শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০, ০২:৪৪:৩১

করোনা খেয়ে ফেলছে আড়াই কোটি চাকরি

করোনা খেয়ে ফেলছে আড়াই কোটি চাকরি

ঢাকা : নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) শুধু মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নয়, তাদের জীবিকার উপরও থাবা বসিয়েছে। এই ভাইরাসটি বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে যে প্রভাব ফেলেছে, তাতেই চাকরি হারাবেন আড়াই কোটি মানুষ। আর এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হারিয়ে যাবে ১৭ লাখ চাকরি।

চাকরি হারানোর কারণে বিশ্বে নতুন করে সাড়ে ৩ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে নেমে যেতে পারে।

জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর প্রতিবেদনে এই আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারা বিশ্বকে আরো দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এবং তা দীর্ঘ সময় বিরাজ করলে বেকারত্বের পরিমাণ আরও বাড়বে।

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে দু’ভাবে বেকারত্ব বাড়বে। প্রথমতঃ দেশের ভেতরে অসংখ্য মানুষ চাকরি হারাবে। দ্বিতীয়তঃ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি বেকার হয়ে পড়বে।

আইএলওর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিশ্বে বেকারের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৮০ লাখ। অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে করোনাভাইরাসের প্রভাবে নতুন করে বেকার হতে পারে ৫৩ লাখ থেকে দুই কোটি ৪৭ লাখ মানুষ। মাঝামাঝি প্রভাব পড়লেও বিশ্বে নতুন করে এক কোটি ৩০ লাখ লোক বেকার হবে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে নতুন করে বেকার হতে পারে ৭৪ লাখ লোক।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়বে সেবা খাত, পর্যটন, পরিবহন ও খুচরা কেনাবেচার ব্যবসা।

বিশ্ব বাণিজ্য ও পর্যটন কাউন্সিলের প্রাথমিক হিসাবে এ বছর আন্তর্জাতিক যাত্রীদের চলাচল ২৫ শতাংশ কমবে। আর এতেই এ খাত-সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে।

আইএলওর সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা ও কোয়ারেন্টিনের কারণে কর্মী সরবরাহ কমছে। গত ১০ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কর্মীরা এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার কর্মমাস হারিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তাদের আয়ে, বিশেষ করে সুরক্ষিত নয় এমন কর্মীদের। করোনার কারণে কর্মীরা ৮৬০ বিলিয়ন থেকে তিন হাজার ৪৪০ বিলিয়ন ডলারের আয় থেকে বঞ্চিত হবে। এর প্রভাব পড়বে তাদের পণ্য ও সেবা ভোগের ক্ষেত্রে। সার্বিকভাবে এর প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে।

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেছেন, করোনাভাইরাস এখন আর শুধু বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট নয়। এটি বড় শ্রম এবং অর্থনৈতিক সংকটও। বিশ্ববাসীর ওপর এর বিশাল প্রভাব পড়বে।

আইএলও সতর্ক করেছে, জীবিকার সংকটে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ওপর অনুপাতহীন প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়তে পারে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে জীবিকার বড় ঝুঁকিতে আছে অপেক্ষাকৃত কম সুরক্ষিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে, তরুণ ও প্রবীণ কর্মীরা। নারী এবং অভিবাসীরাও ঝুঁকিতে আছে।

আইএলওর প্রাথমিক সমীক্ষায় তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো-কর্মীদের কর্মক্ষেত্র সুরক্ষা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে উদ্দীপ্ত করা এবং চাকরি ও আয়কে সহযোগিতা করা। এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাকরিক্ষেত্রে সহায়তা, যেমনকর্মক্ষেত্রে স্বল্প সময় উপস্থিতি, বেতনসহ ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারিসহ সব ধরনের উদ্যোগের জন্য আর্থিক সুবিধা ও কর অব্যাহতির সুপারিশ করেছে আইএলও।

সংকট মোকাবেলায় আইএলও আর্থিক ও মুদ্রা নীতি প্রণয়ন এবং সুনির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক খাতকে সহযোগিতা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?