রবিবার, ৩১ মে ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২০, ১০:০৯:০৫

কষ্টসাধ্য কাজে জড়িত ব্যক্তির রোজার বিধান?

কষ্টসাধ্য কাজে জড়িত ব্যক্তির রোজার বিধান?

ঢাকা : অনুবাদক: আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান; সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া

প্রশ্ন: এক ব্যক্তি রমজানে রোজা রাখার পর পনের রমজানের পর এ অজুহাতে রোজা ভেঙ্গে ফেলল, যে সে মজুরীর বিনিময়ে বকরি চড়ায়। এ ব্যাপারে সে একজনকে প্রশ্ন করেছিল যে ছাত্র বলে দাবি করে। সে রোজা ভাঙ্গার ফতওয়া দিয়েছিল, এবং বলেছিল: প্রতিটি রোজার জন্য এক চতুর্থ দিনার সদকা করবে। সে প্রমাণ হিসেবে কোরআন শরীফের এ আয়াত উপস্থাপন করেছিল: রোযা যাদেরকে কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য হল এর পরিবর্তে ফিদয়া দেয়া। (সুরা বাকারা, ১৮৪ আয়াত)। আমি উপরোক্ত প্রশ্ন উত্তরের সময় উপস্থিত ছিলাম। এ ব্যাপারে শরিয়ত সম্মত সমাধান কি?

উত্তর : আলহামদুলিল্লাহ

প্রথমত: যে বকরি চড়ায় তার অনুমতি নেই যে, সে রোজা ভেঙ্গে ফেলবে, হ্যাঁ তখন ভাঙ্গতে পারবে, যখন সে সম্পুর্ণ অপারগ অবস্থায় পৌছেঁ যাবে এতটুকু পরিমাণ সে আহার করবে, যার দ্বারা সে ঐ অবস্থা থেকে মুক্তি পায়। পেট ভরে আহার করবে না। অত:পর পূর্ণদিন রোজার মত থাকবে। পরে অবস্থার পরিবর্তন হলে রোজাটি কাজা করবে।

দ্বিতীয়ত: ছাত্র নামধারী উত্তর দাতা যে বলেছে, যে প্রতিটি রোজার জন্য এক চতুর্থাংশ দিনার দিলে যথেষ্ট হবে, তা সঠিক নয়। বরং তার জন্য কাজা করা ওয়াজিব। প্রমাণ: হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। নির্দিষ্ট কয়েকদিন।

তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে, কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদয়া- একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা। অতএব যে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে।

আর সিয়াম পালন তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জান। রমজান মাস, যাতে যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়েত স্বরূপ এবং হিদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও সত্য মিথ্যার পাথ্যর্ক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। (সূরা বাকারা, ১৮৩-১৮৫ আয়াত)

ইবনে জারীর রহ. আয়াতের এ অংশের (আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদয়া- একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা।) বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করার পর বলেন: এ সমস্ত ব্যাখ্যার মধ্যে ঐ ব্যাখ্যাটাই উত্তম যে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে আয়াতের পরের অংশ (সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে) দ্বারা আগের অংশের হুকুম (আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদয়া- একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা।) রহিত হয়ে গেছে কেননা, ভিতর যে হা আছে যার দ্বারা সিয়াম বুঝানো হয়েছে। এর অর্থ এই দাড়াচ্ছে যে যার রোযা রাখার সামর্থ নেই সেই মিসকীনকে খাদ্য দানের মাধ্যমে ফিদয়া দেবে।

সমস্ত মুসলমানরা এ কথার উপর ঐক্যমত পোষণ করেন যে, সুস্থ্ নিজ গৃহে বসবাসকারী পুরুষের উপর রমজানের রোজা পালন করতেই হবে। রোযা ভেঙ্গে তার জন্য ফিদয়া প্রদান করা বৈধ নয়। এ থেকে বোঝা যায় যে আয়াতটির হুকুম রহিত।

এ ছাড়াও এ ব্যাখ্যার সমর্থনে মাআজ ইবনে জাবাল রা. ইবনে উমর সালামা ইবনে আকওয়া রা. এর আমল প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যেতে পারে: তারা সবাই আগের আয়াত অনুযায়ী রোযা রাখতেন আবার কখনও রোযা ভেঙ্গে ফেলে তার পরিবর্তে ফিদয়া দিতেন, কিন্তু যখন এ অংশ: (সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে) অবতীর্ণ হওয়ার পর অবশ্যই রোযা রাখতে লাগলেন এবং আগের মত ফিদয়া দেয়াটা করা বন্ধ করে দিলেন (যার ইচ্ছা হলো সে রাখবেনা আর তার পরিবর্তে ফিদয়া দেব।

সংগৃহিত- ইসলামিক ওয়েবসাইট

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?