মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০৬:১৫:২৩

রাণীনগরে বন্যায় ক্ষতি শতাধিক কোটি টাকা

রাণীনগরে বন্যায় ক্ষতি শতাধিক কোটি টাকা

সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : সম্প্রতি একটানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁর আত্রাই (ছোট যমুনা) নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্টি হয় স্মরণ কালের শ্রেষ্ঠ বন্যা। রাণীনগর উপজেলার বেড়ীবাঁধের ২ স্থানে ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। এতে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। অপরদিকে সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। এই বন্যার ফলে মোট ১শত ৭কোটি ৬৫লাখ ৮৯ হাজার টাকা ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি কৃষি, এলজিডির।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নওগাঁর আত্রাই (ছোট যমুনা) নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ-আত্রাই মহাসড়কের রাণীনগরের বেদগাড়ীর ৩টি স্থানে বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট পানি বন্ধি হয়ে পড়ে এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যার শুরু থেকে প্রায় ১মাস পার হলেও এখনো মাঠের ফসল বন্যার পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। তবে বন্যার পানি ধীর গতিতে নামার কারণে এই ক্ষতির পরিমাণ আরো দ্বিগুন হয়েছে।

 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোট ২০ হাজার ৯শত ৯৫ একর জমির বিভিন্ন রকমের ফসল বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ ও জেগে ওঠা ফসলের ক্ষেতে কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে কৃষকরা আবার নতুন করে চাষাবাদ শুরু করেছে। বন্যার কারণে উপজেলায় কৃষি ক্ষেত্রে মোট ক্ষতি হয়েছে ১শত ৩কোটি ১২লাখ ২৫ হাজার টাকা।

 

বন্যায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগীর ক্ষেত্রে মোট ক্ষতি হয়েছে ১৪লাখ ৯৪হাজার টাকা। ২৮টি মৎস্য খামার ও ২৩৫টি পুকুর/জলাশয়ের বিভিন্ন প্রকারের ছোট-বড় মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। মৎস্য ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে  ৪কোটি ২৫ লাখ টাকা। এতে করে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও মৎস্য চাষীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যায় উপজেলার প্রায় ১১কিমি কাঁচা ও ৪কিমি পাকা সড়ক এবং ৬কিমি বাঁধ বিনষ্ট হয়ে গেছে ও প্রায় ১১কিমি বাঁধ আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্র¯’ হয়েছে এতে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

 

বন্যায় গোনা ইউনিয়নের বেতগারী থেকে নওগাঁ-আত্রাই মহাসড়কের ৩টি স্থানে ভেঙ্গে গিয়ে প্রবেশ করে বন্যার পানি আর তলিয়ে যায় বির্স্তীন ফসলের মাঠ। উপজেলার গোনা, মিরাট, কাশিমপুর ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গোনা ইউনিয়নের ঘোষগ্রাম ও কৃষ্ণপুর গ্রামের বেরীবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে গোনা, ঘোষগ্রাম, কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি গ্রামসহ উপজেলার প্রায় ৫৮টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। এতে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরে।

 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, ফসলের মাঠে বন্যার পানি দীর্ঘ সময় থাকার কারণে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুন হয়েছে। তবুও আমরা কৃষকদের কে বন্যা পরবর্তি কোন কোন ফসল চাষ করতে হবে এবং কেমন করে অল্প সময়ে কোন ফসলের আবাদ করলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায় তার পরামর্শ সব সময় প্রদান করে আসছি।

 

রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিডি) কর্মকর্তা মো. শহিদুর রহমান মিঞা জানান, বন্যায় বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ঘাটের ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং সংঙ্কারের জন্য ক্ষতির তালিকা করে  উধ্বর্তন কর্তপক্ষের কাছে প্রেরন কনা হয়েছে বরাদ্দ পেলে দ্রুত সব রাস্তা ঘাট সংঙ্কার করা হবে।  

 

রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায় কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, আমরা বন্যায় মোট ক্ষতির একটি তালিকা করে তা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছি। বন্যার্তদের মাঝে সরকারি ভাবে বিভিন্ন অনুদান প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে বরাদ্দ এলেই আমরা বন্যা দুর্গত এলাকায় পুর্নবাসনের কাজ শুরু করবো।

 

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হয়েছে এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে বরাদ্দ এলেই বেশি ক্ষতিগ্রস্থদের সার্বিক ভাবে সহায়তা করা হবে এবং পুর্নবাসনের কাজ শুরু হবে।

 

 

 

এই বিভাগের আরও খবর



আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?