শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ১১:৪৬:৫৪

ডায়াবেটিস রোগীর যাপিতজীবন ও খাবার-দাবার

ডায়াবেটিস রোগীর যাপিতজীবন ও খাবার-দাবার

ডায়াবেটিস রোগটির সঙ্গে এখন কম-বেশি সবাই পরিচিত। এটি এমন একটি রোগ যার কারণে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, অন্ধ হয়ে যাওয়া, পায়ে পচন, এমনকি পা কেটে ফেলা পর্যন্ত লাগতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডায়াবেটিস এখন একটি মহামারী রোগ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার লক্ষণীয় বিষয়-

যে খাবারগুলো খাওয়া যাবে না

সবজির মধ্যে আলু, কচুরমুখী, ওলকচু খুব কম খাবেন। চর্বিযুক্ত খাবার যেমন গরু, খাসির মাংস, চিংড়ি মাছ, মগজ, খাসির কলিজা খাবেন না। বেশি তৈলাক্ত খাবার (বাটার, মেয়নেজ, ক্রিম) চিনিযুক্ত মিষ্টি খাবার, আইসক্রিম, চকলেট, কেক, পিজ্জা, পাস্তা, বার্গার, বিস্কিট, সাদা পাউরুটি, কুকিস, ডুবো তেলে ভাজা খাবার, টিনজাত ও প্রক্রিয়াজাত করা, টেস্টিং সল্ট, ফ্রোজেন যে কোনো খাবার এবং যে কোনো ধরনের অ্যানার্জি ড্রিংকস, সফটড্রিংকস এবং চিনিযুক্ত দুধ, চা ও কফি, কোনো ধরনের অ্যালকোহল পান করা যাবে না।

শারীরিক ব্যায়াম

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত। এই রোগটির স্বাস্থ্য সমস্যা বিলম্বিত করতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫-৬০ মিনিট হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। এতে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমতে সাহায্য করবে। এছাড়া হৃদরোগের সম্ভাবনা কমাতেও সাহায্য করবে। হাঁটার ক্ষেত্রে টানা ৪৫-৫০ মিনিট একটানা ঘাম ঝরিয়ে হাঁটতে হবে। এছাড়া এমন ব্যায়াম বা পরিশ্রমও করতে হবে, যাতে শরীর থেকে ঘাম ঝরে। হঠাৎ খুব কঠিন ব্যায়াম শুরু না করে প্রথমে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। ইয়োগা, মেডিটেশন ইত্যাদি ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে খুব উপকারী। দেহের ওজন বাড়তে দেয়া যাবে না। যাদের ওজন ইতিমধ্যে বেড়েছে, তাদের ওজন কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই বছরে কমপক্ষে ২ বার ডাক্তারের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আসতে হবে। এছাড়া যে কোনো সময় যদি কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হোন সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের কারণ। এছাড়া কিডনির সমস্যাও হতে পারে। তাই নিয়মিত প্রেসার চেক, কোলস্টেরল লেভেল, ব্লাড গ্লুকোজ ও ঐনঅ১প টেস্ট ইত্যাদি করাতে হবে। প্রতি বছর চোখের টেস্ট, কিডনি, নিউরোপ্যাথি ও পায়ের টেস্ট বিশেষ করে আলসার ও নার্ভ ড্যামেজের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকা

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় আর এতে ডায়াবেটিস রোগীরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। এতে তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। হয়তো দেখা গেল মানসিক চাপে ভালো ঘুম হল না, ব্যায়াম করতে ভুলে গেলেন বা ঠিকমতো খাবার খেলেন না বা ওষুধ খেতে ভুলে যেতে পারেন। তাই যে কোনো উপায়েই মানসিক দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। ইয়োগা, মেডিটেশন বা ডিপ ব্রিদিং ব্যায়াম করে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের যেসব জটিলতা তৈরি হয় ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস সেসব জটিলতাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। মদ্যপানের ফলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে বা কমে যেতে পারে। তাই এসব অভ্যাস সহজে ত্যাগ করতে না পারলে ডাক্তার বা কাউন্সিলরের সাহায্য নিতে হবে।

স্বাস্থ্যসম্মত সুষম খাবার

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পুষ্টি চাহিদা অন্য সবার মতোই। এতে আলাদা কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই। আবার প্রিয় খাবারগুলো একেবারেই বাদ না দিয়ে খাবার তালিকা বুদ্ধিদীপ্তভাবে বাছাই করতে হবে বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার।

প্রচুর আঁশজাতীয় রঙিন শাকসবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, ক্যাপ্সিকাম, শসা, মটরশুঁটি, করলা, শিম, পেঁপে, মিষ্টি আলু, লাউ, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, শালগম, কাঁচা আম, কলার মোচা, কাঁচাকলা, বেগুন, বরবটি, সজিনা, তুলসী শাক, বিভিন্ন ধরনের শাক ও ফলের মাঝে কমলা, সবুজ আপেল, বরই, জলপাই, পেয়ারা, আমড়া, জাম্বুরা, নাস্পাতি, এভোকাডো, জামরুল, আনার, জাম, তরমুজ ইত্যাদি ফল রাখা যাবে খাবার তালিকায়। বেশি মিষ্টি ফলগুলো না রাখাই ভালো।

লাল চাল, লাল আটার রুটি, চিড়া, হোল গ্রেইন সিরিয়াল, ওটস, গমের তৈরি পাস্তা স্পেগেটি এ ধরনের কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারগুলো রক্তের গ্লুকোজ ধীর গতিতে বাড়ায় এবং হজম হতে সময় লাগে, ক্ষুধা কম লাগে।

প্রোটিন জাতীয় খাবারগুলোর মাঝে মুরগি, দেশি মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, বাদাম, সয়া, ডাল ইত্যাদি।

দুগ্ধজাত খাবারের মাঝে লো ফ্যাট দুধ, দই, দেশি পনির এবং আরও রাখতে হবে স্বাস্থ্যকর তেল অর্থাৎ কক্ষ তাপমাত্রায় যে তেলগুলো তরল থাকে যেমন ক্যানোলা, অলিভ ওয়েল, সান ফ্লাওয়ার, বাদাম তেল ইত্যাদি।

যাদের ডেজার্ট খাবারের প্রতি বিশেষ ঝোঁক তারা মাঝে মাঝে বিভিন্ন ফল ফ্রোজেন করে লো ফ্যাট দই মিশিয়ে ব্লেন্ড করে খেতে পারেন। লেবু ও কমলার রস মিশিয়ে খেতে পারেন, ডার্ক চকলেট খেতে পারেন মাঝে মাঝে। ১/২টি খেজুরও খেতে পারেন। অল্প পরিমাণে যে কোনো খাবার নিয়মিত না খেয়ে মাঝে মাঝে খেলে তেমন কোনো ক্ষতি করে না।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?