শনিবার, ০৮ আগস্ট ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০, ১১:৪৫:৫৪

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১৯ লাখ টাকা নিলেন এসআই, অভিযোগ ব্যবসায়ীর

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১৯ লাখ টাকা নিলেন এসআই, অভিযোগ ব্যবসায়ীর

লালমনিরহাট : ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অবৈধভাবে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই সেলিম রেজা লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় এবং এএসআই আতাউল গণি প্রধান লালমনিরহাট সদর থানায় কর্মরত। এসআই সেলিম রেজাকে সহযোগিতা করায় এএসআই আতাউল গণিকে মামলার আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগী সুজিত কুমার ভদ্র লালমনিরহাটের মাছ ও পরিবহন ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, এসআই সেলিম ও এএসআই আতাউলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার পর থেকে আমাকে ও ঘটনার সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২১ জুলাই রংপুর ডিআইজি অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি আমি।

সুজিত কুমার বলেন, আমি শহরের গোশালা বাজারে মাছের ব্যবসা করি। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবসা রয়েছে। ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় কর্মরত অবস্থায় এসআই সেলিম রেজা দুই দফায় আমার কাছ থেকে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা আদায় করেন। ওই সময় সঙ্গে ছিলেন তার সোর্স আবুল কালাম ও এএসআই আতাউল গণি। জীবনের ভয়ে আমি এসআই সেলিমকে টাকা দিয়ে দিই। এরপর এসআই সেলিম আবারও টাকা নেয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকেন। বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করি।

লিখিত অভিযোগে সুজিত উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাতে দুই কর্মচারীসহ আমাকে রাস্তা থেকে আটক করে খামারবাড়িতে নিয়ে মাদক উদ্ধারের নাটক সাজান এসআই সেলিম রেজা। ওই দিন সেলিমের দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকে তার সোর্স কালাম মাটি খুঁড়ে পাঁচ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং গরুর খামার থেকে সেলিম নিজে ৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। এরপর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রথমে ২০ এবং পরে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। জীবনের ভয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাইয়ের মাধ্যমে নগদ আট লাখ টাকা দিলে আমি ও আমার কর্মচারীদের ছেড়ে দিয়ে চলে যান এসআই সেলিমসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা। পরে বাকি সাত লাখ টাকার জন্য চাপ দিলে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা দিতে পারব না বললে হুমকি দিয়ে চলে যান এসআই সেলিম।

চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার তিস্তা সড়ক সেতুর টোলপ্লাজার চেকপোস্টে আমার ভাড়ায়চালিত পাথরবোঝাই ট্রাকে গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ট্রাকসহ চালককে আটক করেন এসআই সেলিম রেজা। পরে চালকের মোবাইল থেকে আমাকে ফোন দিয়ে বলা হয়, এবার ২০ লাখ টাকা নিয়ে না এলে আমাকে মামলার আসামি করে গ্রেফতারের পর ক্রসফায়ার দেয়া হবে। টাকা দিলে ট্রাক ও চালককে রাতেই ছেড়ে দেবে। আগের ঘটনার মতো কোনো মামলা হবে না। মামলার আসামি হওয়ার ভয়ে ওই দিন মধ্যরাতে ম্যানেজার আলাউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে চলে যাই সদর উপজেলার কদমতলার মুচির বাড়ির সামনে। সেখানে যাওয়া মাত্রই আমার মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল জব্দ করে আট লাখ টাকা দাবি করেন। দ্বিতীয় দফায় আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এনে ওই দিন ভোররাতে এসআই সেলিম রেজার সহযোগী পুলিশ কর্মকর্তার হাতে শহরের পুরাতন সিনেমা হলের সামনে টাকা তুলে দেন আমার স্ত্রী। এরপর আবারও টাকা দাবি করেন সেলিম রেজা।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলে এসআই সেলিমকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এরপর সদর সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিকুল ইসলামকে অভিযোগের তদন্তভার দেয়া হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি। এর পরই এসআই সেলিম রেজা ও এএসআই আতাউল গণি প্রধানের নামে ১৬ জুন দুটি বিভাগীয় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) আতিকুল হক। বিভাগীয় মামলায় সাক্ষ্য দিতে গেলে দুই দফায় সুজিত ও অন্যদের হুমকি দেন সেলিম রেজা। ফলে ২১ জুলাই ডিআইজির সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তা চেয়ে একটি অভিযোগ করেন সুজিত।

থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুজিতের নামে ইতোপূর্বে লালমনিরহাট সদর থানায় মাদক আইনে তিনটি মামলা ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থানায় একটি মাদক মামলা করা হয়েছিল। প্রত্যেকটি মামলায় সুজিতকে পলাতক আসামি দেখানো হয়েছিল। তার মধ্যে লালমনিরহাট সদর থানার তিন মামলার চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তারা সুজিতের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করলে অব্যাহতি দেন আদালত। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থানার মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন আদালত।

ব্যবসায়ী সুজিত বলেন, টাকার চেয়ে জীবন অনেক বড়। আমি দুবার জীবন বাঁচাতে এসআই সেলিম রেজাকে টাকা দিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আমার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলা হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এখন আবার আমাকে হুমকি দিচ্ছেন তিনি। বিষয়টি ডিআইজিকে জানিয়েছি। তার সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানা পুলিশের ওসি মাহফুজুল আলম বলেন, সুজিতের একটি মামলা তদন্ত করেছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় অব্যাহতি দিয়েছি।

এসব বিষয়ে এসআই সেলিম রেজা চৌধুরী বলেন, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা নেইনি এবং তাকে হুমকি দেইনি। সুজিত কুমার ভদ্র চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে।

এএসআই আতাউল গণি প্রধান বলেন, এসব ঘটনায় আমি জড়িত নই। এর বাইরে আর কোনও কথা বলতে চাই না।

সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। সে আলোকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। মামলার বিচারকাজ চলছে। অপরাধ অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

  মেরিন ড্রাইভকে ডেথ জোন বানিয়েছিলেন ওসি প্রদীপ

  ২ হাজার কোটি টাকা পাচার: ফরিদপুর শহর আ’ লীগ সভাপতি গ্রেফতার

  ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১৯ লাখ টাকা নিলেন এসআই, অভিযোগ ব্যবসায়ীর

  মোরেলগঞ্জে চোরাই সন্দেহে ৩৫ বস্তা চাল জব্দ

  প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার পথে গণধর্ষণের শিকার কিশোরী

  মাস্ক পরতে বলায় পিস্তল দেখিয়ে পুলিশ সদস্যকে পেটালেন যুবলীগ নেতা

  চাকরির আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে অফিসে ডেকে ‘ধর্ষণ’

  নকল মাস্ক সরবরাহ: সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী শারমিন জাহান গ্রেফতার

  ৯৩ বস্তা সরকারি চাল পাচারের সময় দুই আ.লীগ নেতা গ্রেফতার

  আলোচিত যুবলীগ নেত্রী শিল্পী অধরা!

  ২৪ লাখ টাকায় চাকরি, জয়েন করতে গিয়ে জানলেন নিয়োগপত্র ভুয়া

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?