালিকায় ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ ধরনের ৮৪টি মেশিন কেনার কথা উল্লেখ ছিল।

যার মধ্যে ৭৯টি মেশিনেই অতিরিক্ত দাম ধরা হয়। ওই দামে যন্ত্রপাতি কেনা সরকারের গচ্চা যেত প্রায় শত কোটি টাকা। সেই তালিকায় এসপিওয়াই ইন্ট্রাঅপারেটিভ ইমেজিং সিস্টেম নামে একটি সার্জিক্যাল মেশিনের ১৪টি ইউনিট ক্রয়ের কথা ছিল। যার প্রতিটি মেশিনের দাম ধরা হয়েছিল সাড়ে ৬ কোটি টাকা। অথচ ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ওই মেশিনের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল আড়াই কোটি টাকা। মেশিনপ্রতি অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে ৫৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

২০১৬ সালে ৮টি হাসপাতালের দুর্নীতি অনুসন্ধানে নামে দুদক। এর মধ্যে মুগদা ৫০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহে ৩ বছরের জন্য ৪০০ কোটি টাকার টেন্ডারের কাগজপত্র, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহসংক্রান্ত বিল-ভাউচার, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০০ কোটি টাকার নথি, গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ কোটি টাকার কাগজপত্র, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩০ কোটি টাকার কেনাকাটাসংক্রান্ত তথ্য, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১০ কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য চাওয়া হয়। এছাড়া যন্ত্রাংশ সরবরাহ না করেই ঢামেক হাসপাতাল থেকে ২৭ কোটি টাকা তুলে নেয়ার বিবরণও চাওয়া হয়।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালে এমআরআই মেশিন ক্রয় বাবদ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৩০ জুন ১৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। অথচ হাসপাতালে কোনো এমআরআই মেশিন সরবরাহ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বিল তুলে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন অধ্যাপক ডা. এসএম ইকবাল হোসেন। তিনি স্বীকার করেন, ওই সময় কোনো এমআরআই মেশিন সরবরাহ করা হয়নি।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে গোপালগঞ্জ আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা, আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট মৌলভীবাজার হাসপাতালে সাড়ে তিন কোটি, পাঁচশ’ শয্যাবিশিষ্ট মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ১ কোটি ২৮ লাখ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। কিন্তু এসব অর্থের যৌক্তিক ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি। ২০১২-১৩ অর্থবছরে রংপুর মেডিকেল কলেজে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ডেন্টাল চেয়ার ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় সরবরাহ করা হয়। পাঁচটি ডেন্টাল চেয়ার সরবরাহ করে পৌনে দুই কোটি টাকা লুট করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এ নিয়ে একটি মামলা করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যন্ত্রপাতি মেরামত না করেই টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।

২০১১-১২ অর্থবছরে একই হাসপাতালে সাড়ে ৭ হাজার টাকার বেবি স্ক্যানার মেশিন মেরামতের জন্য ৪ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা এবং ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় ক্রয় করা কার্ডিয়াক তিনটি মনিটরের যন্ত্রাংশ পরিবর্তন দেখিয়ে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। একইভাবে ৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় ক্রয় করা ফটোথেরাপি মেশিনের দুটি পার্টস বদল করতে ৬ লাখ ৪০০ টাকা খরচ দেখানো হয়।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে রংপুর সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে সাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্রে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কিউসোর্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে যন্ত্রপাতি সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ২৯ মে কার্যাদেশ পাওয়ার পরদিনই জার্মানি, ব্রাজিল, কোরিয়া, ইউএসএ, তাইওয়ান, পোল্যান্ড, চীন এবং জাপানের তৈরি বিভিন্ন আইটেমের ২৪ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯০ টাকার যন্ত্রপাতি সরবরাহ দেখিয়ে বিল তুলে নেয়া হয়। একই দরপত্রে আরও ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন আইটেমের চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্র কেনার ক্ষেত্রে যে লুটপাট হয়েছে তা চমকে দেয়ার মতো। ১০-১২ হাজার টাকা দামের অটোস্কোপ মেশিন ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায়, ১৫ হাজার টাকার ব্লাড ওয়ার্মার মেশিন ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকায়, ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা দামের এমআরআই মেশিন ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়।

স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় এ ব্যাপক দুর্নীতি হ্রাসে চলতি বছর স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয় তালিকাও সংশোধন করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হোসেন ও অধিফদতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের তত্ত্বাবধানে এ তালিকা সংশোধন করা হয়।

২৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সংক্রান্ত এক সভায় সর্বস্তরে মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে বিদ্যমান ক্রয় তালিকা পুনর্মূল্যায়ন ও হালনাগাদের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুসারে একটি কমিটি মূল্য তালিকায় বিভিন্ন উন্নত দেশের আধুনিক যন্ত্রপাতি স্পেসিফিকেশন করার পাশাপাশি ২০১৯-২০ সালের ক্রয়সংক্রান্ত তালিকা পুনর্মূল্যায়ন ও যাচাই-বাছাই করে সম্ভাব্য প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করে। ৩৮০ কোটি টাকার ক্রয় তালিকা পুনর্মূল্যায়নের পর সেখান থেকে কিছু যন্ত্রপাতি বাদ দেয়া হয়।

তবে ক্রয় তালিকার সংশোধনে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ক্রয় তালিকা সংশোধনের যে উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে তা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তবে এভাবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা সম্ভব নয়। ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যতদিন ঠিকাদার ও তাদের সুবিধাভোগীরা যুক্ত থাকবে ততদিন দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না।

সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেষ্ট। স্বাস্থ্য খাত দুর্নীতিমুক্ত করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ক্রয় তালিকা সংশোধন সেই প্রক্রিয়ার একটি অংশ। ইতিমধ্যে বেশকিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাত দুর্নীতিমুক্ত করতে এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। যুগান্তর

এই বিভাগের আরও খবর

  চাচা শ্বশুরের লালসার শিকার গৃহবধূ ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা!

  কেনাকাটায় দুর্নীতি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১২ জনকে তলব

  ১১৮ জনের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক

  ধর্ষণের সময় কলা বাগানেই জ্ঞান হারায় স্কুলছাত্রী

  এক সন্তানের জননীকে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ

  দুই বন্ধুর ধর্ষণ শেষ, তৃতীয় জনকে লাথি মারল তরুণী

  বন্ধুকে বাজারে পাঠিয়ে তার স্ত্রীকে গণধর্ষণ!

  স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে তরুণীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ

  হোটেল কক্ষে কলেজ ছাত্রীসহ যুবলীগ নেতা আটক

  ঢাকার ফ্ল্যাটে তরুণীকে টানা ধর্ষণের অভিযোগ, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

  রংপুরে নারীসহ চট্টগ্রামের এএসপি আটক, অতঃপর...

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?