সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭, ১০:৫৪:৩৬

চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা দুর্বল করতে মায়ানমারে গোলযোগে উস্কানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা দুর্বল করতে মায়ানমারে গোলযোগে উস্কানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

ঢাকা: চীনের জন্য কৌশলগতভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মায়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত-রাখাইন রাজ্য বারবার সামাজিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ব্যাংকক-ভিত্তিক ভূতাত্ত্বিক গবেষক ও লেখক এন্থনি কার্টালুচ্চি এমনটাই মনে করেন। তিনি স্পুটনিককে বলেন, ‘এই সহিংসতার উদ্দেশ্য হলো চীনের প্রকল্পগুলোকে ব্যাহত করা। পরিস্থিতি যতই খারাপ হবে, সেখানে পশ্চিমা সংস্থাগুলো এমনকি পশ্চিমা সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতির সম্ভাবনা তত বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা আসলে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সরাসরি চীন সীমান্তে এবং বেইজিংয়ের উচ্চাভিলাষী ‘এক অঞ্চল ও এক সড়ক’ প্রকল্পের ঠিক মাঝাখানে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।’

চীনের টুইন পাইপলাইন প্রকল্প

২০০৪ সালে, রাখাইন রাজ্যের প্রান্তে প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে তা দ্রুত চীনের মনোযোগ আকর্ষণ করে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই হাইড্রোকার্বন চীনে নিয়ে যেতে ২০০৮ সালে নাইপেদোর সঙ্গে চুক্তি সই করে বেইজিং। চীন একই সময়ে, মালাক্কা প্রণালীকে পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানির জন্য আরেকটি রুট তৈরির প্রচেষ্টা শুরু করে। এর পেছনে যুক্তিটি সহজ: স্থলপথ ব্যবহার করা হলে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে।

২০১৫ সালে ‘ছায়া সিআইএ’ হিসাবে পরিচিত ‘স্ট্রাটফর’-এর এক রিপোর্টে বলা হয়, বেইজিং ট্রানজিট পথে বৈচিত্র আনতে চায়। এর ফলে কোনো বাহ্যিক অর্থনৈতিক বিঘ্ন সৃষ্টি হলে চীনের ঝুঁকি কমে আসবে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, ২০১৩ সালে চীনের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ মালাক্কা প্রণালী পথে পরিবাহিত হয়েছে।

স্ট্রাটফর বলছে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দ্বারা সুরক্ষিত মালাক্কা প্রণালীর মত একটি সরু সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করা চীনের জন্য অস্বস্তিকর। চীনের এই ভৌগলিক দুর্বলতা মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাবিদদের অজানা নয়। … যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে গেলে এই জ্বালানি সরবারাহ পথ আটকে দেয়ার পক্ষে অনেক মার্কিন কৌশলবিদ।’

২০১৪ সালে চীনের প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনটি পুরোপুরি চালু হলেও তেল পরিবহনের টুইন পাইপলাইন ২০১৭ সালের এপ্রিলের আগে চালু করা যায়নি।

চীন-বার্মা সম্পর্কের বিপদ

এই বিলম্বের অনেক কারণের মধ্যে মায়ানমারের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে দায়ী করা যেতে পারে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি’ (এনএলডি) দেশটির নির্বাচনে ব্যাপক বিজয় অর্জন করে এবং অং সান সুচি অবিসংবিদিত নেতা হিসেবে স্টেট কাউন্সিলরের পদ গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মার্শাল ফান্ডের ট্রান্সআটলান্টিক ফেলো ধ্রুব জয়শঙ্কর ২০১৫ সালে ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনে লিখেছিলেন, ‘অং সান সুচি ও এনএলডি’র সমর্থন চীনের দিকে আনতে বেইজিংয়ের বেপরোয়া প্রচেষ্টা ইঙ্গিত দেয় যে, মায়ানমারে বেইজিংয়ের প্রভাব কতটা হ্রাস পেয়েছে।’

তবে দুই বছর পর ২০১৭ সালের ১২ আগস্ট টোকিও-ভিত্তিক দি ডিপ্লোম্যাট মাগাজিন লিখে, ‘চীন-মায়ানমার সম্পর্কে কয়েক বছর উত্থান-পতনের পর শেষ পর্যন্ত এনএলডি সরকারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পেরেছে বেইজিং।’

ম্যাগাজিনে অমর থিহা লিখেন, ‘নাইপেদো’র প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক, যুক্তরাষ্ট্রের পিছুটান এবং অর্থনৈতিক মন্দার সুযোগে বেইজিংয়ের বিপুল অর্থ ব্যয় মায়ানমার সরকারের সঙ্গে তাদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়।’

মায়ানমারের হাইড্রোকার্বন, চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকট

চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের সাথে মায়ানমারের কিউকফিয়ু বন্দরকে যুক্ত করে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইন চালু করার পরপরই ২০১৭ সালের আগস্টে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা সঙ্কটের যোগসূত্র থাকতে পারে। এমনকি এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

কার্টালুচ্চি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট প্রাথমিকভাবে রাখাইন রাজ্যেই বিস্তৃত হচ্ছে, যেখানে চীনের একটি কৌশলগত বন্দরের অবস্থান। আর সেখানে তেল পাইপলাইনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সহিংসতা অং সান সুচি’র জাতীয়তাবাদী ‘সন্ন্যাসী’ সমর্থকদের দ্বারা সংঘটিত। এরা ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘সেফরন’ আন্দোলনে অংশ নেয়।’

অন্যদিকে, ২০১১-১২ সালেও চীন-মায়ানমার জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে কাকতালীয়ভাবে রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১২০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

ভূ-রাজনৈতিক গবেষক ইঙ্গিত করেন যে, এই সকল জাতীয়তাবাদী ‘সন্ন্যাসীরা’ রাখাইন রাজ্য ছাড়াও মায়ানমারের অন্যান্য স্থানে বারবার চীনা অবকাঠামো প্রকল্প এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের সরাসরি প্রতিবাদ এবং মৌখিকভাব আক্রমণ করেছে।

কার্টালুচ্চির জানান, এই বিক্ষোভ এবং আন্দোলনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলে পরিচালিত। তাদের তহবিলপুষ্ট এনজিওগুলো সবসময় এসব আন্দোলনকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। এছাড়া মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ‘পরিবেশগত’ উদ্বেগের দোহাই দিয়ে মায়ানমারের ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে তৎপর।

 

আজকের প্রশ্ন

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিএনপির নেতারা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?