শনিবার, ১৯ অক্টোবর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯, ০২:০৯:৪৩

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বিড়ম্বনা!

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বিড়ম্বনা!

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। এ স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এসব শিক্ষার্থীদের নানামুখি বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। কারণ প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা অনেক কম। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান করে নিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়।

এ যুদ্ধে জয়ী হতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয় শিক্ষার্থীদের। আর এতে তাদের ভোগান্তির পাশাপাশি যথেষ্ট খরচ হয়। যার সামর্থ্য অনেক শিক্ষার্থীর-ই নেই। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে ১৭ জুলাই (বুধবার)। আর এ ফলাফলে সারাদেশে পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৬জন। এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১০টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।


বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যমতে, দেশে মোট ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আর এতে মোট আসন আছে (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) ৪৮ হাজার ৩৪৩ টি। অথচ চলতি বছর এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। কাজেই উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। এসব শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে তাদেরকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোন কলেজে পড়তে হবে। আর এ সুযোগও সবাই পাবেন না। কেননা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯৩০ টি। উচ্চমাধ্যমিক পাস করা এসব শিক্ষার্থীদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের পক্ষে এর ব্যয় সঙ্কুলান করা সম্ভব হয় না। কাজেই তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া।

আর এ স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এসব শিক্ষার্থীদের পথে পথে নানা বেগ পেতে হয়। একদিকে, শিক্ষার্থী অনুপাতে আসন সংখ্যা কম থাকায় শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পদ্ধতি ভিন্ন এবং তা পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নানামুখি দুর্ভোগ-বিড়ম্বনা, ভোগান্তি ও মানসিক চাপের শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খাপছাড়া নিয়ম-নীতির কারণে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হয়। ভর্তির আবেদন অনলাইনে করা হলেও এ বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের ওপর বিপুল ফি ধার্য করে। প্রায় প্রতি বছরই যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বাড়ানো হয় ভর্তি ফরমের দাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে আবেদন ফি ৩৫০ টাকা থাকলেও এবার তা ৪৫০ টাকা করা হয়েছে ৷ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ইউনিটে গত বছরের চেয়ে আবেদন ফি ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েও বেড়েছে আবেদনপত্র ফি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।


ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী আশিক ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিটে আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাকে প্রতিটি ইউনিটের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে তার ভর্তির নিশ্চয়তার জন্য একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিটে আবেদন করতে হয়। প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে তাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। ফলে শুধু আবেদন ফরম বাবদ তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গুণতে হয়। নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ অর্থ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়। তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদন ফি বাড়িয়ে দেয়।

ভর্তির আবেদন ফি বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় লিখিত অংশ থাকায় ভর্তি ফি ‘সামান্য’ বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নিয়েও সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। আর এতে ভোগান্তিতে পড়েন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। এবার সেই ভোগান্তিতে পড়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ও গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরপ্রবি) ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ আগামী ২ নভেম্বর একই দিনে নির্ধারণ করায় বিপাকে পড়েছেন তারা। শুধু এই ঘটনাই নয়, সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ একই দিন পড়ে যায়, যাতে ভুক্তভোগী হচ্ছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।


ঢাকার ফার্মগেইটে ভর্তি কোচিং করছেন মাহমুদুল হাসান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমনিতে শিক্ষার্থী অনুপাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন কম। তার উপর আবার দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই দিন একই সময়ে পরীক্ষা, এটা মেনে নেয়া যায় না। এতে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়ার আশা জলাঞ্জলি দিতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ‍সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী নিশাদুর রহমান শাকিল বলেন, ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আমাদেরকে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছোটাছুটি করতে হয়। এতে আমরা আর্থিকসহ নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। যোগ্যতা ও স্বপ্ন থাকলেও আমাদের অনেকে ভৌগোলিক দূরত্বসহ আর্থিক কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। মেডিকেল পরীক্ষার মতো সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে আমি মনে করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ফি, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া প্রভৃতির কারণে প্রচুর টাকা-পয়সা লাগে। ফলে গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের এক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় সমন্বয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের আজকে দেশের এক প্রান্তে, কালকে আরেক প্রান্তে যেতে হচ্ছে। আর এতে অনেক শিক্ষার্থী চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। ফলে তারা পরীক্ষায় নিজেদের মেধা বিকশিত করতে পারছেন না। সমন্বিত পরীক্ষা নেয়া হলে এসব সমস্যা আর থাকবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাবির আরেক শিক্ষক বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসহযোগিতার কারণে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার পেছনে রয়েছে মূলত শিক্ষকদের আর্থিক স্বার্থ। মেডিকেলের ন্যায় সমন্বিতভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষকদের বাড়তি আয়ের এ পথ বন্ধ হয়ে যাবে, এ আশঙ্কায় কেউ অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা চালুর পক্ষে মত দিচ্ছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিড়ম্বনার বিষয়ে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে যথেষ্ট ভোগান্তি রয়েছে এটা সত্য। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান বের করা উচিত।

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?