শনিবার, ০৬ জুন ,২০২০

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০৪ মে, ২০২০, ০৯:৪৪:৫৫

করোনায় বেতন পাচ্ছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা

করোনায় বেতন পাচ্ছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা

ঢাকা : মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের সঙ্কটকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও ভর বন্ধ থাকায় বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালেয়ে বেতনের ৫০ শতাংশ কেটে বাকি অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। বিকল্প আয়ের অন্য কোনো সংস্থান না থাকায় অনেক শিক্ষক-কর্মচারী পড়েছেন বিপাকে।

পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। দেশের এ সঙ্কটময় মুহূর্তে শিক্ষক-কর্মচারীরা হুমকির মুখে পরে গেছেন। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ইর্স্টান ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলকে মার্চ মাসের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেতন পরিশোধ করা হলেও এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্টাফদের মার্চের বেতনের ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে টিউশন ফি, ভর্তি ফি ও পরীক্ষার ফি না পাওয়ায় বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন জানান, দেশের এই ক্রান্তিকালে গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়তো আর্থিক সামর্থ্য বা সচ্ছলতা আছে, তারা হয়তো বেতন দিতে পারে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনভাতা দেয়ার আর্থিক সচ্ছলতা নেই। বিশেষ করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যাদের প্রতিষ্ঠার কেবল কয়েক বছর হয়েছে, এসব বিশ্ববিদ্যালয় খুবই সঙ্কটে রয়েছে। এ ছাড়াও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসিক বাড়িভাড়াও দিতে সমস্যা হচ্ছে। তাই অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসের পুরো বেতন দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে বেতন কাটার কথা যেটা বলা হচ্ছে, এটা সঠিক নয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই বর্তমান সঙ্কটের এ সময়টাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিরত সবার সাথে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যতটুকু বেতন দেয়া সম্ভব, সেটি সমন্বয় করে চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইউজিসি’র পরিচালক ড. মো: ফখরুল ইসলাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনভাতা না দেয়ার বিষয়ে আসা অভিযোগের বিষয়ে জানান, আমাদের কাছে যে রিপোর্ট আছে তাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা না দেয়ার অবস্থায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। কমপক্ষে আগামী এক বছর শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা দেয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়েরই আছে। দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে কেন তারা বেতনভাতা আটকে দিচ্ছেন এটা বোধগম্য নয়। কেননা ইউজিসি’র কাছে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক যে বিবরণী জমা রয়েছে সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানকেই দুর্বল মনে করার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও আমরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকপক্ষ ও পরিচালনা পরিষদের সাথে আলোচনা করছি। ইউজিসি আইনের মধ্যে থেকে অবশ্যই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষক-কর্মকর্তা বা কর্মচারীর এক মাসের বেতনও কর্তন বা বকেয়া না রাখে।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির নেতারা আইন না বুঝেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে আপনি কি একমত?