বুধবার, ২০ নভেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ১১:৪৬:১৯

ডলার সংকটের পেছনে ৯ ব্যাংকের কারসাজি

ডলার সংকটের পেছনে ৯ ব্যাংকের কারসাজি

ঢাকা: ডলার বিক্রি নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকসহ ৯টি ব্যাংক বেশি দামে নগদ ডলার বিক্রি করায় মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চরম আকার নিয়ছে। ডলারের এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধিকে ‘কারসাজি’ বলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বাড়লে ডলারের দাম কমার কথা, কিন্তু উল্টো বাড়ছে। পাশাপাশি আছে বাজারে চাহিদা ও জোগানের ব্যবধানের বিষয়টিও। এতে টাকার মান কমে যাচ্ছে, বাড়ছে ডলারের দাম।

বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার ছেড়েও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ছেন ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তারা। সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আনতে না পারায় খরচও বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠে যায়। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও পর্যাপ্ত ডলার মেলেনি। সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার টান পড়েছে খোলাবাজারে।

জানা গেছে, বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পাদিত হয় ডলারের মাধ্যমে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকের পক্ষে ডলার আয় ও ব্যয় করে। আমদানির ক্ষেত্রে ডলার খরচ হয়, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের মাধ্যমে ডলার আয় হয়। যেসব ব্যাংকে আয় কম কিন্তু ব্যয় বেশি, তারা ডলার কিনে থাকে। প্রথমত কেনে অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে, সেখানে না পেলে দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। এদিকে মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের মাত্র ৭ ভাগ হয় সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। রেমিট্যান্স সংগ্রহের শীর্ষেও বেসরকারি ব্যাংক। এ ছাড়া সরকারি কিছু বড় প্রকল্পে অর্থায়ন করছে সরকারি ব্যাংক। ফলে তাদের ডলারের চাহিদা বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক নগদ ডলার বিক্রি করেছে ৮৬ টাকা ৫০ পয়সায়। একইদিন ৮৬ টাকা ২০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংক আল ফালাহ। ৮৬ টাকা ১৫ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এ ছাড়া ৮৬ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক নগদ ডলার বিক্রি করেছে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা দরে। একইদিন ৮৬ টাকা ৩০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এর বাইরে ৮৬ টাকার বেশি দরে ডলার বিক্রি করেছে আরো ১০টি ব্যাংক। এভাবে নগদ ডলার বিক্রিতে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে ব্যাংকগুলো।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ নিয়ে বলেন, আগের বছরে ব্যাপক হারে আমদানি হওয়ায় এখন ডলার সংকট হচ্ছে। ওই সময়ে রপ্তানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি ছিল। তবে বর্তমানে রেমিট্যান্স ও রপ্তানির আয় ভালো হচ্ছে। এতে ডলারের সংকট কমার কথা। কিন্তু উল্টো বাড়ছে। এতে ডলারে কারসাজি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এ জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভ‚মিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরজুড়ে ব্যাংক খাত তারল্য সংকটে ভুগেছে। আর এই তারল্য সংকট তীব্র করেছে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ডলার ক্রয়। আমদানির চাহিদা মেটাতে ব্যাংকগুলো প্রায় প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনেছে। সব মিলিয়ে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। কোনো একক অর্থবছরে এটি ছিল সর্বোচ্চ অঙ্কের ডলার বিক্রির রেকর্ড। ২০১৭-১৮ অর্থবছর বিক্রি করেছিল ২৩১ কোটি ১০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি থাকায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনেছে। ওই সময় সরবরাহ বেশি থাকায় ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়ে যেতে থাকে। তাই সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে বিনিময়মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনেছিল। মূলত, ২০১৭ সাল থেকে ডলার সংকট শুরু হয়।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?