মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ০৭:৩০:১৬

দেশ ভয়ঙ্করভাবে দুর্বৃত্তায়নের চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে : সুলতানা কামাল

দেশ ভয়ঙ্করভাবে দুর্বৃত্তায়নের চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে : সুলতানা কামাল

ঢাকা : বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, এত বড় ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ আমরা স্বাধীন করেছি, সেই দেশটিকে আজকে আবার দেখছি- ভয়ঙ্করভাবে একটা দুর্বৃত্তায়নের চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর তোপখানায় বিএমএ মিলনায়তনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রাণ-প্রকৃতিবিনাশী সকল প্রকল্প বাতিলসহ ৫ দফা দাবিতে’ জাতীয় কনভেনশনে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

কনভেনশনের প্রথম অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন এমিরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ। দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা।

সুলতানা কামাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নাম দিয়ে যুদ্ধ করলাম। আমরা শুধু একটা ভূখণ্ড দখলের জন্য যুদ্ধ করিনি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, আমাদের সামনে কতগুলো নির্দিষ্ট নৈতিক নির্দেশনা ছিল। আমরা ভেবেছিলাম এই দেশটা সব মানুষের দেশ হবে। সেখানে প্রাণ, প্রকৃতি, মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো সুরক্ষিত থাকবে।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে দাঁড়িয়েও আমাদের উপলব্ধি করতে হচ্ছে- সেসবের সুরাহা আমরা করতে পারিনি। সেই জায়গা থেকে আমরা নিজেরাই সরে গেছি বা সেই জায়গায় পৌঁছানোর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি। এখন সেই বাধা অপসারণ করার একটা নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। এই দায়িত্ব আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে নৈকট্যবোধ করি, আনুগত্যবোধ করি তাদের। এই সরকার জনবান্ধব ও নারীবান্ধব অবস্থান থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা এখন শুধু ব্যবসা কিংবা ব্যবসায়ীবান্ধব সরকারে পরিণত হয়েছে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। এই বিপদ মোকাবেলার জন্য উপকূল হচ্ছে সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই উপকূল অঞ্চলে জলবায়ু মোকাবেলার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী না করে সরকার করছে উল্টো কাজ।
তিনি বলেন, সরকার বিশ্ব দরবারে গিয়ে বলছে জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকির কথা। আর দেশের মধ্যে নদী, বন, মানুষবিনাশী সকল প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশেকে জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে আরও ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে নিক্ষেপ করছে। পুরো উপকূলজুড়ে কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত প্রায় ২২টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়োজন করা হচ্ছে।

অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, এমন এক সময়ে আমাদের কনভেনশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশে উন্নয়নের একটা বিশাল জোয়ার চলছে, উন্নয়নের জোয়ার একটা ভয়ঙ্কর জোয়ারে পরিণত হয়েছে। বিষাক্ত জোয়ারে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নের নামে বাংলাদেশে সরকার উল্টো যাত্রা করছে।
তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশে গণতন্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকতো তাহলে আমাদের এত দীর্ঘ আন্দোলনের দরকার হতো না। কারণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষ মত, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তত্ত্ব ও বিশেষজ্ঞ মত- সেগুলো গুরুত্ব পায়। সেগুলো গুরুত্ব পেলে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প বহু আগেই বাতিল হতো, জনবহুল দেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল হতো।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?