বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১১:১২:৫৪

সড়ক আন্দোলনের বেশিরভাগ দাবি এখনো অসম্পূর্ণ

সড়ক আন্দোলনের বেশিরভাগ দাবি এখনো অসম্পূর্ণ

ঢাকা : পাল্লা দিয়ে রাস্তার দখল নিতে গিয়ে বাস চাপায় মৃত্যুবরণ করে দুই কলেজশিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আবদুল করিম রাজীব। তবে প্রাণক্ষয়ের বিনিময়েও ঢাকার রাস্তায় শৃঙ্খলা আসেনি। উল্টো তাদের মৃত্যুর জেরে সংগঠিত আন্দোলনের চাপে পাওয়া নতুন সড়ক পরিবহন আইনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারার প্রয়োগ আগামী জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিবহন নেতাদের উসকে দেওয়া সর্বশেষ পরিবহন ধর্মঘটের জেরে সড়কে আইনের বাস্তবায়নে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

জিল্লুর রহমান উড়াল সেতুর ঢালে বিমানবন্দর সড়কের পাশে গেলো বছরের ২৯ জুলাই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ওই দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের জেরে খুদে শিক্ষার্থীরাই শৃঙ্খলা আনতে সড়কে নেমেছিল। টানা আট দিন তাদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অভিযানে মন্ত্রী-সংসদ সদস্য-পুলিশরাও ধরা পড়েন। ওই আন্দোলনে সরকারের কাছে শিক্ষার্থীদের সাতটি দাবির পাঁচটিই অপূর্ণ রয়ে গেছে। এ অবস্থায় আজ রবিবার দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার রায় শুনতে উন্মুখ হয়ে আছে দেশবাসী। প্রায় ১৬ মাসের ব্যবধানে এ রায় হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞরা বলেছেন, এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার ছোঁয়া লাগেনি। ওই হত্যাকাণ্ডের জেরে গত বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৭টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিধানের বিষয়টি নিশ্চিত করার অগ্রগতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। নিরাপদ সড়কের জন্য ১১১টি সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে, তার বাস্তবায়ন শুধু সভার সিদ্ধান্তেই ঘুরছে।

অন্যদিকে বাসচাপায় মীম ও রাজীব হত্যাকাণ্ডের পর ৯টি দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয় সরকার। তারপর শিক্ষার্থীরা ঘরে ফেরে। ওই আন্দোলনের জেরে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ জাতীয় সংসদে অনুমোদন হয় গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর। অনুমোদনের ১৪ মাস পর গত ১ নভেম্বর থেকে এটি কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় গত ২২ অক্টোবর। তবে এক সপ্তাহ করে দুই দফায় দুই সপ্তাহ তার প্রয়োগ পেছানো হয়।

এরপর প্রয়োগ শুরু হলে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। একপর্যায়ে গত ২০ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে পরিবহন নেতাদের বৈঠকে ৩০ জুন পর্যন্ত কয়েকটি ধারার প্রয়োগ স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুসারে বিতর্কিত আচরণের জন্য সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ক্ষমা চান। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ছিল, বেপরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।

এরপর সড়কে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং বেপরোয়া গাড়ি চালনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড রেখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুমোদন করা হয়। তবে আইনে এ অপরাধে জরিমানা পাঁচ লাখ টাকা কমানো এবং এসংক্রান্ত মামলা জামিনযোগ্য করার জন্য পরিবহন নেতারা পাল্টা দাবি করেছেন সরকারের কাছে। সে সময়ে দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়া বাসের চালক, সহকারী, মালিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জাবালে নূর পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করেছিল বিআরটিএ। তবে জাবালে নূর আবার ঢাকার সড়কে ভিন্ন ভিন্ন কম্পানির নামে চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আজকের প্রশ্ন

ঢাকার সিটি নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হলে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আপনিও কি তাই মনে করেন?