সোমবার, ১৭ জুন ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:৩৪:৫২

বৈশাখে তারকাদের ভাবনা

বৈশাখে তারকাদের ভাবনা

বিনোদন ডেস্ক : নববর্ষের হাওয়ায় মেতে পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে সবাই নতুনকে বরণ করে নেয়। নতুন দিনের আলোয় উদ্ভাসিত সবার মুখ। পান্তা ইলিশ খাওয়ার ধুমও পড়েছে।

খুশির আমেজ ছড়ানো এই দিনে রঙে রঙে সেজে উঠেছে চারপাশ। পহেলা বৈশাখ শব্দটি শুনলেই যেনো রঙ ছড়িয়ে পড়ে মনে। নতুন বছর নিয়ে কথা হলো তারকাদের সাথে। তুলে ধরা হলো তারকাদের রঙ ছড়ানো বৈশাখী আলাপ।

ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর

নতুন সবকিছুই আনন্দের। আমার কাছে নতুন বছর মানেই নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বৈশাখ বাঙালী সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধারণ করে চলে আসছে অনেক বছর ধরে। এদিনটিতে ছোট থেকে বড় সবাই নতুন নতুন আশা আর উদ্দীপনা নিয়ে নতুন কিছু শুরু করে। নিজেকে নতুনভাবে সাজায়। আমার কাছে বৈশাখ মানেই আনন্দ, নতুন কিছুর সম্ভাবনা বা শুরু। ছোটবেলায় বৈশাখে অনেক মজা করতাম, ঘুরতাম, মেলায় যেতাম। কিন্তু এখন আর সেরকমভাবে করতে পারি না বা আগের আনন্দটা উপভোগ করতে পারি না। বৈশাখের স্মৃতি বলতে তেমন কিছু নেই। দিনের শুরুটা করতাম বাবা-মাকে সালাম করে। তারপর ক্যান্টনমেন্টের ভিতর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয় আর তাদের সাথেই হাসি আনন্দে দিনটা উদযাপন করতে হয়। এবার বৈশাখ নিয়ে তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। এদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন এসোসিয়েশন এর একটি অনুষ্ঠানে অতিথী হিসেবে কক্সবাজার থাকবো।

জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী

পহেলা বৈশাখ শুনলেই আমাদের সবারই কেমন যেন ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি কানে বাজে। গানটা একটা নতুন এবং সতেজ শুরুর আহবান জানায়। পহেলা বৈশাখ বলতেও আমি তেমন সতেজ এবং নতুন শুরু বুঝি। পহেলা বৈশাখ আমাদের হৃদয়ের অনেক কাছের একটা উৎসব হলেও আমাদের দেশের পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার অভিজ্ঞতা বা স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। ছিনতাই, বোমা বিস্ফোরণ এমনকি প্রকাশ্যে ধর্ষণের মত ঘটনাও ঘটেছে এমন দিনে। হাজার হাজারর মানুষের কাছে পহেলা বৈশাখ যখন শুধু মাত্র একটা দুঃস্বপ্নের স্মৃতিতে পরিণত হয় তখন তাকে উৎসব হিসেবে পালন করতেও কষ্ট হয়। আমি চাই আর যেন এমন কোনো ঘটনা না ঘটে এমন একটি দিনে। শুধু এইদিন কেন, কোনোদিনই যেন না ঘটে। কারণ পহেলা বৈশাখ পালনের উদ্দেশ্য হলো নতুন করে শুরু করা। এই শুরু টা যেন হয় ভালো লাগার, ভালোবাসার, ভালো থাকার। বৈশাখ নিয়ে মজার কিছু সময় কাটিয়েছি স্কুল জীবনে। তবে স্কুল-কলেজে বৈশাখের অনুষ্ঠান গুলোতে সবসময় থাকতাম, আনন্দ করতাম। আবার কখনো কখনো সেজেগুজে বাসায়ই কাটিয়ে দিতাম বৈশাখ। আবার সাজগুজ করে ২-৩ বার মেলায় যেতাম। প্রত্যেক বারের অভিজ্ঞতা হতো ভয়ানক। কারণ আমি কখনও সাজগোজে খুব একটা স্বাচ্ছন্দবোধ করতাম না। তাই যখন শখ করে সেজেগুজে বের হতাম তখন পড়তাম বিপদে। ভীড়ের মাঝে শাড়ী সামলাতে সামলাতেই শেষ, নিজেকে সামলাবো কী? আর পান্তা-ইলিশ খাওয়ার বিষয়টা আমার সবসময়ই দারুণ লাগে। সাজগুজ নিয়ে ভালো ধারণা বা পারদর্শীতা কোনোটাই আমার নেই। যা পড়লে নিজেকে নিজের দেখতে ভালো লাগে তাই পড়ি। আর খুবই সাধারণ সাজগুজ পছন্দ করি। তবে এবার কেমন হবে এখনও জানিনা। আট এবারের বৈশাখের পরিকল্পনা সেভাবে করে রাখিনি। আসলে সাহস হচ্ছেনা। কারণ শুটিং এর ডেট পরলে পুরো প্ল্যান বরবাদ হয়ে যাবে। তাই এবার কোন প্ল্যান করিনি।

তানহা তাসনিয়া

বৈশাখ বাঙালীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। একটি উৎসবমুখর দিন। আমার কাছে বৈশাখ মানে আনন্দ। দিনটির মাধ্যমে সবাই একটা নতুন বছরকে স্বাগতম জানায়। বড় ছোট সবাই মিলে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিনটিকে উদযাপন করে। প্রতিবছরই এদিনে নিজেকে নতুন রঙে রাঙানোর চেষ্টা করি। একটা দিন একদম বাঙালীয়ানের মত করে থাকতে। মাটির কাঁসাতে করে পান্তা ইলিশ খেয়ে দিনের শুরু করি। এরপর লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, চুলে খোঁপা, কাঁচের চুড়ি ও কপালে টিপ পড়ে নিজেকে সাজাই। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে আনন্দে দিনটি অতিবাহিত করি। ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখ মানে মনে হতো রমনা পার্কে যেতে হবে। সকালবেলা সাজগুজ করে বাবার সাথে রমনা পার্কে যেতাম তারপর কনসার্ট দেখতে যেতাম। ঐসময়গুলো খুব আনন্দের ছিল। বৈশাখ এলে ছোটবেলার একটা ঘটনা খুব মনে পড়ে। পরিবারের সবাই মিলে গাজীপুরের একটি রিসোর্টে পিকনিক করতে যাই। পিকনিক করবো আনন্দ করবো সেটা ভেবে আমরা তাড়াহুড়া করে গাজীপুর পৌছাই। ঘুরাঘুরি করার পর আমরা মাটিতে পাটি বিছিয়ে সবাই প্লেট হাতে নিয়ে যখন বসলাম তখন দেখি আমাদের খাবারই আনা হয় নি। খাবারের প্যাকেট ভুলে বাসাতেই রেখে চলে এসেছিলাম। পরে আমরা সবাই হোটেলে খেয়েছিলাম। একথা মনে হলে এখন খুব হাসি পায়।

জাকিয়া সুলতানা কর্ণিয়া

বৈশাখ মানেই নতুন বছর। বাংলা নতুন বছরকে সবাই আনন্দে আর উৎসবে বরণ করে নেয়। নতুন উদ্যোমে নতুন স্বপ্নে পথ চলে। বৈশাখী মেলা আমার খুব পছন্দের। মেলা থেকে চুড়ি কিনতে খুব ভালোবাসি। বৈশাখের দিনটা আমার কাছে খুব স্পেশাল। এদিনটাতে আমি আমার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে খুব পছন্দ করি। যদিও এদিন শো থাকে, এর ফাঁকে পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে বের হই। এবারও রমনায় প্রোগ্রাম আছে সকালে। এরপর নারায়ণগঞ্জ শো আছে। দুটো শো এর পর পুরো সময়টা পরিবারকে দিব। আমি সবসময়ই ওয়েস্টার্ন পোশাকে কমফোর্ট ফিল করি। শাড়ি খুব একটা পড়া হয় না। তবে এবার ওয়েস্টার্ন আর বাঙালীয়ানা মিক্স করে নিজেকে সাজাবো।

সাবিলা নূর

পহেলা বৈশাখ বরাবরই আমার কাছে বিশেষ একটি দিন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথেই এদিনটা কেটে যায়। বাঙালী সংস্কৃতির হাজার বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্য। অনেকসময় আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে পুরো দিনটাই মাটি হয়ে যায় নয়তো একটি সুন্দর উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটা উদযাপিত হয়। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন অনেক আনন্দ করতাম। আমি তখন বাফাতে নাচ শিখতাম। পহেলা বৈশাখ এলে সেদিন তিন চারটা প্রোগ্রাম থাকতো আর সেখানে নাচতাম। খুব আনন্দ করতাম। কিন্তু এখন আর আগের মত করে সময়টা এভাবে পালন করা হয় না। বের হলেও আশেপাশে বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা দেই। আর বৈশাখে নিজেকে শাড়িতেই বেশি মানানসই মনে করি। আর নয়তো এমন একটা লুক নিতে পছন্দ করি যেটা ট্র্যাডিশনাল এবং কমফোর্টেবলও।

আতিয়া আনিসা

পহেলা বৈশাখ আমার খুব পছন্দের। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন আনন্দ উৎসবের মধ্য নিয়ে নতুনকে বরণ করি। এদিন নিজেকে নতুন করে সাজাই। গতবছর বৈশাখে আমার শো ছিল, এবারও আছে। তাদের সঙ্গেই আনন্দটা ভাগ করে নিব। এছাড়া পরিবার তো আছেই। এদিন আমরা পিকনিক করি। নানু, আপুরা আসে তারপর আমরা সবাই খুব মজা করি। দিনটা আমার কাছে খুবই স্পেশাল।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?