শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২০, ০২:১৪:৫০

পতিতার জানাজা আদায়ে ইসলামের বিধান কি?

পতিতার জানাজা আদায়ে ইসলামের বিধান কি?

ঢাকা : ইসলামী শরীয়ায় একজন যৌনকর্মী বা পতিতার জানাজা দেওয়া যাবে কি-না এ প্রসঙ্গটি তীব্রভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি রাজবাড়ির দৌলতদিয়ায় একজন যৌনকর্মীর ধর্মীয় রীতি মেনে দাফন ও জানাজার ঘটনা বেশ আলোড়ন তুলেছে।

বিবিসি বাংলায় সংবাদ হয়েছে। দৌলতধিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙ্গে একজন যৌনকর্মীর প্রথম বারের মতো জানাজা। একজন ইমাম জানাজার সালাত আদায় করেছেন। এবং ২০০ জন মানুষের উপস্থিতি ছিলো।

সাম্প্রতি ঘটনাটির পর এক টিভি প্রোগ্রাম শায়খ আহমাদুল্লাহ’কে প্রশ্ন করা হয়েছিল পতিতাদের মৃত্যুর পর তাদের জানাজার নামাজ আদায় করা যাবে কি না?

এমন প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ’র জাবাব হলো-

ইসলামী শরিয়াহ বলে, একজন মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম থাকবেন। সে যতবড় পাপিষ্ঠ হোকনা কেন তার জানাজার নামাজ আদায় করা যাবে। তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে হবে। দোয়া করতে হবে। যত বড় অপরাধ করুক না কেন, তিনি যদি ইসলামের মধ্যে থাকেন। তবে তিনি যদি অমুসলিম থাকেন তার জানাজার নামজ পড়ানো যাবে না। তার জন্য দোয়াও করা যাবে না।

তবে পতিতালয়ে যারা থাকছেন। যারা দেহ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তার নিশ্চয় অন্যায় করছেন। হারাম কাজ করছেন। সেখানে যারা যাচ্ছেন তারও হারাম করছেন। আর হারাম কাজে লিপ্ত হলেই কাফের হয়ে যায় যায়না।

দেখা যাচ্ছে পতিতালয়ের অনেকেই সেচ্ছায় যাচ্ছে না। তাদেরকে বাধ্য করে নিয়ে যাচ্ছে। অপহরণ করে সেখানে নিয়ে বাধ্য করাচ্ছে। আল্লাহর প্রতি যদি তার ঈমান থাকে, তাহলে তার জানাজার নামাজ আদায় করতে পারবেন। এবং তার নামাজ দেওয়া ফরজে কেফায়া। যদি তাদের জানাজার নামাজ আদায় ছাড়া দাফন করা হয় তাহলে এটা গুনাহের কাজ হবে।

এ হিসেবে দৌলতদিয়ায় যে ইমান পতিতার জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন তিনি নিশ্চিয় ভালো কাজ করেছেন। ইসলামে শরীয়তে রয়েছে, যে আত্মহত্যা করে এমনকি যিনাহ কাজ করার পর তাদের যদি শাস্তি হয় তাহলেও তাদের জানাজার নামাজ আদায় করতে হবে। খুনিরও যদি ফাঁসি হয় তারও জানাজার নামাজ আদায় করতে হবে।

আল্লামা ইবনে হাজার আল-আসকালানী রচিত ফাতহুল বারী গ্রন্থে লিখেছেন, যারা অন্যায় করে, পাপাচারে লিপ্ত, এমনকি অপরাধ করার ফলে শাস্তি হয়ে যার মৃত্যু হয়েছে এরকম মানুষের জানাজা পড়ানোর ব্যাপারে কোন আলেমের দ্বিমত নেই।

হাদীস শরীফে স্পষ্ট আছে- যে ব্যক্তি কালিমা বলবে এবং এটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালামের এ কথা শুনে সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, যদি সে ব্যভিচার করে, তবুও কি সে জান্নাতে যাবে?

বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাদের বললেন, হ্যাঁ যদি সে যেনাও করে, তবুও সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (যদি এ বিশ্বাসের ওপর মৃত্যুবরণ করে)

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?