শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৯, ০১:২৩:২১

দক্ষিণ আফ্রিকায় ২ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকায় ২ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

ঢাকা : দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই বাংলাদেশিসহ আরও তিনজন।

স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ইস্টার্নক্যাপ প্রভিন্সের কেপটাউন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মাউসবেরী এলাকায় একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কাপাশপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম মোল্লার ছেলে মো. আলম মোল্লা (৩৪) ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাইছকুড়ি গ্রামের শহর আলী মাঝির ছেলে মো. উজ্জল মাঝি (৩২)। আলম মোল্লার হানিফা (৩) নামে এক ছেলে ও আফসা (৬) নামে এক মেয়ে রয়েছে।

জানা যায়, রবিবার বাংলাদেশি মালিকানাধীন ওই দোকানে পাঁচ বাংলাদেশিসহ ছয়জন অবস্থান করছিলেন। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবি করে। এ সময় চাঁদা দিতে না চাইলে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে আলম মোল্লা ও উজ্জ্বল মাঝি এবং অজ্ঞাত পরিচয় বিদেশি মারা যান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিনজন।

স্থানীয়রা জানান, সন্ত্রাসীরা দোকানের টাকা-পয়সা এবং মালামাল কোনো কিছু নিয়ে যায়নি। অনেকের ধারণা, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ বলছেন, রবিবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন বখাটের সঙ্গে পণ্যের দাম ও ভাংতি টাকা নিয়ে দোকানিদের বাকবিতণ্ডা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনার জের ধরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বন্দুকধারীদের এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি প্রশাসন।

নিহত আলম মোল্লার চাচাতো চাচা ফোরহাদ হোসেন বলেন, আলমরা তিন বোন, এক ভাই। ওর মা অনেক আগেই মারা গেছেন। আর বৃদ্ধ বাবা বিছানায় পরে আছেন। তাদের কিছু ফসলি জমি ছিল। সেই জমি বিক্রি করে ও ঋণ করে পরিবার আলমকে দেড় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠায়। আলম দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরের সুপার মার্কেটের একটি দোকানে চাকরি করতেন। ওই দোকানটিতে পাঁচজন কমর্চারী ছিল। রবিবার রাতে কিছু সন্ত্রাসী দোকানে ডুকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে আলম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

আলম মোল্লার স্ত্রী রুমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে-মেয়ে কাকে বাবা বলে ডাকবে? আমার সংসার কীভাবে চলবে?

এদিকে উজ্জল মাঝির বড় ভাই মারুফ মাঝি বলেন, উজ্জল প্রায় ১১ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে দোকান চালান। কয়েক দিন ধরে সেখানকার চাঁদাবাজরা তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দেয়ায় উজ্জলকে দোকানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। একই সময় আলমকেও গুলি করে। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?