মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ০৩:৫১:২৯

এমসিকিউ পরিপূর্ণভাবে উঠিয়ে দেওয়া উচিত: শিক্ষাসচিব

এমসিকিউ পরিপূর্ণভাবে উঠিয়ে দেওয়া উচিত: শিক্ষাসচিব

ঢাকা : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) উঠিয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞানের ছয়টি বইয়ের পরিমার্জিত সংস্করণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

তিনি বলেন বলেন, ‘এমসিকিউটা বোধহয় পরিপূর্ণভাবে উঠিয়ে দেওয়া উচিত, এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমরা নিশ্চিয়ই আগামীতে আপনাদের (শিক্ষাবিদ) সাথে বসব।’

 

সচিব আরও বলেন, আমাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে সমালোচনা হয়, আমরা জবাব দিতে পারি না। যেমন ধরুন- আমাদের প্রশ্নপত্র নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়, কেউ কেউ এমনও লিখেছেন মন্ত্রী, সচিব, উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন আউট করে দিচ্ছেন।

 

বোর্ডের চেয়ারম্যানেরও প্রশ্নপত্র দেখার সুযোগ থাকে না জানিয়ে সোহরাব হোসাইন বলেন, শিক্ষকরাই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকেন।

 

পরীক্ষার হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না- সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, এতেও শিক্ষাবিদদের সহযোগিতা নিতে হবে।

 

সোহরাব বলেন, “বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষককে যে কোনো উপায়ে কনভিন্স করে ওই কক্ষের সমস্ত ছাত্রছাত্রী যেন ত্রিশ মার্কস পেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। একজনকে বলে দিচ্ছেন তিনি আবার পাস করে দিচ্ছেন। এটা অর্থের বিনিময়ে হচ্ছে বলে আমাদের কাছে রিপোর্ট আসছে।

 

“আরেকটা ধ্বংস হচ্ছে যে ভুল আনসার দিচ্ছেন। অনেকগুলো ঘটনা এমন ঘটেছে, সবগুলো সাবজেক্টে যে আশির উপরে পেয়েছে, কিন্তু একটা সাবজেক্টে গিয়ে দেখা গেছে- মূল প্রশ্নে ঠিকমত পেয়েছে, কিন্তু এমসিকিউতে গিয়ে সাত পেয়েছে, আট পেয়েছে। সেখানে ১০ পাওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।”

 

রাজধানীর রাজউক কলেজে লিখিত ও এমসিকিউয়ের নম্বরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে সচিব বলেন, “সেখানকার ১০ জন ছাত্র ফেল করেছে, কারণ তারা এমসিকিউতে ৭-৮ পেয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তাদের খাতা নিয়ে গেছে। নিশ্চিয় কোনো কারণ ছিল নইলে খাতা নিয়ে গেল কেন?

 

“এরপরেও ঢাকা বোর্ডকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছি যে, তারা কী ৩০ নম্বরের উত্তর দিয়ে ৮ পেয়েছে, নাকি ১০ নম্বরের উত্তর দিয়ে ৮ পেয়েছে। ধারণা করতে পারব খাতা নেওয়াটাই কারণ কি না? নাকি আসলেই কম পেয়েছে। তারা কম পাওয়ার মত ছাত্র না।”

 

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষার মান কমছে না, বাড়ছে। তবে আমরা যে মানে পৌঁছতে চাই, সেটা হয়ত হচ্ছে না। শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা সারা জগতের চ্যালেঞ্জ। সকল শ্রেণির বইয়ের মান বাড়ানোর জন্য  কাজ করছি।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বইগুলোর মান উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে পাঠ্যপুস্তকের মানের দৃশ্যমান অগ্রগতি হল। এগুলোর উপস্থাপনা সুন্দর ও বইগুলো সুখপাঠ্য হবে। শিক্ষার্থীরা পড়ে নিজেরাই বুঝতে পারবে

 

তিনি বলেন, প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার ফলে বিরাট উৎসাহ সৃষ্টি করছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলমুখী করছে। এখন সকল শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। যদিও ঝরে পড়া এখনও চ্যালেঞ্জ।



আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?