শনিবার, ০৬ জুন ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০, ১১:১২:৪৭

করোনায় পবিত্র রমজানে ১৮ নির্দেশনা জারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনায় পবিত্র রমজানে ১৮ নির্দেশনা জারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ধর্ম ডেস্ক: আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে সিয়াম সাধনার পবিত্র রমজান মাস। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে রোজার এ বছরটি অন্যান্য বছরের মতো হবে না। মহামারি করোনা ভাইরাস যখন পৃথিবীর বুকে কালো ছায়া ফেলেছে তখন এর প্রভাব রমজানেও পড়বে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদে গমনাগম শিথিল করা হয়েছে। ঘরে বসে সবাইকে নামাজ ও দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছে প্রত্যেক দেশের সরকার। কাবা শরিফ থেকে শুরু করে আল আকসার মতো ধর্মীয় সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানসমূহকে ঘিরেও বিধিনিষেধ জারি আছে।

এমতাবস্থায় করোনার বিস্তার রোধে রমজান মাসকে ঘিরে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। রোজার মাসে করণীয় ও কিছু নিয়ম কানুনও জারি করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

ডব্লিউএইচও বলছে, ধর্মীয় ও সামাজিক জমায়েত বাতিল করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। জনসমাগম সীমিত, সংশোধন, স্থগিতকরণ, বাতিল করাসহ যেকোনও সিদ্ধান্ত চলমান করোনা ঝুঁকি মূল্যায়ন করার ওপর বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশ বাতিল করা হলেও কিছু ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

পবিত্র রমজান মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শগুলো পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:

১) মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় অন্তত ১ মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
২) কোলাকুলি করা, গায়ের ওপর হাত দিয়ে ডাকা, শরীরের ওপর হাত রাখা এসব অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে।
৩) রমজানে দোকানে বা বাজারে একসঙ্গে অনেক মানুষ জমায়েত বন্ধ করতে হবে।
৪) অসুস্থ কিংবা করোনার সামান্যতম লক্ষণ আছে- এমন মানুষদের নিজ নিজ বাসায় থাকতে বলতে হবে। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনাও মেনে চলতে হবে।
৫) বয়স্ক ও অসুস্থদের সমাবেশে অংশ নিতে নিষেধ করতে হবে। তাদেরকে ভালোভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে বুঝিয়ে বলতে হবে।
৬) ঘরের বাইরে যেকোনও সমাবেশ পরিত্যাগ করতে হবে। একান্ত প্রয়োজন হলে বাড়ির ভেতর খোলামেলা জায়গায় ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৭) ধর্মীয় সমাবেশের সময়সীমা যতটা সম্ভব কম করুন।
৮) অনেক বড় সমাবেশ না করে কম অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ছোট সমাবেশ আয়োজন করুন।
৯) দাঁড়িয়ে থাকার সময়, নামাজ পড়ার সময়, অজু করার সময় এবং জুতা সংরক্ষণের স্থানেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন।
১০) মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়ও একে অপরের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।
১১) ধর্মীয় সমাবেশে যদি কোনও অসুস্থ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় তবে দ্রুত তার ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।
১২) মসজিদের প্রবেশ দ্বারে ও ভেতরে হ্যান্ড ওয়াশ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
১৩) মসজিদে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিস্যু থাকতে হবে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
১৪) মসজিদে কার্পেটের ওপর ব্যবহারের জন্য ব্যক্তিগত জায়নামাজ ব্যবহারের বিষয়ে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে।
১৫) কোভিড-১৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা বার্তাগুলো ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লেতে দেখাতে হবে।
১৬) জীবাণুনাশক ও ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে নামাজের আগে ও পরে মসজিদ পরিষ্কার রাখতে হবে।
১৭) মসজিদ প্রাঙ্গণ, অজুখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মেনে চলতে হবে সকল স্বাস্থ্যবিধি।
১৮) কিছুক্ষণ পরপর মসজিদের দরোজা, লাইটের সুইচ, সিঁড়ির রেলিং পরিষ্কার করতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র শবে বরাত। সেই হিসাবে ১৪৪১ হিজরি অর্থাৎ ইংরেজি ২০২০ সালের রোজা শুরু হতে পারে আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে। প্রথম সেহরি হতে পারে ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে। তবে সবকিছুই নির্ভর করতে চাঁদ দেখার উপর।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?