সোমবার, ২৬ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ০৪:৩২:৩৫

মতবিরোধ হলে কৌশলে মিটিয়ে ফেলুন

মতবিরোধ হলে কৌশলে মিটিয়ে ফেলুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক : মতবিরোধ সামলানোর চেয়ে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন অনেকে। কারণ তাতে ঝামেলা কম। অনেকে আবার, বিশেষ করে যাদের ধৈর্য ও যুক্তির ভাঁড়ারে টান আছে, তারা মতবিরোধের আভাসেই ঝগড়া করে ফেলেন বা নিজেকে ব্যাক সিটে নিয়ে গিয়ে যাবতীয় দায়ভার চাপিয়ে দেন অন্য মানুষটির উপর।

তবে মনোবিদদের মতে, মতবিরোধ সামলাতে গেলে আগে খতিয়ে দেখতে হয় তা তৈরির কারণ। আর কারণের সঙ্গে তা সামাল দিতে গিয়ে কোন কোন পদক্ষেপ করছেন কে, তাও বুঝে নেওয়াটা খুবই জরুরি। আসলে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের উপর নির্ভর করে তৈরি হয় বিভিন্ন পরিস্থিতি।

এই পরিস্থিতিকে মেপেই চিকিৎসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, কিংবা কেউ যদি নিজে থেকেই চান, মতবিরোধের পরবর্তী সমস্যা মোকাবিলা করবেন একা, তার ক্ষেত্রেও এই সব পরিস্থিতি মাথায় রেখে এগোতে হয়।

কেমন সে সব?

অশান্তি হবে বলে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দেন কেউ। যেন এ রকম কোনও ব্যাপারই ঘটেনি।

অন্যকে দোষারোপ করেন।

দোষারোপ করেন না, কিন্তু এমন ভাব করেন যাতে অন্য জন অপরাধবোধে ভুগতে শুরু করেন।

যার সঙ্গে মতবিরোধ তাকে হেয় করেন।

অন্যজনকে জোর করে নিজের মতে চালানোর চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি খারাপ হবে বলে কথা বাড়ান না। কিন্তু কষ্ট পান।

মতের অমিল আছে বলেই ভাবেন না।

ধরে নেন ভাল সম্পর্কের অর্থ সবেতেই একমত হওয়া। কাজেই বিরোধ হচ্ছে মানে সম্পর্ক ঠিক নেই।

দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপের খেলায় মাতবেন না।

‘এইসব ভাবনার কোনওটাই ঠিক নয়।’ জানালেন মনোচিকিৎসক জিতুমন্যু মাইতি। আসলে এভাবে এগোলে ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়ে যায়। ঠিক সমাধানে পৌঁছনো যায় না। আর তাতে টানাপড়েন তৈরি হয় সম্পর্কের মধ্যে। কখনও সম্পর্ক ভেঙেও যায়। মতবিরোধ সামলানোর কিছু অমোঘ নিদান দিচ্ছেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। দেখে নিন সে সব।

মতবিরোধ হলে উত্তেজিত না হয়ে শুনুন অন্যজন কী বলছেন। তার বক্তব্য ভাল করে বোঝার আগে নিজে মুখ খুলবেন না।

অপছন্দের কথা হলে চেষ্টা করুন রেগে না যেতে। খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু কষ্ট করে হলেও মেনে নিন। কারণ আবেগে ভেসে গেলে যুক্তি হারিয়ে যাবে।

কথা বলার আগে একটু সময় দিন নিজেকে। এই সময় সব রকম অবুঝপনা ও একগুঁয়েমি ঝেড়ে ফেলে অন্য মানুষটির দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করুন। প্ররোচনা থাকা সত্ত্বেও মাথা ঠান্ডা হওয়ার আগে মুখ খুলবেন না।

ভাল করে ভেবে দেখুন আপনি যেভাবে বিষয়টাকে দেখছেন অন্যজন কী কী কারণে সেভাবে দেখতে পারছেন না। ভুলটা তার হচ্ছে না আপনার? নাকি দুজনেই নিজের নিজের জায়গায় ঠিক?

সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তাড়াহুড়ো করবেন না। যতক্ষণ না ব্যাপারটাকে নিরপেক্ষভাবে ভেবে উঠতে পারবেন, সময় নিন।

নির্দিষ্ট সময় এবং জায়গা ঠিক করে তার সঙ্গে দেখা করে বলুন আপনি কী ভাবছেন এবং কী চাইছেন।

রাগ বা অভিমান দিয়ে নয়, পরিস্থিতি সামলান বুদ্ধি খরচ করে।

তার মাথা তখনও ঠান্ডা না হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনিও মাথা গরম করলে ঝগড়া লাগার প্রবল সম্ভাবনা। কাজেই আগে থেকে ঠিক করে রাখুন, যাই হোক না কেন প্ররোচনায় পা দেবেন না।

তার বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করুন। সব শুনে–বুঝে নিজের বক্তব্য বলুন। কোন রাস্তায় সমাধান হবে তা দু’জনের কাছেই স্পষ্ট হওয়া দরকার।

আপনার তরফে ভুল হলে সেটুকুর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন। ক্ষমা চাইলে মানুষ ছোট হয়ে যায় এ রকম ভাবনা যদি থাকে, আপনার কিন্তু কাউন্সেলিং দরকার। তার ভুলে সমস্যা হলে খোলা মনে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। তাকে অপরাধী করবেন না।

দু’জন যুক্তিশীল মানুষের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতবিরোধ হলে প্রায় সময়ই সেখান থেকে তৃতীয় একটা মত বেরিয়ে আসে। সেটা এক বড় পাওয়া। কাজেই এই ধরনের মতবিরোধকে স্বাগত জানান।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?