রবিবার, ৩১ মে ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৭ অক্টোবর, ২০১৯, ০২:০৯:৪১

কেমন হবে অফিসের পোশাক?

কেমন হবে অফিসের পোশাক?

লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রার্থনাগার ছাড়া অন্য যে স্থানটিকে পূণ্যস্থান বলা হয়, সেটি হলো কর্মক্ষেত্র বা অফিস। আর অফিসের নিয়মকানুন-এর পাশাপাশি রয়েছে পোশাক। অফিসে সাধারণত ৩ ধরণের পোশাকরীতি দেখা যায়।

১) নির্ধারিত ডিজাইন ও রং (ইউনিফর্ম), যেখানে অফিসের প্রত্যেকের এক বা একাধিক নির্দিষ্ট পদের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শ্রমিকের জন্য সুনির্দিষ্ট ডিজাইন ও রঙের পোশাক নির্ধারণ করা থাকে।

২) শুধু পোশাকের ধরণ নির্ধারিত থাকে (রং ও ডিজাইন নির্ধারিত নয়), সুনির্দিষ্ট ইউনিফর্ম বলে কিছু নেই কিন্তু কিছু নীতিমালা দেওয়া আছে, যা মেনে চলতে হবে।

৩) যেমন খুশি তেমন, যেখানে কোনো কিছুই বলা নেই। সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি বুঝে ঋতুভেদে আপনার পোশাক নির্বাচনের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। ইউনিফর্ম না থাকলে অফিসে উগ্র রঙের, অতি উজ্জ্বল, চাকচিক্যময় কোনো পোশাক পরা উচিত নয়। শালীনতা বজায় রেখে পোশাক নির্বাচন করা উচিত। শর্টস, স্লিভলেস, লার্জ ভি-নেক বা পাতলা পোশাক নির্বাচন করা উচিত নয়। এছাড়াও হাই হিল বা হাই নেক এবং যেসব জুতা পড়লে হাঁটার সময় শব্দ হয়, সেসব জুতা এড়িয়ে চলা উচিত।


প্রতিষ্ঠানের ধরণ-প্রচলিত সংস্কৃতি ও অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দৃষ্টিনন্দন পোশাক নির্বাচনকরা উচিত। পুরুষদের ক্ষেত্রে অফিসে হাফ হাতা শার্ট, জিনসের প্যান্ট ও স্যান্ডেল এড়িয়ে চলা ভালো। স্যান্ডেল যদি একান্ত পড়তেই হয় তাহলে যতটা সম্ভব পা ঢাকা থাকে এমন স্যান্ডেল পরা উচিত। অফিসে সাধারণত হালকা রঙের শার্ট ও গাঢ় রঙের প্যান্টপরা উচিত। উগ্র রং বাদ দিয়ে সাদা, নীল, সবুজ, কালো, ধূসর এবং এই রং গুলোর শেড দিয়ে শার্ট এবং কালো, নেভি ব্লু, বাদামি, ধূসর এবং এই ধরণের রঙের প্যান্ট পড়ুন।

আর চটজলদি দরকার পড়লে স্যুট, কোট, টাই যোগ করে জরুরি সময়ে তৈরি হয়ে নেওয়া যায়। ব্যতিক্রম- এখন অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে আরামদায়ক ও কাজ করতে সহায়ক যেকোনো পোশাক অনুমোদন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী মিটিংয়ে স্যুট-কোট-টাই বা ফরমাল পোশাক ব্যবহার করা হয় আর টাই ছাড়া শুধু ব্লেজার দিয়ে স্মার্ট-ক্যাজুয়াল পরেন কেউ কেউ। দু’টিই পরিস্থিতিভেদে বেশ মানানসই।

ব্যক্তিত্ব প্রকাশে পোশাক নির্বাচনে দুই স্তরে মোট ছয়টি বিষয় প্রাথমিকভাবে মাথায় রাখা হয়। প্রথমত: প্রতিষ্ঠানের ধরণ, প্রচলিত সংস্কৃতি ও আপনার অবস্থান এই তিনটি বিষয় ভালোভাবে বুঝে নিন এবং পোশাকে এর সমন্বয় কিভাবে ঘটানো যায় তা ভাবুন। দ্বিতীয়ত: বর্তমানে প্রচলিত ফ্যাশন অনুযায়ী আপনার দেহের গঠন ও ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই এবং ঋতু অনুযায়ী এমন পোশাক পছন্দ করুন যা ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়।

এখন ফ্যাশন বিষয়ক অনুষ্ঠান, ম্যাগাজিন, লেখালেখি, বই ইত্যাদি কোনোটিরই কমতি নেই। পোশাকের স্টাইল-হালচাল সময়ের ব্যবধানে এবং ঋতুভেদে প্রতিনিয়ত পাল্টায়। সেদিকে নজর রাখুন এবং আপ-টু-ডেট থাকুন। অফিসে দামি পোশাক পড়তেই পারেন, কিন্তু দামের ব্যাপারটি মাথায় না রেখে পোশাকটি কতটা রুচিসম্মত এবং আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই তা আগে বিবেচনা করুন। পোশাক পুরনো হতে পারে, কিন্তু কখনো যেন নোংরা না হয়। ঝকঝকে-পরিষ্কার, মাড় দেওয়া (পোশাক বুঝে)-ইস্ত্রি করা, পরিপাটি পোশাক ব্যবহার করুন। কাজের সঙ্গে মানানসই ও আরামদায়ক পোশাক পড়ুন। কাজের চেয়ে পোশাক যেন বেশি গুরুত্ব না পায়। পোশাক যেন আপনার সহকর্মীদের সঙ্গে এমন ব্যবধান তৈরি করে না দেয় যা দল গত কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

পারির্পাশ্বিক এসব খুঁটিনাটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। আপনার পদের অন্য সহকর্মীরা কী ধরণের পোশাক পড়ছেন খেয়াল করুন। পোশাক নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামবেন না। নিজের ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরিতে পোশাক নির্বাচন করুন। পোশাকের সঙ্গে আছে আরও নানা অনুষঙ্গ; যেমন- অলংকার, ঘড়ি, জুতা, সুগন্ধি, চুলের স্টাইল, মেকআপ সহ অনেক কিছু। সঙ্গে থাকে আরো ব্যবহার্য জিনিসপত্র; যেমন- ব্যাগ, ক্যাপ, সানগ্লাস, ছাতা ইত্যাদি। এগুলো সঠিকভাবে নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চুলের কাটিং, অলংকার ও সুগন্ধি। এসব কিছুই পোশাকের সঙ্গে রুচিশীল এবং আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হওয়া দরকার। পর পর দুই দিন একই পোশাক পড়া এড়িয়ে চলুন। এতে যেমন নতুনত্ব আছে, তেমনি আছে বৈচিত্র্য। একেক দিন একেক পোশাক, এভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরুন। নিজের পোশাক নির্বাচন করতে অন্যকে অনুসরণ করবেন না। বরং নিজস্ব স্টাইল তৈরি করুন। এমনভাবে করুন যাতে অন্যরা আপনাকে অনুসরণ করে। এ প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করতে হলে চলিত ফ্যাশন, আপনার প্রতিষ্ঠানের ধরণ ও আপনাকে কেমন লাগবে এই তিনটি বিষয়ে আপনাকে দক্ষ হতে হবে।

নতুন পোশাক পরে আপনাকে কেমন লাগছে তার সঠিক মতামত সংগ্রহ করুন। সে অনুযায়ী পরবর্তী পোশাক নির্বাচন করুন। পোশাক নির্বাচনে প্রয়োজন বোধে প্রশিক্ষণও নিতে পারেন যা আপনার দেহের গঠন ও ত্বকের রং অনুযায়ী অফিস পোশাক, পার্টি পোশাক, ভ্রমণ পোশাক, ঋতুভেদে ভিন্ন রকম পোশাক ইত্যাদি বিষয়ে আপনাকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?