সোমবার, ১৮ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর, ২০১৯, ০৫:২৪:০১

ব্যক্তিত্ব উন্নয়নে করণীয়

ব্যক্তিত্ব উন্নয়নে করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আমরা সব সময় নিজেকে অন্যের চেয়ে বুদ্ধিমান, যোগ্য ও শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরার জন্য সচেষ্ট থাকি। কারণ বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রতিযোগিতার যুগ। নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে না পারলে আপনি অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়বেন। এই প্রচেষ্টায় আপনি কখনও কখনও সফল হচ্ছেন।

কিন্তু যখন নিজেকে নিয়ে একান্তে ভাবছেন তখন আপনি নিজেও স্বীকার করবেন যে আপনার ব্যক্তিত্ব উন্নয়নের যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে। আপনার এমন অনেক গুণ আছে যা আপনি কাজে লাগাননি, অনেক কৌশল রয়েছে যা আপনি আয়ত্ব করতে পারেননি। মেধার অনেক ক্ষেত্রকে বিকশিত করতে পারেননি। তাই প্রতিনিয়ত নিজের উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। আর এই পরিবর্তনের লক্ষ্য থাকে আরও ভাল মানুষ হওয়া। অমরা চাই আমাদের ব্যক্তিত্ব আরও আকর্ষণীয় হোক, প্রভাব বলয় আরও বাড়ুক। কিছু ভুল ভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমাদের ব্যক্তিত্ব আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

লক্ষ্য স্থির করুন

আমরা প্রতিনিয়ত কিছু কাজ করতে চাই। আমরা মনে করি যে এই কাজগুলো করতে হবে। কিন্তু দেখা যায় যে সে কাজগুলো করা হয় না, জমতে থাকে বা আমাদের মধ্যে এমন আলস্য রয়েছে যা কাজকে পিছিয়ে দেয়। হয়তো আমরা ব্যস্ত, অথবা ক্লান্ত বা সময়মত কাজটি করতে মন চাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের আসল সমস্যা হচেছ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের অভাব। তাই কাজ করার আগে আমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। লক্ষ্য সবসময় মানসিক প্রেরণা যোগায়, আপনার শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা যায়, লক্ষ্য যদি খুব ভাসা ভাসা হয় তাহলে তা আদৌ কার্যকরী হয় না। বাস্তবতার সাথে লক্ষ্যের সঙ্গতি না থাকলে তা ফলপ্রসু হয় না। আর লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা আবশ্যক।

নিজেকে ভালোবাসুন

আপনি নিজেকে যখন পছন্দ করতে শুরু করবেন তখনি আপনি আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল হয়ে উঠবেন। দৈনন্দিন কাজের বাধাগুলো আপনার কাছে সহনীয় মনে হবে। তাই নিজের সম্পর্কে ধারণাকে উন্নত করতে সচেষ্ট হোন। আপনার কাজের প্রশংসাসূচক চিঠি, নোট, যে কোন প্রসংশাপত্র, মানপত্র, সার্টিফিকেট এগুলোকে সযত্নে একটি ফাইলে রেখে দিন। কোন কারণে কখনও হতাশা সৃস্টি হলে বা মন খারাপ লাগলে এই কাগজগুলোর দিকে তাকান। আপনি উদ্দীপনা ফিরে পাবেন। নেতিবাচক চিন্তাকে পুরোপুরি বাদ দিন। নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে না ভেবে নিজের কাজ করার ক্ষমতা ও শক্তি সম্পর্কে বেশি ভাবুন।

প্রয়োজনে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপিত করুন। নিজের অবয়বে কিছু পরিবর্তন, গোঁফ, দাড়ি বা নতুন হেয়ার স্টাইল, নতুন পোশাক পরিচ্ছদ এমন কি নতুন শেইপের শাইনিং জুতো ইত্যাদি আপনার ব্যক্তিত্বের প্রকাশকে উন্নততর করতে পারে।

সময়মত কাজ করুন

হাতে সময় থাকতেই কাজ শুরু করুন। সময়ের কাজ সময়ে শেষ না করলে একদিকে যেমন প্রতিদিন কিছু কিছু করে জমতে থাকে তেমনি অন্যদিকে হঠাৎ আপনার বস এমন একটি জরুরী কাজ আপনাকে ধরিয়ে দিয়েছেন যে সেটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে। ফলে টেবিলে কাজের স্তুপ হয়ে উঠে। যা মনকে খিটমিট করে তোলে। অফিসে উপস্থিতি, মিটিং, অ্যাপয়েন্ট সব ব্যাপারে সময়ানুবর্তী হোন। কোথাও দেরিতে উপস্থিত হওয়া নিজের সম্পর্কে অন্যদের মনে নেতিবাচক বার্তা দেয়।

সময় বাঁচানোর জন্য আপনার কর্মদিবসগুলোতে এক ঘন্টা কম ঘুমান। ঘুম থেকে প্রতি কর্মদিবসে এক ঘন্টা বাঁচাতে পারলে বছর শেষে আপনি পুরো একটি মাস পেয়ে যাচ্ছেন। আর এই অতিরিক্ত কর্মমাস যোগ করতে পারায় আপনি আপনার অনেক অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারবেন। যা অন্যদের চেয়ে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন

রাগ ও ক্রোধ ব্যক্তিত্ব বিকাশের অন্তরায়। রাগের সময় মানব মস্তিস্ক গামা লেভেলে অবস্থান করে। এ সময় ব্রেনের সার্কিটগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়। এজন্য ক্রোধের কারণগুলো খুঁজে বের করুন। সেগুলো দূর করার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন, দেখবেন রাগ বা উত্তেজনা কমে গেছে।

জ্ঞানচর্চা করুন

আত্মনির্মাণ বা আত্মআবিস্কারের জন্য ব্যস্ততার ফাঁকে নিয়মিত পড়াশুনা করুন। আত্মউন্নয়নমূলক, শরীরচর্চা, খাবার, ব্যায়াম, চিকিৎসা, সাহিত্যবিষয়ক বইপত্র সংগ্রহ করে পড়ুন। সফল মানুষদের জীবনী পড়ুন, সে সাথে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও আর্তমানবতার সেবামূলক কর্মকান্ডে নিজকে যুক্ত রাখুন। কারণ জীবন সম্পর্কিত জ্ঞানই আপনার চলার পথকে সহজ করতে পারে।

ধ্যানচর্চা করুন

আত্মনিমঘ্ন হওয়া ছাড়া নিজের অমিত সম্ভাবনাকে আবিস্কার করা যায় না। তাই প্রতি রাতে শোয়ার আগে বিছানায় গিয়ে চুপচাপ বসুন। ধ্যানের প্রক্রিয়ায় দেহ মনকে প্রশান্ত করুন। সারাদিনের কাজের পর্যালোচনা করুন। ভুলগুলোর জন্য নিজের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। ভালো কাজের জন্য নিজকে ধন্যবাদ দিন। নিজের যোগ্যতার প্রতি নতুনভাবে বিশ্বাস স্থাপন করুন। তারপর ঘুমিয়ে পড়ুন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পুনরায় ধ্যানচর্চা করুন। সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা করুন। নতুন বিশ্বাসে নতুন দিনের কাজ শুরু করুন। আপনার ব্যক্তিত্ব যেমন উন্নত হবে তেমনি আপনি ধীরে ধীরে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহন করবেন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?