শনিবার, ৩০ মে ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০, ১১:২৫:২০

নগদ প্রণোদনা: ১ ফোন নম্বর ব্যবহার করে ৯৯ জনের নাম

নগদ প্রণোদনা: ১ ফোন নম্বর ব্যবহার করে ৯৯ জনের নাম

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাই এর বিরুদ্ধে নগদ প্রণোদনার তালিকায় একই ব্যক্তির নামে একাধিক নম্বর ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মাঝে একটি নম্বরে ৯৯ জন, একটিতে ৯৭ জন, একটিতে ৬৫ জন ও একটিতে ৪৫ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। নম্বরগুলো চেয়ারম্যানের আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠজন বলে জানা গেছে। আবার একটি ওয়ার্ডে কোনো হিন্দু পরিবার বসবাস না করলেও সেই ওয়ার্ডের তালিকায় তিনজন হিন্দু ব্যক্তির নামও রয়েছে। রয়েছে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তির নাম। আবার স্বামী-স্ত্রীর নামও এসেছে তালিকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুড়িয়াউক ইউনিয়নের নগদ টাকা পাওয়ার তালিকায় ১১৭৬ জনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাঝে ৩০/৩৫টি নম্বর একাধিক নামের সাথে প্রদান করা হয়েছে। ০১৯৪৪৬০৫১৯৩ নম্বরে দেওয়া হয়েছে ৯৯ জনের নাম। চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই আক্তার মিয়ার ০১৭৪৪১৪৯২৩৪ ব্যবহার করা হয়েছে ৯৭ জনের নামে। চেয়ারম্যানের চাচা শাকিল হক এর ০১৭৮৬৩৭৪৩৯১ নম্বর দেওয়া হয়েছে ৬৫ জনের নামে। চেয়ারম্যানের গোত্রের নবীর মিয়ার ০১৭৬৬৩৮০২৮৪ নম্বর দেওয়া হয়েছে ৪৫ জনের নামে। ১০/১২ জন করে নাম ব্যবহার করা হয়েছে অন্তত ৩০টি নম্বরে।

এদিকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো হিন্দু লোকের বসবাস না থাকলেও তালিকার ৯৫৮, ৯৬৫ ও ৯৭৩ সিরিয়ালের তিনটি নাম হিন্দু ব্যক্তি। আবার ওই ইউনিয়নের বিত্তশালী আক্কল আলীর ছেলে সাবউদ্দিন এর নাম এসেছে তালিকায়। আরো অনেক বিত্তশালীর নাম পাওয়া গেছে তালিকায়। তালিকার ১৬১ ও ১৬৩ নম্বর লোক দুজন স্বামী-স্ত্রী। তালিকার ৯৫১, ৮৫৫, ৮৫৩, ৮৫২, ৮৫১ ও ৭৮৪ নম্বর এর ছয়জন একই পরিবারের।

মুড়িয়াউক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মলাই জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং এর নির্দেশে তিনি ১১৭৬ জনের মধ্যে আমরা ৭৩০ জনের নাম মেইল করি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তার সিএ, স্টাফ দুর্লভ ও পিআইও অফিসের মঈন উদ্দিন মিলে অবশিষ্ট তালিকা করে। পরে ইউএনও এবং তার সিএর করোনা হলে তারা আইসোলেশনে যান। ফলে তালিকার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আর তালিকাটি ছিল খসড়া। আমার কোনো স্বাক্ষর নেই। কোনো টাকাও দেওয়া হয়নি। মূলত আমার প্রতিপক্ষ আমাকে ঘায়েল করতে খসড়া তালিকা নিয়ে অপপ্রচার করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার সরকারি নম্বরটি কেউ রিসিভ করেননি। লাখাই উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ জানান, শুধু মুড়িয়াউক ইউনিয়নই নয় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নেই তালিকায় এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তালিকা প্রণয়নে আমাদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। চেয়ারম্যান মেম্বাররা নিজেদের লোকের নাম ও এক নম্বরে অনেক নাম ব্যবহার করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষক প্রেরণ করে যাচাই করলেও অনেক অনিয়ম রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

  তিন বছর ধরে ৩ অসহায়ের চাল তুলেছেন আ.লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য

  পিরোজপুরে ভাইকে কুপিয়ে বোনকে গণধর্ষণ

  গভীর রাতে মেয়েকে ৫ ধ’র্ষকের হাতে তুলে দিলেন মা

  জামালপুরে ৪৭ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

  চাল আত্মসাৎ: চেয়ারম্যানসহ একই ইউপির ৭ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত

  ত্রাণের চাল চুরি: ২ নারীসহ ৩ ইউপি সদস্য বরখাস্ত

  ২৫০০ টাকার প্রণোদনা: এক একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতেই ৫০০ টাকা করে নিলেন চেয়ারম্যান!

  দরিদ্রদের জন্য সরকারি বরাদ্দ: ৪০ জনের নামের পাশে এক মেম্বারের নম্বর

  নগদ প্রণোদনা: ১ ফোন নম্বর ব্যবহার করে ৯৯ জনের নাম

  খাগড়াছড়িতে চাল-গম চুরির অভিযোগে আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

  ‘ভিক্ষুক’ তালিকায় পরিবারের ১৩ সদস্য, ডিলারশিপ হারালেন সেই আ.লীগ নেতা

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?