সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৯ আগস্ট, ২০১৯, ১১:৩২:৩০

চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশের ঘুষিতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশের ঘুষিতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি এলাকায় সোনারগাঁ থানার এক এএসআই ও কনস্টেবলের মারধরে আব্দুল বাদশা (৪৮) নামে তেল ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার বিকেলে ওই ব্যবসায়ী মারধরে আহত হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী নয়াপুর-পঞ্চমীঘাট সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তোজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী।

রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলছিল।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখি উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে ও স্থানীয় মসজিদের সভাপতি আব্দুল বাদশা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিন তেলের ব্যবসা করে আসছেন। সোমবার বিকেলে সোনারগাঁ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক(এএসআই) মাসুদ আলম তার দোকানে গিয়ে ব্যবসার কাগজপত্র দেখার নাম করে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে আসে।

তারা জানান, শুক্রবার সাদা পোশাকে ওই এএসআই কনস্টেবল তুষারকে নিয়ে পুনরায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিহত আব্দুল বাদশাহর ছেলে মিঠু দোকানে বসা ছিল।

তারা বলেন, এসময় মিঠুর কাছে এএসআই মাসুদ ও কনস্টেবল তুষার কাগজপত্র দেখতে চান। মিঠু কাগজপত্র তার বাবার কাছে রয়েছে বলে জানান। মিঠু তার বাবাকে ফোন দিলে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশার আসতে দেরি হয়। পুলিশ সদস্যরা পুনরায় ওই ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী আব্দুল বাদশা ও ছেলে মিঠুকে পুলিশ সদস্যরা চড় থাপ্পর ও মারধর করে।

স্থানীয়রা বলেন, আব্দুল বাদশার বুকে এএসআই মাসুদ ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ওই ব্যবসায়ী মারা যান।

আব্দুল বাদশার ছেলে মিঠু জানান, একজন সাদা পোশাকে ও তুষার নামের একজন পোশাক পরে আমাদের দোকানে যান। এসময় আমার কাছে তারা কাগজপত্র দেখতে চান। আমি কাগজপত্র বাবার কাছে রয়েছে বলে জানালে আমার কাছে টাকা চান। পরে আমি বাবাকে ফোন দিলে ওই সময়ে বাবার কাছেও তারা টাকা চাইলে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আমাকে ও বাবাকে চড়-থাপ্পর মারে। বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয় আমাদের আত্মীয় স্বজনরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এএসআই মাসুদ আলম জানান, আমি নিয়মিত ডিউটি পালনের জন্য কাঁচপুর যাওয়ার পথে নয়াপুর এলাকায় সন্দেহবশত তেলের দোকানের মালিক বাদশা জিজ্ঞেসাবাদ করার এক পর্যায়ে অসুস্থতা বোধ করেন। পরে তাকে তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে যান। ওখানে তার সঙ্গে আমার কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া ওই দোকান থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সত্য নয়।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, ব্যবসায়ী মৃত্যুর ঘটনা শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?