শনিবার, ১৮ নভেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৭, ০৩:২০:১৩

পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করায় শিক্ষক বরখাস্ত: তবুও কমেনি নকলের দৌরাত্ম

পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করায় শিক্ষক বরখাস্ত: তবুও কমেনি নকলের দৌরাত্ম

সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে  চলতি জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকল সরবরাহ করায় মো: আবু  বক্কর সিদ্দিক নামের এক ধর্ম শিক্ষককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সকলপ্রকার  কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরও পরীক্ষা কেন্দ্রে বন্ধ হয়নি নকলের দৌরাত্ম। পাশের হার বৃদ্ধি করার জন্য  শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে নকল সরবরাহ করছেন বলে একাধিক গোপেন সূত্রে  জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার  (১২ নভেম্বর) চলতি জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শক হিসাবে উপজেলার রাণীনগর মহিলা অনার্স কলেজে দায়িত্ব পালন করেন পাশ্ববর্তি আদমদীঘি উপজেলার  কয়াকঞ্চি উ”চ বিদ্যালয়ের ধর্ম বিষয়ের সহকারি শিক্ষক মো: আবু বক্কর সিদ্দিক।  পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি গোপনে তার মোবাইল ফোনে  প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাহিরে প্রেরণ করেন।

বাহির থেকে সেই  প্রশ্ন সমাধান করে উত্তরপত্র শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের ফোনে পাঠানো হয়।  সেই উত্তর শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক ওই কক্ষ এবং তার আশেপাশের কক্ষে বিতরণ  করেন। এসময় উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বিষয়টি বুঝতে পেরে অন্যান্য  শিক্ষকের সহায়তায় শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিককে মোবাইল ফোনসহ হাতে-নাতে আটক  করে। আটকৃত শিক্ষককে তখন সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়।

বনখাস্তকৃত  শিক্ষককে গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন কমিটির সভাপতি ও  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে হাজির করানো হয়। এসময় নির্বাহী  কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বিশেষ সভার আয়োজন করেন। সভায়  শিক্ষকের স্বীকারোক্তিসহ সকল প্রকার প্রমাণ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার  জন্য উপ-পরিচালক বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কয়াকঞ্চি  উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রওশন আলী জানান, আমি বিষয়টি লোকমুখে  শুনেছি। আমি এই নাক্কার জনক কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আশা রাখি  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উপজেলা  একাডেমিক সুপারভাইজার মো: কামরুল হাসান সবুজ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে সকল  প্রমাণসহ উপজেলা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তার কাছে সোর্পদ করা হয়েছে। তিনি অপরাধ অনুযায়ী শিক্ষককের বিরুদ্ধে  উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উপজেলা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন কমিটির  সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, গত মঙ্গলবার  বিকালে শিক্ষকের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা  গ্রহণ করার জন্য শিক্ষকের স্বীকারোক্তিসহ সকল প্রকার প্রমাণাদি সংশ্লিষ্ট  বিভাগের উপ-পরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত  সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  

উল্লেখ্য, উপজেলার  ভেটুরিয়া গ্রামের মৃত-মজিবর রহমানের ছেলে মো: আবু বক্কর সিদ্দিক ১৯৮৯ সালে  পার্শ্ববর্তি আদমদীঘি উপজেলার কয়াকঞ্চি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি ধর্ম শিক্ষক  হিসাবে যোগদান করেন।

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?